শিরোনাম:
পাইকগাছা, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০

SW News24
সোমবার ● ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
প্রথম পাতা » সাহিত্য » ৩৮ বছর ধরে সাহিত্য সাধনায় কবি আশামণি ; প্রকাশিত হয়েছে ১৯টি বই
প্রথম পাতা » সাহিত্য » ৩৮ বছর ধরে সাহিত্য সাধনায় কবি আশামণি ; প্রকাশিত হয়েছে ১৯টি বই
১৮৭ বার পঠিত
সোমবার ● ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

৩৮ বছর ধরে সাহিত্য সাধনায় কবি আশামণি ; প্রকাশিত হয়েছে ১৯টি বই

 

 ফরহাদ খান, নড়াইল ; আশামণি,--- সাম্যের কবি। প্রেম ও প্রকৃতিপ্রেমিক কবি। বেড়ে উঠেছেন নড়াইলের সবুজ-শ্যামল প্রকৃতি আর শান্ত-স্বচ্ছ চিত্রা নদীর পাড়ে। তার জন্মদিনটা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস তথা রক্তরাঙা একুশে ফেব্রুয়ারিতে। লেখালেখি করছেন তিন যুগের বেশি সময় ধরে।


১৯৮৫ সালে কবিতা লেখার মধ্যদিয়ে আশামণির হাতেখড়ি। সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে প্রকাশিত ‘সন্ধান’ পত্রিকায় তার লেখা প্রথম কবিতা ‘আমার সান্নিধ্যে এসো না’ প্রকাশিত হয়। তখন তিনি অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এরপর আর থেমে থাকেননি আশামণি। একে একে লিখেছেন ১৯টি বই। এর মধ্যে আটটি কবিতার বই। উপন্যাস চারটি। প্রবন্ধ ও ছোটগল্প একটি করে। আর সম্পাদিত গ্রন্থ পাঁচটি।

এদিকে, ২০১৯ সালে প্রকাশিত আশামণির ‘বাসনার বহিৃ’ কাব্যগ্রন্থটি এবারের বইমেলাতে প্রকাশিত হয়েছে ইংলিশ ভার্সনে। যার নাম-’The Flame Of  Passion’. বইটি অনুবাদ করেছেন যশোরের কেশবপুরের সন্তান অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক গণেষ চন্দ্র সরকার। আর প্রকাশ করেছে ‘বর্ণধারা’ প্রকাশনী। বইমেলার প্রথম সপ্তাহ থেকেই ‘মনন, বিজয় ও অনুভব প্রকাশনী’র স্টলে বইটি বিক্রি হচ্ছে। ইংরেজিতে অনুদিত কাব্যগ্রন্থটি বইমেলায় বেশ সাড়া ফেলেছে বলে জানান কবি আশামণি। এছাড়া একই প্রকাশনী থেকে নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘নীলরাগ’ বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে। দু’টি বইয়ের প্রচ্ছদ এঁকেছেন শিল্পী অরূপ মান্দী।

ইংরেজিতে অনুদিত ‘বাসনার বহিৃ’ বা ‘The Flame Of  Passion’ কাব্যগ্রন্থটিতে ৩২টি কবিতা স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে প্রেম, প্রকৃতি ও মানবজীনের নানা টানাপড়েন তুলে ধরা হয়েছে। ‘নীলরাগ’ কাব্যগ্রন্থে ৩৪টি কবিতা স্থান পেয়েছে। এখানেও নর-নারীর চিরায়ত প্রেম-বিরহ ও প্রকৃতি বন্দনা করা হয়েছে।  

সাম্যের কবি আশামণি বলেন, আমার প্রকাশিত ১৯টি বইয়ের মধ্যে ‘বাসনার বহিৃ’ কাব্য গ্রন্থটি ইংরেজিতে অনুদিত প্রথম বই। এছাড়া ২০২২ সালে নিউইয়ার্ক বইমেলায় ‘বাসনার বহিৃ’ কাব্যগ্রন্থটিসহ ১২টি বই স্থান পায়। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর এ কে আবদুল মোমেনসহ দেশ-বিদেশের অনেক গুণী মানুষ নিউইয়ার্ক বইমেলায় গিয়ে আমার লেখা কাব্যগ্রন্থ ‘লাম্পট্য’, ‘বাসনার বহিৃ’সহ বইগুলোর বেশ প্রশংসা করেন। বইগুলো তারা কেনেনও। তাদের এ উৎসাহ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। নিউইয়ার্ক বইমেলার পাঠকদের আগ্রহের কথা বিবেচনায় ‘বাসনার বহিৃ’ কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ ‘The Flame Of  Passion’ বইটি প্রকাশিত হয়েছে। আশাকরি আগামিতে আমেরিকায় নিউইয়ার্ক বইমেলায় বিভিন্ন দেশের পাঠকদের চাহিদা পূরণ করতে পারবে ইংরেজি কাব্যগ্রন্থটি। এর আগে ২০১৯ সালে ছয়টি বই নিউইয়ার্ক বইমেলায় পাঠকপ্রিয়তা পায়। পাঠকসহ গুণীজনের ভালোবাসায় এগিয়ে যেতে চাই।

আশামণির জন্ম ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির রাঙা প্রভাতে। নড়াইলের চিত্রা নদীর কোল ষেঘে সবুজ-শ্যামল প্রকৃতির মাঝে দুরন্তপনায় কাটে তার শৈশব। চিত্রা নদীর কাকচক্ষু পানি, শান্ত-স্বচ্ছ ঢেউ আর সবুজ-শ্যামল প্রকৃতি আশামণির সাহিত্য প্রতিভা যেন আরো বেশি ধারালো ও তীক্ষ্ণ করে তোলে। তাই তো শৈশবেই তার সাহিত্য প্রতিভার উন্মেষ ঘটে। ১৪ বছর বয়সেই তার লেখালেখি শুরু। বাবার উৎসাহে আশামণির লেখালেখির আগ্রহ বেড়ে যায় বহুগুণে।

সেইসব স্মৃতিচারণ করে প্রচারবিমুখ ও অন্তমুর্খী কবি আশামণি বলেন, আমরা চার ভাইবোন। আমি সবার বড়। বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান হিসেবে আব্বা আমাকে খুব আদর করতেন। পড়ালেখার পাশাপাশি সাহিত্য লেখায় উৎসাহ দিতেন। আমার বাবা আব্দুস সালাম উজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। বাবা ২০০৯ সালে ইন্তেকাল করেন। মা সৈয়দা মনোয়ারা বেগম গৃহিনী।
 
সাহিত্য সাধনার পাশাপাশি আশামণি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘আশামণি সঙ্গীত নিকেতন’। গান শেখানোর পাশাপাশি শিক্ষকতা করেন শিশুস্কুলে। এছাড়া ‘বঙ্গবন্ধু তরুণ লেখক পরিষদ’ কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব তিনি। ১৯৯১ সালে তিনি বিয়েবন্ধন আবদ্ধ হন। সংসার জীবনে একমাত্র সন্তান আরাফ আরেফীন অর্ঘ্য মিউজিক বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে উচ্চতর শিক্ষার জন্য কলকাতায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।  

আশামণি পুরস্কার হিসেবে দেশের মধ্যে ১৮টি এবং দেশের বাইরে সাতটি সম্মাননা পেয়েছেন। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পূর্বমেদিনীপুরের ‘সংলাপ সাহিত্য পদক’, ‘সংকেত সাহিত্য পত্রিকা পদক’ ‘ললিতকলা মিউজিক অ্যান্ড কলেজ পদক’, ডায়মন্ড হারবার প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে গণসংবর্ধনা, ইউনিভার্সিটি অব কলকাতা সম্মাননা, শ্যামনগরে ‘বাউল ফকির উৎসব পদক’সহ সাতটি পুরস্কার।

এদিকে দেশে পেয়েছেন-কবি সংসদ বাংলাদেশ সম্মাননা, উত্তরবাংলা বিজয় দিবস পদক, ফেরারী প্রকাশন সাহিত্য পদক, মহিয়সী সাহিত্য ও পাঠচক্র পদক, অগ্নিবীণা স্মারক সম্মাননা, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পদক, খন্দকার মকবুল হোসেন সাহিত্য পদক, রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী পদক ছাড়াও নড়াইল, খুলনা, সাতক্ষীরা, মাগুরা ও কুষ্টিয়া লেখক সম্মেলন সম্মাননা পুরস্কার।

এছাড়া বাংলাদেশ, ভারত ও আমেরিকার বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকাসহ গণমাধ্যমে লেখালেখি করছেন আশামণি। আমৃত সাহিত্য সাধনা করে যেতে চান তিনি। মানবজীবন ও সমাজ বাস্তবতার নানান সঙ্গতি-অসঙ্গতি তুলে ধরতে চান তার লেখনীর মাধ্যমে।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)