শিরোনাম:
পাইকগাছা, শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ১৩ অগ্রহায়ন ১৪২৮
SW News24
বুধবার ● ২৪ নভেম্বর ২০২১
প্রথম পাতা » অপরাধ » পাইকগাছায় শাহিনের ইটভাটায় বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত না পাওয়ার আশঙ্কা
প্রথম পাতা » অপরাধ » পাইকগাছায় শাহিনের ইটভাটায় বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত না পাওয়ার আশঙ্কা
৩৫ বার পঠিত
বুধবার ● ২৪ নভেম্বর ২০২১
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

পাইকগাছায় শাহিনের ইটভাটায় বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত না পাওয়ার আশঙ্কা

পাইকগাছা ---প্রতিনিধিঃপাইকগাছায় এনএসবি ব্রিকস্ এর মালিক শাহিনের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বাখের-আছাদুল গং ভাটা দখল করে পরিচালনা করায় দুইশতাধিক বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত না পাওয়া আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভাটা মালিক শাহিন প্রায় ৩ কোটি টাকা ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়লে পাওনাদারদের চাপে এলাকা ছাড়া হয়েছে। এ ঘটনায় বাকী পাওনাদাররা শাহিনকে না পেয়ে তার স্ত্রীকে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করায় শাহিনের স্ত্রী সোনালী বেগম ভাটা নিয়ে সুষ্ঠ সমাধানের জন্য পাইকগাছা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাকের-আছাদুল সহ ৬জনের নামে অভিযোগ করেন। ফৌ: কা:বি:১৪৪ ধারা মোতাবেক ২২০/২১ মামলায় উভয় পক্ষকে দখলভিত্তিক স্থিতিবস্থা বজায় রাখার আদালতের নির্দেশ বিবাদীগণ না মেনে ভাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে সোনালী জানিয়েছে।---

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, পাইকগাছা উপজেলার পুরাইকাটীতে শাহিনুর রহমানের এনএসবি ব্রিকস নামে একটি ইট ভাটা রয়েছে। ভাটা পরিচালনা করতে গিয়ে কয়েক বছরে তিনি প্রায় ৩ কোটি টাকার ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়ে। ২০২০ সালে শাহিন ভাটা পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়ে বিনিয়োগকারীদের ভাটা পরিচালনার দায়িত্ব দেন। দুইটি পক্ষ পৃথক ভাবে ভাটা পরিচালনা করতে থাকায় জটিলতা দেখা দিতে থাকে। তখন থেকে ভাটা জবর দখলের পায়তারা চলতে থাকে। এর আগেই শাহিন সৈয়দ মিনারের নিকট ভাটার স্থাপনাসহ সকল সরঞ্জম ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। এর মধ্যে বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ায় বিষয়ে শাহিনের সঙ্গে একটি সমজতা হওয়ায় মিনারের কাছ থেকে ভাটার দায়িত্ব দিয়ে শাহিন ভাটা পরিচালনা করতে থাকে। তবে মাঝ পথে এসে শাহিন ভাটা চালাতে ব্যর্থ হয়ে আবারও গা ঢাকা দেয়। এতে বাকী পাওনাদাররা টাকা ফেরত না পেলে পথে বসার উপক্রম হয়।

আরও জানা গেছে শাহিন বাখের বাদে বিবাদীগণের নিকট থেকে টাকা ধার স্বরুপ গ্রহণ করে ভাটার মৌসুমে ইট দিয়ে তাহাদের টাকা পরিশোধ করে দিবে। শাহিন ইটভাটায় লোকসান হওয়ায় সময়মত তাদের টাকা পরিশোধ করতে পারে নায়। এ কারণে বিবাদীগণের সহিত শাহিনের নতুন চুক্তি করে পুনরায় বিবাদীগণ ভাটা পরিচালনার জন্য ৩০ লক্ষ টাকা প্রদান করিবে। শাহিন বিবাদীগণদেরকে জামানত স্বরুপ ইটভাটার ৬ (ছয়) বিঘা জমি তাহাদের নামে বায়নাপত্র করে দেয়। বিবাদীগণদেরকে উক্ত টাকা ফেরত দিলে তারা বায়নাপত্র ফেরত দিবে মর্মে চুক্তি থাকে। কিন্তু শাহিন বিবাদীগণদেরকে বায়নাপত্র করে দেওয়ার পর বিবাদীগণ উক্ত ৩০ লক্ষ টাকা না দিয়ে বিভিন্ন তালবাহানা করতে থাকে। বর্তমানে বাখের, আছাদুল গং উক্ত সম্পত্তি জবর দখল করে ভাটা পরিচালনা করছে।  উক্ত সম্পত্তি নিয়া পাইকগাছা নির্বাহী আদালতে ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও অবৈধ ভাবে ভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শাহিনের স্ত্রী সোনালী এ বিষয় ভাটায় গিয়ে বাখেরের সাথে ভাটার বিষয় কথা বলতে চাইলে তাকে বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারধর করিতে উদ্যোত হয়। এদিকে ভাটার স্থাপনা ক্রয়সূত্রে মালিক সৈয়দ মিনার জানান, বাখের নামে এক ব্যক্তি আছাদুল গংদের সহযোগীতায় ভাটার কার্যক্রম শুরু করেছে। আমি ভাটা সংক্রান্ত বিষয় তাদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা বিভিন্ন তালবাহানা করে ভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভাটার দখল নিয়ে অব্যহত ষড়যন্ত্র চলমান থাকায় ভাটায় বিনিয়োগকারী ব্যক্তিদের প্রায় ৩ কোটি টাকা ফেরত না পাওয়ায় আশঙ্খায় ভুগছে।

এমতাবস্থায় ভাটা মালিকের স্ত্রী সোনালী ভাটা সংক্রান্ত বিষয় সুষ্ঠ সমাধান করে দুইশতাধিক পাওনাদারদের বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরত দিতে পারে তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।



আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)