শিরোনাম:
পাইকগাছা, সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
SW News24
শনিবার ● ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২২
প্রথম পাতা » চিত্রবিচিত্র » ৫ ভাইয়ের শ্রাদ্ধে শিশুরা, কাঁদলেন মায়েরাঃ
প্রথম পাতা » চিত্রবিচিত্র » ৫ ভাইয়ের শ্রাদ্ধে শিশুরা, কাঁদলেন মায়েরাঃ
৭৭ বার পঠিত
শনিবার ● ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২২
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

৫ ভাইয়ের শ্রাদ্ধে শিশুরা, কাঁদলেন মায়েরাঃ

এস ডব্লিউ;--- ভোর থেকে উপোস শিশু অর্ক, আয়ুষ্মান, অভি। ছোট্ট তিন শিশু একসাথে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাবার পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য। ছোট এই তিন শিশুকে পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পাদনে সহযোগিতা দিচ্ছেন সদ্য স্বামীহারা মায়েরা। এমন দৃশ্য দেখে উপস্থিত কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি।

 

গতকাল শুক্রবার কক্সবাজারের চকরিয়ার মালুমঘাটের হাসিনাপাড়ার প্রয়াত সুরেশ চন্দ্র শীলের পাঁচ ছেলের শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে এমন হৃদয় বিদারক দৃশ্যর সবাইকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এমন দৃশে স্বজনরা ডুকরে কেঁদে ওঠেন। ৮ ফেব্রুয়ারি বাবার শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা সারতে গিয়ে এলাকার মহাসড়কে পিকআপের চাপায় পাঁচ ভাই নিহত হন।

 

সুরেশের নিহত পাঁচ সন্তান হলেন অনুপম শীল, নিরূপম শীল, দীপক শীল, চম্পক শীল ও স্মরণ শীল। অর্কের বাবা অনুপম, মা পপি শীল। আয়ুষ্মানের বাবা দীপক, মা পূজা শীল। অভির বাবা স্মরণ, মা কৃষ্ণা শীল। চম্পকের স্ত্রী দেবীকা শীলের দুই সন্তান। নিরূপমের স্ত্রী গীতা শীলের সন্তান নেই।

 

গত ৩০ জানুয়ারি মারা যান সুরেশ চন্দ্র শীল। তাঁর ছোট ভাই চিত্তরঞ্জন শীল গণমাধ্যমকে জানান, তাঁর বড় ভাইয়ের মৃত্যুর ১০ দিনের মাথায় ৮ ফেব্রুয়ারি বাড়ির কাছে মহাসড়কের পাশে দাঁড়ানো অবস্থায় পিকআপচাপায় একসঙ্গে নিহত হন তাঁর পাঁচ ভাইপো অনুপম শীল, নিরূপম শীল, দীপক শীল, চম্পক শীল ও স্মরণ শীল। ওই সময় গুরুতর আহত হন আরেক ভাইপো রক্তিম শীল। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম জেনালের হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন। আর রক্তিমের দুই বোনের মধ্যে হীরা শীলের এক পা কেটে ফেলা হয়েছে। তিনি স্থানীয় মালুমঘাট মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার ভয়াবহতা দেখে সহ্য করতে না পেরে রক্তিমের আরেক ভাই প্লাবন শীল ব্রেন স্ট্রোক করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আরেক বোন মুন্নি শীল সুস্থ আছেন।

 

নিহত পাঁচ ভাইয়ের মা মৃণালিনী শীল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের মৃত্যু, অপর সন্তানেরও প্রাণ যায় যায় অবস্থায়। আরেক সন্তান ব্রেন স্ট্রোক করল, মেয়ে হীরার পা কেটে ফেলায় পঙ্গু হলে গেল। এতে আটটি পরিবার ধ্বংস হয়ে গেল। আমার পরিবারে আয় করার মতো আর কেউ থাকল না। এই অবস্থায় সংসার চালানো যেখানে কঠিন, সেখাকে তাদের চিকিৎসা ব্যয় মিটবে কিভাবে? এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের প্রতি সুদৃষ্টি দেবেন, সেই আশায় আছি।’ নিহত স্মরণ শীলের স্ত্রী কৃষ্ণা শীল বলেন, ‘সন্তানদের কী হবে? তাদের লালন-পালন কিভাবে করব আমরা।



আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)