শুক্রবার ● ২৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রথম পাতা » বিবিধ » ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে মিতব্যয়িতার গুরুত্ব অপরিসীম
ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে মিতব্যয়িতার গুরুত্ব অপরিসীম
মিতব্যয়িতা হলো মানবজীবনের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ এবং সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন পরিচালনার মূল চাবিকাঠি। যা ব্যক্তিকে সংযমী, দূরদর্শী ও স্বাবলম্বী করে তোলে।এটি মানুষকে সংযমী হতে শেখায় এবং অভাব থেকে মুক্ত রাখে। জীবনের সব ক্ষেত্রে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে চলার নামই মিতব্যয়িতা।
মানবজীবনে অর্থ ও সম্পদের ভূমিকা অপরিসীম। তবে সম্পদ থাকলেই তা যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।মিতব্যয়িতা হলো প্রয়োজন অনুসারে মেপেজুখে বা পরিমিতভাবে অর্থ ও সম্পদ ব্যয় করার অভ্যাস। এটি কৃপণতা নয়; বরং আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সঠিক উপায়ে অর্থ ব্যয় করাই হলো প্রকৃত মিতব্যয়িতা।
মিতব্যয়িতা মানবজীবনের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। এর আক্ষরিক অর্থ হলো পরিমিত বা হিসাব করে ব্যয় করা। তবে এর মানে এই নয় যে নিজেকে কষ্ট দিয়ে টাকা জমিয়ে রাখা বা কৃপণতা করা। মানুষের জীবনের চাহিদা সীমাহীন, কিন্তু সম্পদ সীমিত। এই সীমিত সম্পদের সঠিক ও সুপরিকল্পিত ব্যবহারই মানুষের জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করে তোলে। প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ও সুন্দরভাবে অর্থ ও সম্পদের ব্যবহার করাই হলো মিতব্যয়িতা। মিতব্যয়ী মানুষ তার বর্তমানকে সুরক্ষিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবনকেও সুন্দর ও নিরাপদ করতে পারে।
জীবন ধারণের জন্য মানুষের অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু সেই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা বুদ্ধিমানের কাজ। অপরিমিত খরচ মানুষকে ঋণের জালে জড়ায়, আর পরিমিত ব্যয় মানুষকে দেয় স্বস্তি ও সচ্ছলতা। তাই মানবজীবনে মিতব্যয়িতার গুরুত্ব অপরিসীম।
মিতব্যয়িতা এবং কৃপণতার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। কৃপণ ব্যক্তি অর্থের লোভের কারণে নিজের ও পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতেও কার্পণ্য করেন। অন্যদিকে, মিতব্যয়ী ব্যক্তি অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে চলেন, কিন্তু যখন যেখানে যেটুকু খরচ করা দরকার, সেখানে তা সানন্দে ব্যয় করেন। কৃপণতা একটি মানসিক সংকীর্ণতা, আর মিতব্যয়িতা একটি মহৎ চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য।
মিত শব্দের অর্থ পরিমিত বা সীমিত এবং ব্যয় শব্দের অর্থ খরচ করা। সুতরাং শব্দার্থগত দিক থেকে পরিমিত ব্যয় করাকে মিতব্যয়িতা বলে। দৈনন্দিন জীবনে আয়ের সাথে সংগতি রেখে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে অর্থ খরচ করাই হলো মিতব্যয়িতা। অনেকে মিতব্যয়িতাকে কৃপণতা মনে করে ভুল করেন। কিন্তু মিতব্যয়িতা ও কৃপণতা এক জিনিস নয়। কৃপণ ব্যক্তি প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অর্থ খরচ করতে চান না, যা একটি মানসিক সংকীর্ণতা। অন্যদিকে মিতব্যয়ী ব্যক্তি অপচয় বর্জন করেন, কিন্তু নিজের ও পরিবারের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে কার্পণ্য করেন না।
মিতব্যয়ী মানুষ অল্প আয়েও সুন্দরভাবে সংসার চালাতে পারে এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে পারে। বিপদের দিনে এই সঞ্চয় মানুষকে দুশ্চিন্তামুক্ত রাখে। যারা হিসাব করে চলেন, তারা ঋণের বোঝা বা আর্থিক অনটনে পড়েন না। ফলে তাদের মনে থাকে প্রশান্তি। মিতব্যয়িতা মানুষের চরিত্রে সংযম ও শৃঙ্খলার জন্ম দেয়। এটি মানুষকে অপচয় থেকে দূরে রাখে।
ব্যক্তির সমষ্টিতেই জাতি গঠিত হয়। দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি মিতব্যয়ী হন, তবে জাতীয় সম্পদের অপচয় রোধ পায়। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি এবং খাদ্যদ্রব্যের অপচয় কমালে দেশ আর্থিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়। সংকট মুহূর্তে মিতব্যয়ী দেশ ও জনগণ সহজেই ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
সব ধর্মেই অপব্যয়কে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং মধ্যপন্থা বা মিতব্যয়িতাকে মহিমান্বিত করা হয়েছে। অপচয়কারীকে অশুভ শক্তির সহযোগী বলা হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে মিতব্যয়ী মানুষ সবসময় সুখী ও শান্তিতে থাকেন। অন্যদিকে জাতীয় পর্যায়ে দেশের প্রতিটি নাগরিক মিতব্যয়ী হলে রাষ্ট্রের অপচয় রোধ হয়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয় এবং দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠে।
ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে মিতব্যয়িতার গুরুত্ব অপরিসীম। মিতব্যয়ী ব্যক্তি হিসাব করে জীবনযাপন করার ফলে কখনো অন্যের মুখাপেক্ষী বা ঋণের জালে জড়ায় না। মানুষের জীবনে যেকোনো সময় আকস্মিক বিপদ, রোগ-বালাই বা অর্থনৈতিক সংকট আসতে পারে। মিতব্যয়িতার মাধ্যমে অর্জিত সঞ্চয় সেই কঠিন সময়ে সবচেয়ে বড় অবলম্বন হিসেবে কাজ করে। এটি মানুষকে লোভ-লালসা ও অনৈতিক পথে অর্থ উপার্জন করা থেকে বিরত রাখে এবং সৎ জীবনযাপনে সাহায্য করে।
আয়ের বাইরে অতিরিক্ত বিলাসিতা ও অযৌক্তিক আবদার পরিবারের শান্তি নষ্ট করে। মিতব্যয়ী মনোভাব পরিবারে শৃঙ্খলা ও সমঝোতা বজায় রাখে।
অমিতব্যয়িতা বা অপব্যয় মানুষের নৈতিক পতন ঘটায় এবং ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দেয়। তাই সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী জীবন গড়তে শৈশব থেকেই আমাদের মনে মিতব্যয়িতার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে, অল্পে তুষ্ট থাকা এবং বুঝে ব্যয় করাই প্রকৃত বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।






পাইকগাছায় নিরাপদ সড়ক দিবসে নিসচার র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
শ্যামনগরে গ্রামীণ নারী কৃষি মেলা অনুষ্ঠিত
পাইকগাছায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস পাইকগাছায় সুপেয় পানি প্রকল্পের কাজ শুরু
সকল ঘটনার মাঝে সাম্প্রদায়িকতা খোজার ষড়যন্ত্র এদেশে চলতে পারবে না - সংস্কৃতি মন্ত্রী
সুন্দরবনের কেওড়া ফল উপকূলীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা
পাইকগাছায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে সরকারী নীতিমালা অনুসরণে নাজেহাল সরকারী কর্মকর্তারা
পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুতা খুলে প্রবেশের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: সেবার মান উন্নয়নে নতুন ধারা 