শিরোনাম:
পাইকগাছা, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১

SW News24
বুধবার ● ২২ মার্চ ২০২৩
প্রথম পাতা » বিবিধ » দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় খাবার পানির সংকট নিরসনে চাই সমন্বিত পরিকল্পনা
প্রথম পাতা » বিবিধ » দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় খাবার পানির সংকট নিরসনে চাই সমন্বিত পরিকল্পনা
১৭৮ বার পঠিত
বুধবার ● ২২ মার্চ ২০২৩
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় খাবার পানির সংকট নিরসনে চাই সমন্বিত পরিকল্পনা

 

পরিতোষ কুমার বৈদ্য;  শ্যামনগর প্রতিনিধি : বিশ্ব পানি দিবস ২০২৩ উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের দক্ষিণ ---পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের দাবী জানিয়ে মানববন্ধন  সমাবেশ করেছে খুলনার বিভিন্ন সংগঠন  শ্রেণী পেশার মানুষ। ২২ মার্চ সকাল ১১ টায় খুলনা পিকচার প্যালেস মোড়ে লিডার্স, ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ, খুলনা জেলা জলবায়ু অধিপরার্শ ফোরামের আয়োজনে মানববন্ধন  সমাবেশে এই দাবী তুলে ধরা হয়। এই দাবীর সাথে সংহতি প্রকাশ করেছেন খুলনার পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ, হিউম্যানিটিওয়াচ, বেলা, ছায়াবৃক্ষ, গতি সহ অন্যান্য সংগঠন।

 

উক্ত মানববন্ধন  সমাবেশ প্রথমে ধারনা পত্র পাঠ করেন মেীসুমী রায়সিডিপির বিভাগীয় সমন্বয়কারী এসএম ইকবাল হোসেন বিপ্লব এর সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামের সহ-সভাপতি  বেলার খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রমান মুকুলবক্তব্য রাখেন রাজনৈতিক সংগঠক মিজানুর রহমান বাবুবাপার খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী এ্যাডবাবুল হাওলাদারফোরামের নির্বাহী সদস্য  মাসাস এর নির্বাহী পরিচালক এ্যাডশামীমা সুলতানা শিলুপরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ এর সদস্য এ্যাডজাহাঙ্গীর হোসেনফোরামের সদস্য  ছায়াবৃক্ষ এর নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম বাদশাফোরামের সদস্য  হিউম্যানিটিওয়াচ এর সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সেলিমলিডার্স এর এ্যাডভোকেসি অফিসার পরিতোষ কুমার বৈদ্যসিডিপির এস এম  রহীমগতির সমন্বয়কারী রেজওয়ান আশরাফ প্রমূখ।

 

বক্তারা বলেনভৌগলিক  মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারনে বাংলাদেশে সুপেয় পানির সংকট অত্যন্ত প্রকট। এই সংকট দক্ষিণ-পশ্চিম উপকুলীয় এলাকায় সবচয়ে বেশী। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পানি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। বাংলাদেশের উপকূলবর্তী ১৯ টি জেলায় প্রায়  কোটি ৯০ লক্ষ মানুষের বসবাস। আধারযোগ্য পানি সংগ্রহ করতে পারে না এদের প্রায়  কোটি মানুষ এবং দেড় কোটি মানুষ ভুগর্ভস্থ লবণাক্ত পানি পানে বাধ্য হচ্ছেন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতে যেখানে পানযোগ্য প্রতি লিটার পানিতে লবণের সহনীয় পরিমান  থেকে  হাজার মিলিগ্রাম সেখানে বাংলাদেশের উপকূলে প্রতিলিটার পানিতে রয়েছে  হাজার থেকে ১০ হাজার মিলিগ্রাম লবণের উপস্থিতি।

 

মানববন্ধন  সমাবেশে বক্তারা আরও বলেননদীভাঙন জনিত বন্যাচিংড়ি চাষভুগর্ভস্থ পানির লবনাক্ততার কারনে গত কয়েক বছরে সুন্দরবন এলাকায় সুপেয় পানির সংকট বেড়েছে। সুন্দরবন উপকুলে ৭৩পরিবার সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত বা খারাপ পানি খেতে বাধ্য হয়। জীবিকা দুর্বলতা সূচক এবং পানি ¤পদ সূচকে সবচেয়ে উপরে রয়েছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা।

 

উপকূলীয় অঞ্চলে গত ৩৫ বছরে লবণাক্ততা পূর্বের তুলনায় ২৬বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যার পরিমান  পিপিটি থেকে বেড়ে  পিপিটি হয়েছে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্র থেকে ভূভাগের অনেক ভিতর পর্যন্ত লোনাপানি ঢুকে পড়েছেফলে লোকজনকে পানি  খাবারের সাথে তুলনামূলক বেশি পরিমাণে লবণ গ্রহণ করতে হচ্ছে। এছাড়া লবাণাক্ততা বৃদ্ধি  অঞ্চলের মানুষকে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতেও ফেলেছে। চিকিৎসাবিদদের মতে  এলাকার বসবাসকারীদের উচ্চ রক্তচাপ রোগে ভোগার সম্ভাবনা বাড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে লবণাক্ততায় আক্রান্ত এলাকায় গর্ভবতী মায়েদের প্রি-একলেম্পশিয়া  উচ্চরক্তচাপের হার .%-৩৯.বেড়েছে। লবণাক্ততার কারনে উপকুলের নারীদের জরায়ু সংক্রমন বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। মাইলের পর মাইল পাড়ি দিয়ে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে নারীকেই। ফলে নষ্ট হচ্ছে নারীর শ্রমঘন্টা। শিশুদের অনিরাপদ অবস্থায় রেখে যেতে হচ্ছে  নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। শিশুদের শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। রোগব্যাধি বাড়ছেসামগ্রিক জীবনের গুণগত মান হ্রাস পাচ্ছে

 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের (বিভাগঅধ্যাপক দিলীপ কুমার দত্তের মতে শুধু সুপেয় পানির অভাবে উপকলের মানুষ এলাকা ছাড়বে। ক্রমবর্ধমান দুর্যোগকর্মসংস্থানের অভাবসুপেয় পানির সংকটকৃষিকাজ সংকুচিত হওয়া প্রভৃতির কারনে উপকুল থেকে অভিবাসন বেড়েছে। ২০০১ থেকে ২০১১ পর্যন্ত সারা দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার .৩৭থাকলেও  সময়ে উপকুলীয় এলাকায় পুরুষের সংখ্যা কমে গেছে। এছাড়াও ২০০১ সালের তুলনায় ২০১১ সালে নারীর সংখ্যা বেড়েছে যা দেশের অন্যান্য এলাকার থেকে ভিন্ন।

 

সারাদেশে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও উপকূলীয় অঞ্চল বরাবরই অবহেলিত। বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত দেশের এই অংশে বসবাসরত মানুষের জীবন মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি সহসাই পরিলক্ষিত হয়। শত প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্বেও কয়েকটি মেগা প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে যেগুলোর বাস্তবায়ন গতি অতীব শ্লোথ।

 

দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল সুরক্ষায় বক্তারা যে সকল দাবী তুলে ধরেনসাতক্ষীরাখুলনা  বাগেরহাট জেলাকে জলবায়ু ঝুঁকিপুর্ণ বা দুর্যোগ ঝুঁকিপুর্ণ এলাকা ঘোষণা করতে হবেদক্ষিণ-পশ্চিম উপকলীয় অঞ্চলকে রক্ষার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা প্রণয়ন  ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবেজলবায়ু ঝুঁকিদারিদ্র্য  বিপদাপন্নতার মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে খুলনাসাতক্ষীরা  বাগেরহাট জেলার অধীন উপক সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলিতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির (বিশেষ করে নগদ  খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিআওতা  পরিধি বাড়াতে হবেউপকলীয় সকল মানুষের খাবার পানির টেকসই  স্থায়ী সমাধান করতে হবেগ্রহণকৃত মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রæ করতে হবেআন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় সাধনে উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠন করতে হবেঝড়-ঝঞ্ঝানদীভাঙ্গন  ভূমিক্ষয় ঠেকাতে উপকূলদ্বীপ  চরাঞ্চলে ব্যাপকহারে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি গ্রহণ এবং প্যারাবন বা সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে হবে  উপকুলের রক্ষাকবচ সুন্দরবন রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)