শিরোনাম:
পাইকগাছা, শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯
SW News24
রবিবার ● ৩ জুলাই ২০২২
প্রথম পাতা » অর্থনীতি » সাগরে অসহায় দেশি জেলেরা
প্রথম পাতা » অর্থনীতি » সাগরে অসহায় দেশি জেলেরা
৪৩ বার পঠিত
রবিবার ● ৩ জুলাই ২০২২
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

সাগরে অসহায় দেশি জেলেরা

সুমন্ত চক্রবর্ত্তী, খুলনা =---

বিশ্বজুড়ে ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতি। সুনীল অর্থনীতি হচ্ছে সমুদ্রসম্পদনির্ভর অর্থনীতি তথা সমুদ্রের বিশাল জলরাশি ও এর তলদেশের বিভিন্ন প্রকার সম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে যুক্ত করার অর্থনীতি। পৃথিবীর বেড়ে চলা জনগোষ্ঠীর খাদ্যের জোগান দিতে সমুদ্রনির্ভর অর্থনীতি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব বাড়ছে বিশ্বজুড়েই। ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন উপকূলীয় দেশ ও দ্বীপের সরকারগুলো সুনীল অর্থনীতিকে এক নতুন দিগন্ত হিসেবে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে। একইভাবে বাংলাদেশেরও এই সুনীল অর্থনীতিকে কাজে লাগানোর অপার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানোর মতো সক্ষমতা ও যথাযথ উদ্যোগ নেই।

সরকারি-বেসরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যমতে, বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৪৭৫ প্রজাতির মাছ আছে, যার মাত্র ৩৩-৪০ প্রজাতির মাছ বাণ্যিজিকভাবে (কমার্শিয়ালি) ধরা হয়। যার পরিমাণ মাত্র ৬.৭ লাখ টন। অথচ উন্নত প্রযুক্তি ও পদ্ধতি কাজে লাগালে সমুদ্র থেকে প্রায় ৮০ লাখ টন মাছ আহরণ সম্ভব।

এদিকে বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ আহরণকারীদের প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে থাকার সুযোগ নিচ্ছে প্রতিবেশী দেশগুলোর আহরণকারীরা। গভীর সমুদ্রে মৎস্যসম্পদ আহরণে নিজেদের অভিজ্ঞতা   তুলে ধরেছেন উপকূলবর্তী জনপদের বেশ কয়েকজন জেলে। তারা জানিয়েছেন, পাশের দেশ ভারত ও মিয়ানমারের জেলেদের দাপটে টিকে থাকা কষ্টকর। ওই দেশগুলোর আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন নৌযানগুলো বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানায় ঢুকে মাছ আহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে। এসব বহিরাগতের কাছে বাংলাদেশের জেলেরা অসহায় হয়ে পড়েছে। তারা মাছ ধরার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের জন্য দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নেন। কোনো ব্যাংক বা বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) তাদের ঋণ দেয় না। অথচ সরকারি-বেসরকারি সুবিধা পেলে তারাও উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন নৌযান নির্মাণ করতে পারতেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ফিশারিজ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অধিকারে থাকা ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমানায় এরই মধ্যে ৪৫৭ প্রজাতির মাছ ও মাছজাতীয় প্রাণী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মাছ ৩৭৩ প্রজাতির। কিন্তু বর্তমানে মাত্র ৩০ প্রজাতির মাছ সংগ্রহ, বিক্রি ও বিপণন হয়। আহরণযোগ্য বিশাল মৎস্যসম্পদ অধরাই রয়ে যাচ্ছে। ফলে সুনীল অর্থনীতিতে সমৃদ্ধির স্বপ্ন অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিমরাড) গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমানায় ৪৭৫ প্রজাতির মাছ আছে, যার মধ্যে মাত্র ৩৩-৪০ প্রজাতির মাছ বাণ্যিজিকভাবে (কমার্শিয়ালি) ধরা হয়। অথচ সমুদ্র থেকে প্রায় ৮০ লাখ টন মাছ আহরণ সম্ভব।

২০১২ সালে মিয়ানমার এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার টেরিটরিয়াল সমুদ্র এলাকায় নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের। আর এরই মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে সুনীল অর্থনীতির দ্বার উন্মোচিত হয় বাংলাদেশের। ওই রায় অনুযায়ী, ভূমি থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের তলদেশে সব ধরনের প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপরও সার্বভৌম অধিকার বাংলাদেশের।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ফিশারিজ ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, মৎস্য গবেষণা ও জরিপ জাহাজ ‘আর ভি মিন সন্ধানী’ দিয়ে বঙ্গোপসাগরে এ পর্যন্ত ২৫টি সার্ভে ক্রুজ পরিচালনা করে জৈবিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। জরিপের মাধ্যমে মোট ৪৫৭ প্রজাতির মাছ ও মাছজাতীয় প্রাণী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মাছ ৩৭৩ প্রজাতি, হাঙ্গর ও রে ২১ প্রজাতি, চিংড়ি ২৪ প্রজাতি, লবস্টার ৩ প্রজাতি, কাঁকড়া ২১ প্রজাতি, স্কুইলা (মেন্টিস) এক প্রজাতি, স্কুইড ৫ প্রজাতি, অক্টোপাস ৪ প্রজাতি ও কাঁটল ফিশ ৫ প্রজাতির। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রজাতির মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৩০ ধরনের মাছ সংগ্রহ, বিক্রয় ও বিপণন হয়। ফলে আহরণযোগ্য বিশাল মৎস্যসম্পদ অধরা রয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে উৎপাদন ও চাহিদার তথ্য হিসাব করে দেখা গেছে, সামুদ্রিক মৎস্য আহরণের পরিমাণ প্রতি বছর বাড়ছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ৫ লাখ ১৪ হাজার ৬৪৪ টন সামুদ্রিক মাছ আহরণ হয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৫ লাখ ১৭ হাজার ২৮১ টন, ২০১০-১১ অর্থবছরে ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৩ টন এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৬২০ টন সামুদ্রিক মাছ আহরণ হয়েছে। এ ছাড়া ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৯৮৮ টন, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৫ টন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৮৪৬ টন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৬ লাখ ২৬ হাজার ৫২৮ টন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৪৭৬ টন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৬৮৭ টন এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭ লাখ টনের মতো সামুদ্রিক মাছ আহরণ করা হয়। প্রায় ৫০ লাখ জেলে এই মাছ আহরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

গভীর সমুদ্রে মৎস্যসম্পদ আহরণে নিজের অভিজ্ঞতা দেশ রূপান্তরের কাছে তুলে ধরেন খুলনার পাইকগাছার রামনাথপুর জেলে পল্লীর মৎস্যজীবী ভোলানাথ বিশ্বাস (৪৫)। তিনি বলেন, ‘সমুদ্রে প্রচুর অর্থসম্পদ। কিন্তু আমরা তো কিছুই আনতে পারছি না। পাশের দেশ ভারত, মিয়ানমারের জেলেদের দাপটে টিকে থাকা কষ্ট। ওদের এক কোটি, দেড় কোটি টাকা দামের বোট, আধুনিক জাল, মাছ ধরার সরঞ্জামের কাছে আমাদের ৫০টি নৌকা মিলেও টিকতে পারে না।’

আরেক জেলে মাহমুদকাটি জেলে পল্লীর রবীন বিশ্বাস বলেন, ‘একসময় ঘণ্টা দেড়েক নৌকা চালিয়ে চাহিদামতো মাছ পেয়ে যেতাম। এখন সেখানে তিন থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা সময় লাগে। বহিরাগতদের জন্য আমরা অসহায়। ওরা দিনে ২-৩ টন মাছ শিকার করে। সেখানে আমাদের অর্জন ৪-৫ মণ। সবসময় মৃত্যুর ভয়ে থাকতে হয়।’

রামনাথপুরের মৎস্যজীবী পাচু বিশ্বাস জানান, আর্থিক দুরবস্থা ও উন্নত প্রযুক্তির সংকটের মধ্যে দিয়েও তারা সমুদ্রে যান। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের জন্য দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুদে টাকা আনতে হয়। ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বছরে ১৩ লাখ টাকা দিতে হয়। কিন্তু কোনো ব্যাংক বা বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) তাদের ঋণ দেয় না। অথচ সরকারি-বেসরকারি সুবিধা পেলে তারা উন্নত নৌকা বা বোট নির্মাণ করতে পারতেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিমরাড) গবেষণা কর্মকর্তা আফিফাত খানম রিতিকা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৫ লাখ মানুষ সমুদ্র থেকে মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। ২০২০-২১ অর্থবছরে মৎস্য আহরণের প্রায় ৬.৭ লাখ টন সমুদ্র থেকে এসেছে। সাগরে প্রায় ৪৭৫ প্রজাতির মাছ আছে, যার মাত্র ৩৩-৪০ প্রজাতির মাছ বাণ্যিজিকভাবে (কমার্শিয়ালি) ধরা হয়। অথচ সমুদ্র থেকে প্রায় ৮০ লাখ টন মাছ আহরণ সম্ভব। সেখানে ধরা হচ্ছে মাত্র ৬.৭ লাখ টন। একটি বিশাল অংশ মাছ ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। কারণ আমরা প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে রয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সমুদ্রগামী জেলেদের অবহিত করার মতো আমাদের হাতে যথেষ্ট পরিমাণ তথ্য নেই। যে জেলেরা জীবনবাজি রেখে সমুদ্রে যাচ্ছে তাদের সুরক্ষার ব্যাপারেও আমরা যথেষ্ট মনোযোগী না। আমরা যদি এই সেক্টরে আরও বেশি ইনভেস্ট করতে পারি, ধারণা করা যায় যে, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের এখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব। এজন্য জেলেদের প্রশিক্ষণ এবং উন্নত মৎস্য আহরণ প্রযুক্তির প্রচলন অতি জরুরি। সরকারের পাশাপাশি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও গবেষণার দ্বারা সমুদ্রসম্পদ সঠিকভাবে আহরণের পথ বের করতে হবে।’

সমুদ্র অর্থনীতির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে সক্ষমতা অর্জন করার তাগিদ দেন বিমরাডের পরামর্শক ও প্রধান প্রশিক্ষক ক্যাপ্টেন এম শফিকুল আলম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইতিমধ্যে অনেক কাজ হচ্ছে। কিন্তু অন্যান্য সেক্টরের মতো এই সেক্টরে উদ্যোক্তা বা আগ্রহীদের সংখ্যা কম। সমুদ্রে ডাকাত বা বহিরাগতদের ঠেকাতে হলে আমাদের অত্যাধুনিক বোট, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও জিপিএস সিস্টেমসহ উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে। জেলেদের প্রশিক্ষিত করতে হবে। সব স্থানে সব মাছ পাওয়া যায় না, কোথায় কোন মাছ পাওয়া যায়; সে বিষয়ে ধারণা দিতে হবে। সমুদ্রে অনেক মাছ রয়েছে। এই ‘ট্রাস্ট ফি’, যথাযথ ব্যবস্থাপনা করতে হবে।’

ক্যাপ্টেম এম শফিকুল সাগরে নিরাপত্তার বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, র‌্যাব সাগরে নিরাপত্তা বিষয়ে অনেক কাজ করছে। তাদের এ কাজ আরও বাড়াতে হবে। বহিরাগতদের ধরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি আদায় করতে হবে। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। জেলেরা কীভাবে নিরাপত্তাবাহিনীকে খবর দেবেন বা তাদের অবস্থান কোথায় সে বিষয়গুলো সম্পর্কে অভিজ্ঞ করে তুলতে হবে। আমাদের প্রোটিনের ৭০ শতাংশ সমুদ্র থেকে আসে। এটি বন্ধ হয়ে গেলে আমরা মেধাশূন্য হয়ে যাব।’

বিমরাডের এই পরামর্শক সাগর থেকে আহৃত সম্পদ সংরক্ষণে আধুনিকীকরণ, মালিকপক্ষের আন্তরিকতা এবং জেলেদের দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মুক্তি দিতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে উদ্যোগী হতে হবে উল্লেখ করে বলেন, ‘একজন অভিজ্ঞ জেলে দেশের সম্পদ। দুর্যোগ-দুর্বিপাকে তাদের অকাল মৃত্যু বা পঙ্গুত্ব পরিবারকে শেষ করে দেবে। সবকিছু মিলিয়ে অত্যাধুনিক বোট, প্রযুক্তি ব্যবহারকে বাধ্যতামূলক করতে মৎস্য দপ্তর-রপ্তানিকারকদের কঠোর হতে হবে। না হলে অযুত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো কঠিন হবে।’

সুনীল অর্থনীতির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এস এম রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জেলেরা তো লেবার হিসেবে কাজ করে। আমাদের পর্যাপ্ত জাহাজ রয়েছে। সেসব জাহাজ দিয়ে তীর থেকে সমুদ্রের গভীরে মাছ ধরা যায়। এখন আমরা একটি শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে এসেছি, চাইলেই যে কেউ যখন তখন মাছ ধরতে পারবে না। আমরা যে নতুন জায়গাটি লাভ করেছি, এখনো তা পুরোপুরি মৎস্য আহরণের উপযোগী হয়ে ওঠেনি। পর্যায়ক্রমে সেখান থেকে কীভাবে টুনা মাছসহ অন্যান্য মাছ আহরণ করা যায় সেই জন্য আমরা লাইসেন্সও দিচ্ছি। শুধু মাছ নয়, সমুদ্রে যথেষ্ট খনিজসম্পদও রয়েছে। সরকারিভাবে আমরা টুনা মাছ আহরণের জন্য একটি প্রজেক্টও নিয়েছি। আমরা ডেল্টা গভর্নর কাউন্সিল গঠন করেছি। এই কাউন্সিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্ট হচ্ছে কীভাবে সুনীল অর্থনীতিকে বিকশিত করা যায়।’

মৎস্যসম্পদ আহরণ বাড়ানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টি একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তবে এটাও খেয়াল রাখতে হবে, অধিক মৎস্যসম্পদ আহরণ করতে গেলে সমুদ্রে মৎস্যসম্পদের যে ব্যালেন্স রয়েছে সেটা নষ্ট হবে। যেমন শ্রীলঙ্কায় ও ভিয়েতনামে মাছ শেষ হয়ে গেছে। কারণ তারা বেপরোয়াভাবে মাছ ধরেছিল।’

অন্য দেশ থেকে এসে মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা ব্যাপকভাবে কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশ নিয়োগ করেছি। আমরা খুব শিগগির স্যাটেলাইট ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছি। তখন আমাদের সমুদ্রসীমায় ভারত বা মিয়ানমার প্রবেশ করল কিনা সেটা স্কিনে ধরা পড়বে। তখন আমাদের নৌপুলিশ, কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর লোকেরা সম্মিলিতভাবে সেখানে অপারেশন করবে।’

অনুপ্রবেশকারী জেলেদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সাথে ভারতের একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা কাউকে ফাঁসি দিতে পারি না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। আইনগত ব্যবস্থার একটি অংশ হতে পারে বন্দিবিনিময়। অথবা অনেক সময় ওইসব দেশ আমাদের সঙ্গে আন্ডারটেক করে বলে, তাদের দেশে নিয়ে বিচার করবে। অনেক সময় জেলেরা থাকে, তাদের জীবন-মানের কথাও ভাবতে হবে। কোনোভাবেই আমরা আইনকে ছেড়ে দেইনি। বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় আমরা কাজ করছি।’



আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)