শিরোনাম:
পাইকগাছা, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২

SW News24
রবিবার ● ৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রকৃতি » মধুমালতী মানুষ তাকে ভুল নামে চেনে মাধবীলতা
প্রথম পাতা » প্রকৃতি » মধুমালতী মানুষ তাকে ভুল নামে চেনে মাধবীলতা
১৬ বার পঠিত
রবিবার ● ৫ এপ্রিল ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

মধুমালতী মানুষ তাকে ভুল নামে চেনে মাধবীলতা

--- প্রকাশ ঘোষ বিধান

গ্রামবাংলার মন মাতানো, মন জোড়ানো ফুলের নাম মাধবীলতা। প্রকৃতি যেন ছদ্মবেশে ধূলি উড়া গোধূলি শেষে যখন সন্ধ্যা নামে, তখনই ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণে সৌরভ ছড়ায়। এতে দারুণ লাগে। আবার কেউ কেউ মুগ্ধ হন। আমিও মুগ্ধ হয়েছি। মনের রঙে মাধবীর ভাব প্রকাশের তুলনা হয় না। পাশাপাশি কবিতা, গল্প, উপন্যাসের প্রেমিক, প্রেমিকা মাধবীলতা নিয়ে কাব্যরসে মনপুড়ে।

দেশের পরিবেশ-প্রকৃতি আর জলবায়ুতে সুদীর্ঘকাল ধরে তার দিব্বি বেড়ে ওঠা। সদ্য ফুটন্ত মোহনীয় শোভায় সে যে কতো অগণিত পথিকদের মুগ্ধ করেছে, কোনো হিসেব নেই তার। এর জন্মস্থানের তালিকায় ভারত ও বাংলাদেশের নাম রয়েছে। তারপরও ফুলটি যেন ভাগ্যবিড়ম্বিত। মানুষ তাকে ভুল নামে চেনে। ভুল নামে বলাবলি করে। ভুল নামেই বেশী পরিচিত।  ফুলের এ দুঃখটি তার আজন্মলালিত। এ ফুলটি নাম মধুমালতী। কিন্তু সবাই তাকে মাধবীলতা বলে ভুল নামে ডাকে।

মাধবী বা মাধবীলতার অন্যান্য নাম : মাধবীলতা, মাধবী, মাধবিকা, মণ্ডপ, কামী, পুষ্পেন্দ্র, অভীষ্টগন্ধক, কামুক নামে অঞ্চলভেধে চিনে। মাধুরী লতা গাছের মধ্যে সাদা, লাল, গোলাপি ও মিশ্র রঙের ফুল ফুটে থাকে। এদের ছোট্ট পাপড়ি’র সংখ্যা পাঁচটি, মাঝে পরাগ অবস্থিত। বর্ণিল এই ফুলগুলো থেকে মিষ্টি গন্ধ বের হয়। অসংখ্য ফুটন্ত ফুলের সৌন্দর্য তখন নজরকাড়া ও মনোরম পরিবেশ তৈরি করে।

মাধুরী লতা সাধারণত গ্রীষ্ম ও বর্ষায় মৌসুমে বেশি ফুটলেও সারা বছর কিছু দিন পরপর ফুল ফোটে। এজন্যে একে বারমাসী ফুলও বলা হয়। গোড়া এবং শেকড় থেকে এই গাছের লতা গজায়। কাটিং করে বা লতা কেটে মাটিতে পুঁতলেও চারা হয়।

মানুষ বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে সাধারণত মাধবীলতা গাছ লাগাতে দেখা যায়। বিশেষ করে বাড়ির প্রবেশ দ্বার, ছাদ, ফুল বাগানে, ঘরের চালে এ ফুলগাছ বেশি দেখতে পাওয়া যায়। গাছটির ডালপালা ছোট ছোট হয়ে চারিদিক ছড়িয়ে যায়। পুরাতন গাছ হলে ধীরে ধীরে মূল লতাটি বেশ মোটা হয়ে যায়। মাধবীলতা ফুল সৌন্দর্য ও রূপ যেকোন মানুষকে মুগ্ধ করে।

ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ফিলিপাইনের একটি স্থানীয় উদ্ভিদ। অস্ট্রেলিয়ার বৃষ্টিপ্রধান বনে এটিকে আগাছা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং এটি মরিশাস, রিইউনিয়ন, ফ্লোরিডা এবং হাওয়াইতে একটি আক্রমণাত্মক প্রজাতি , যেখানে এটি শুষ্ক নিম্নভূমির বনে দ্রুত বৃদ্ধি পায়, দুর্ভেদ্য ঝোপ তৈরি করে এবং স্থানীয় গাছপালা ঢেকে ফেলে। মাধবী বৃক্ষারোহী লতা এবং দীর্ঘজীবী। ডাল ছোট ছোট এবং ঝোপঝাড় হয়ে যায়। এর আদি বাসস্থান দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইন্দো-মালয়েশিয়া। কেউ কেউ মনে করেন, এটি মালয় দেশের গাছ এবং এখানে এনে লাগানো হয়েছে।

অনেক ফুলপ্রেমীরা শখ করে তাদের বাসা-বাড়ির প্রাচীর সংলগ্ন স্থান, প্রধান ফটক বা উঠনের আশপাশে লাগিয়ে থাকেন। ঘরের সামনে চালে উঠিয়ে দেওয়া হয় মাধুরীলতার গাছ। চাল যখন লতায় ছেয়ে যায় যখন খুব সুন্দর ফুল ফোটে খুব স্নিগ্ধ লাগে তখন। মাধুরীলতা দিয়ে কুঞ্জ তৈরির জুড়ি নেই। সর্বোপরি মাধুরীলতা একটি মনোমুগ্ধকর ফুল। যার মুগ্ধতায় মন ভরে উঠে। আধুনিক আবাসন ফ্ল্যাটের ছাদেও ইদানিং জায়গা দখল করে নিয়েছে মধুমালতী।

লেখক ; সাংবাদিক ও কলামিস্ট





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)