শিরোনাম:
পাইকগাছা, মঙ্গলবার, ৫ জুলাই ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯
SW News24
শনিবার ● ১৯ মার্চ ২০২২
প্রথম পাতা » সাহিত্য » বিশ্ব কবিতা দিবস
প্রথম পাতা » সাহিত্য » বিশ্ব কবিতা দিবস
১১৩ বার পঠিত
শনিবার ● ১৯ মার্চ ২০২২
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বিশ্ব কবিতা দিবস

প্রকাশ ঘোষ বিধান=---

২১ মার্চ বিশ্ব কবিতা দিবস। ১৯৯৯ সালে ২১ মার্চকে বিশ্ব কবিতা দিবস হিসাবে ঘোষনা করে ইউনেস্কো। ১৯৯০ সালে আমেরিকা থেকে বিশ্ব কবিতা দিবস ঘোষনার দাবী জানানো হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো প্যারিসে অনুষ্ঠিত ৩০তম বৈঠকে ২১ মার্চকে কবিতা দিবস ঘোষনা করে। এই দিনটি বিশ্বের আনাছে কানাছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কবি ও কবিতা পাঠকদের দিন। এই দিবস পালনের উদ্দেশ্য হলো বিশ্বব্যাপী কবিতা পাঠ, রচনা, প্রকাশনা ও শিক্ষাকে উৎসাহিত করা। ইউনেস্কোর অধিবেশনে এই দিবস ঘোষনা করার সময় বলা হয়েছিল এই দিবস বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও আর্ন্তজাতিক কবিতা আন্দোলনগুলোকে নতুন করে স্বীকৃতি দান করবে। এ উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে বিশ্ব কবিতা দিবস।

বাংলাদেশও কবিতা ও সাহিত্যের বিভিন্ন সংগঠন নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করছে। পূর্বে অক্টোবর মাসে বিশ্ব কবিতা দিবন পালন করা হতো। প্রথমে ৫ অক্টোবর এবং বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে রোমান মহাকাব্য রচয়িতা ও সম্রাট অগস্টাসের রাজকবি ভার্জিলের জন্মদিন স্মরনে ১৫ অক্টোবর এই দিবস পালন করা হত। অনেক দেশে আজও অক্টোবর মাসে কোন দিন জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কবিতা দিবস পালন করা হয়। এই দিবসের বিকল্প হিসাবে অক্টোবর অথবা নভেম্বর মাসে কোন দিন কবিতা দিবস পালনেরও প্রথা আছে।

সাহিত্যের প্রাচীনতম একটি শাখা হচ্ছে কবিতা। মানব মনের অনবদ্য ধ্যান ও মননের বহিঃপ্রকাশই কবিতা। ভাবনার অনুসরন থেকে বেড়ে উঠা পঙ্গক্তিমালাই কবিতা। কবিতা ভাব প্রকাশের ভাষা, প্রগাড় বোধের নান্দনিক প্রতিচ্ছবি। কবিতা প্রতিবাদের ভাষা, অধিকারের ভাষা। কবিতা হচ্ছে শব্দগুলোর সুগভীর গাঁথনি হৃদয়ের অনবদ্য সুখানুভূতি, কবিতা কালের সাথী, সমকালের মুখপত্র, কখনও দন্ধ হৃদয়ের আর্তনাদ। বিশ্লেষকদের মতে, কবিতা প্রতি মুহুর্তের আচারনে- আবরনে, আহবানে নিজের অস্তিত্ব তথা বোধজাত উপলব্ধি ঠিক রেখে নিজেকে ভাঙ্গে আর গড়ে। মনের ভাবনায় গুটি কয়েক শব্দ মনের মধ্যে আকুলি বিকুলি করে সৃষ্টি করে কবিতা। কবিতা নিয়ে হাজারো প্রশ্ন আছে। সাহিত্যের প্রাচীনতম শাখা কবিতা। তবুও আজ পর্যন্ত কবিতার সুনির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা পাওয়া যায় নাই। কবিতার সংজ্ঞা কবিতায় বিদ্যমান। কবিতার সংজ্ঞা হয় না। কবিতা হল শব্দ তুলিতে আঁকা গভীর হৃদয়ানুভূতি ও প্রগাড় বোধের নান্দনিক ছবি। ইচ্ছের লালন থেকে গড়ে ওঠা সবই কবিতা, কবিতা হৃদয়ের শাব্দিক ঝংকার, কবিতা ভালোবাসার ভাষা, কবিতা প্রতিবাদের ভাষা, অজ¯্র শব্দার্থ রাত্রির নৈশব্দতাকে ভেঙ্গে খান খান করে দেয় কবিতা। ভালোবাসা ও শুদ্ধতার জন্য কবিতা। কবিতা মানুষের কথা বলে, কবিতা জীবনের কথা বলে,  প্রকৃতির কথা বলে কবিতা। সামাজিক মূল্যবোধে, অধিকার, নৈতিকতা, বৈষম্য, শোষন, বঞ্চনা, অধিকার, আদর্শ, চলমান ঘটনা নিয়ে কবিতা কথা বলে। মানবিক বিবেক জাগ্রত করে এগিয়ে যাওয়ার আশা যোগায় কবিতা। বার্ণাড়শ কবিতার গুরুত্ব বুঝতে গিয়ে বলেছিলেন, “মানুষ যা কথায় প্রকাশ করতে পারে না, তা প্রকাশ করে গানে, আর গানেও যার প্রকাশ সম্ভব নয় তা প্রকাশ করে কবিতায়”।

আজকের সমাজে কবিতার গুরুত্ব কতটুকু এ নিয়ে হয়তো বিতর্ক করা যায়। তবে কবিতা আমাদের, হৃদয়ের সুকুমার বৃত্তিকে পালন করে। কবিতা আমাদের চেতনাকে জাগ্রত করে, তা অত্যন্ত তাৎপর্য পূর্ণ। কবিতা আলোর পথ দেখায়, কবিতা অনেক ক্ষেত্রেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বড় হাতিয়ার হিসাবে কাজ করে। বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতা কবিতার মাধ্যমে তাদের ঐতিহ্য, চিন্তা ভাবনা, লোকাচার ইত্যাদি প্রজন্মন্তরে প্রচার করে গেছে। কারণ কবিতা সবাই রচনা করতে পারুক আর নাই পারুক এর ভাষা, ছন্দ, ভাব সকল মানুষকে চিরকালই প্রভাবিত করেছে। একটা সময় শুধু শুনে শুনে মানুষ মনে রেখেছে কবিতা। ছড়া, পদ্য, বর্ণ-ভাষা-জাতি নির্বিশেষে সমগ্র বিশ্বেই কবিতা এক ঐতিহ্যশালী স্থান দখল করে আছে। পৃথিবীর পাচ শতাধিক ভাষায় প্রতি দিন কবিতা লেখা হচ্ছে। মানুষ জাতির আদিমতম ও আধুনিকতম শিল্প হচ্ছে কবিতা। ইউনেস্কো যখন বিশ্ব কবিতা দিবসের প্রস্তাব দিয়েছিলো তখন কবিতার বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠেছিল। মানুষের ভাবাবেগের প্রকাশ যেমন কবিতা। তেমনই ভাষাবেগের সমব্যাথিও কবিতা। শুধু মানসিক নয়, সামাজিক বিপর্যয়েও যুগ যুগান্তর ধরে রসদ যুগিয়েছে কবিতা। আর সেই কবিতাকে ঘিরেই বহু সময় বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কবিতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কবিকে জেল দেওয়া হয়েছে, কবিকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু কবিতা লেখা থেমে যায়নি। কবিতা লেখা আরো পাঁচগুণ বেড়েছে। কবিতা চর্চা মানুষের জন্য এনে দিতে পারে মনষ্য অস্তিত্বের মূল্যবোধ। কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর “আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি” কবিতায় তিনি বলেছেন জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ কবিতা, কর্ষিত জমির প্রতিটি শষ্যদানা কবিতা। যে কবিতা শুনতে জানে না, সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে। তিনি আরও লিখেছেন, যে কবিতা শুনতে জানে না, যুথভ্রস্ট বিশৃংখলা তাকে বিপর্যস্ত করবে। যে কবিতা শুনতে জানে না, বিভ্রান্ত অবক্ষয় তাকে দৃষ্টিহীন করবে। যে কবিতা তে জানে না, সে আজন্ম হীনমন্য থেকে যাবে। কবিতা শিল্পের একটি শাখা। কবিতা সাংস্কৃতির এক নান্দনিক উপাদান। কবিতা সমাজের অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে অনঢ় উচ্চারণ। কবিতা একটি শক্তি, একটি অনুপ্রেরণা। কবিতা হোক মানবতার মুক্তির সনদ। কবিতার মুক্তবানী দিগন্তে ছড়াবে ডানা। কবিতা ছড়িয়ে যাক সকল হৃদয়ে।

লেখকঃ সাংবাদিক।



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)