রবিবার ● ১৭ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রকৃতি » মাগুরার ১০ গ্রামে চলছে লিচু উৎসব; ৭০ কোটি টাকার লিচু বিক্রির সম্ভাবনা
মাগুরার ১০ গ্রামে চলছে লিচু উৎসব; ৭০ কোটি টাকার লিচু বিক্রির সম্ভাবনা
এস আলম তুহিন,মাগুরা থেকে : এবার আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকায় লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। লিচুর ভরা মৌসুমে মাগুরার ১০ গ্রামের চলছে লিচু সংগ্রহের উৎসব। মাগুরা সদরের হাজীপুর, হাজরাপুর, মির্জাপুর, রাঘবদাইড়,নড়িহাটি,শিবরামপুর,মঘী,আলমখালী,আবালপুর,ইছাখাদা এসব গ্রামে চলছে লিচুর উৎসব। সরজমিন এসব বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি বাগানে লিচু সংগ্রহের জন্য বাগান মালিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মহাজনরা লিচু সংগ্রহের জন্য বাগানে ভিড় করছেন।
লিচুর বাগান মালিকরা জানিয়েছেন, এ বছর আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূল থাকায় মাগুরার প্রতিটি বাগানে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় প্রতিটি লিচু গাছে আশানুরুপ ফল এসেছে। যা মৌসুমের শুরুতেই বাগান মালিকেরা লিচু সংগ্রহ করে বিক্রি করতে সক্ষম হচ্ছেন। বাগান মালিকরা আরো বলেন,এবছর মাগুরায় ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা লিচু বিক্রি হবে। পূর্বের থেকে অনেক বেশি। ইতিমধ্যেই মাগুরার হাজরা পুরি লিচু জি আই পণ্য হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছে। যা মাগুরা বাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের। হাজরাপুরী জাতের এই লিচু আজ মাগুরা চাহিদা মিটিয়ে দেশে-বিদেশে বিক্রি হচ্ছে।
লিচু চাষী জহির উদ্দিন পিয়াল বলেন, চলতি বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। লিচুর প্রতিটি বাগানে এবার অসম্ভব ফল ধরেছে। এক মাসের শেষের দিকে জৈষ্ঠ মাসের শুরুতে লিচু পেকে লাল হতে শুরু করেছে। জৈষ্ট মাসের শুরুতেই তা সংগ্রহ করে বিক্রি করা শুরু করেছেন চাষীরা। অনেক মহাজনরা লিচু বাগানে ভিড় করে লিচু সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন।
কৃষক মনিরুজ্জামান বলেন, আমার ৩ টি লিচু বাগান রয়েছে। প্রতিটি বাগানে লিচু ফুল আসার সাথে সাথে আমি গাছের পরিচর্যা বাড়াই এবং স্প্রে প্রদান করি। গাছের পরিচর্যা ফলেই আমার প্রতিটি গাছেই ভালো ফল এসেছে। ফল যখন আসা শুরু করল তখন আবার আমি গাছে স্প্রে শুরু করলাম। চলতি বছর আমি ২০ লক্ষ টাকা লিচু বিক্রি করে বলে আশা করছি। বিভিন্ন স্থানের মহাজনরা তিন মাস আগেই আমার বাগান ক্রয় করেছে। আমরা কৃষি বিভাগের কাছে দাবি রাখছি লিচু চাষীদের স্প্রে মেশিন সহ নানা ধরনের সহযোগিতা প্রদান করার জন্য।
কৃষি উদ্যোক্তা নারী জেনিস ফারজানা বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নে মাগুরায় লিচুর অনেক ভূমিকা রয়েছে। ইতি মধ্যেই মাগুরার হাজরাপুরি লিচু সরকার জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমানে লিচু চাষীদের জন্য মাগুরায় কোল্ড স্টোরেজ জরুরি হয়ে পড়েছে। লিচু সংরক্ষণ, বিপণনের জন্য সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে লিচু চাষিরা জোর দাবী জানিয়ে আসছেন মাগুরাতে একটি কোল্ড স্টোরের জন্য। তাছাড়া লিচু চাষীদের পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রশিক্ষণের জন্য সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তাজুল ইসলাম বলেন, এবার আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূল থাকায় মাগুরায় লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। বৈশাখের শেষের থেকে জেষ্ট্য মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত লিচুর ভরা মৌসুম। এই সময় মাগুরার প্রতিটি লিচুর বাগানে লিচু সংগ্রহের কাজ চলে। আমরা লিচু চাষীদের উদ্ধুূ্দ্ধ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। মৌসুমের শুরুতেই লিচু চাষীদের পরামর্শ প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে আমরা তাদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।






পাইকগাছায় স্ক্যাব রোগে আক্রান্ত লতা আম দেখতে বাদামি ধুসর বর্ণ; বাজারে চাহিদা নেই
দৃষ্টিনন্দন মে ফ্লাওয়ার বল লিলি
ভেষজগুল্ম কন্টিকারি
পাইকগাছায় তালের রস আহরণের মৌসুম পুরাদমে শুরু
মধুমালতী মানুষ তাকে ভুল নামে চেনে মাধবীলতা
পাইকগাছায় আমের গুটিতে দুলছে চাষীর স্বপ্ন
মাগুরায় অনির্বাণ সেবা সংসদের সভা অনুষ্ঠিত
পাইকগাছায় আমের গুটি ঝরে পড়ায় হতাশ চাষি
কদবেল গাছের হালকা ফিকে লাল বর্ণের সুগন্ধি ফুল 