শিরোনাম:
পাইকগাছা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২

SW News24
শুক্রবার ● ১০ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম পাতা » ইতিহাস ও ঐতিহ্য » বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের অন্যতম স্মারক সাতক্ষীরার ঐতিহাসিক দরবার স্তম্ভ
প্রথম পাতা » ইতিহাস ও ঐতিহ্য » বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের অন্যতম স্মারক সাতক্ষীরার ঐতিহাসিক দরবার স্তম্ভ
১৩ বার পঠিত
শুক্রবার ● ১০ এপ্রিল ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের অন্যতম স্মারক সাতক্ষীরার ঐতিহাসিক দরবার স্তম্ভ

---   দরবার স্তম্ভ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক স্মারক। এটি ব্রিটিশ আমলের বঙ্গভঙ্গ রদ এবং ১৯১১ সালে সম্রাট পঞ্চম জর্জের দিল্লি দরবারকে স্মরণীয় করে রাখতে নির্মিত হয়েছিল, যা বর্তমানে বাংলাদেশের একমাত্র টিকে থাকা বঙ্গভঙ্গ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত।

ঐতিহাসিক দরবার স্তম্ভ। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের বিজয়ের স্মৃতিচিহ্ন আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের অন্যতম সাক্ষী ও স্মারক  দরবার স্তম্ভ সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলা সদরে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশে টিকে থাকা বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের একমাত্র স্মারক মিনার হিসেবে পরিচিত।

এই স্তম্ভটি সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলা সদরের তালা বাজারের প্রাণকেন্দ্রে (পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে) অবস্থিত। সম্পূর্ণ ইটের তৈরি এই গোল স্তম্ভটির উচ্চতা প্রায় ৪ মিটার এবং নিচের দিকের বেড় ২.৮ মিটার। প্রায় তিন দশমিক সাত মিটার উচ্চতা।  স্তম্ভটি ওপরের দিকে ক্রমশ সরু হয়ে উঠেছে এবং এর মাথায় একটি বড় কলস ও তার ওপর আরেকটি ছোট কলসের চিহ্ন দেখা যায়।

১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ ঘোষণা করলে এর প্রতিবাদে সারা বাংলায় ব্রিটিশ হটাও ও স্বদেশী আন্দোলন তীব্র রূপ নেয়।১৬ অক্টোবর ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন প্রশাসনিক অজুহাতে বাংলা ভাগ করেন, যার প্রতিবাদে এই অঞ্চলে প্রবল আন্দোলন গড়ে ওঠে। তৎকালীন সাতক্ষীরা মহকুমা (বর্তমানে জেলা) এবং তালাসহ বিভিন্ন এলাকায় বঙ্গভঙ্গ বিরোধী বিক্ষোভ, পিকেটিং এবং স্বদেশী পণ্য ব্যবহারের আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছিল। আন্দোলনটি ছিল অহিংস এবং জাতীয়তাবাদী আবেগে পূর্ণ। বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার আগ পর্যন্ত এই প্রতিবাদ অব্যাহত ছিল।

উপমহাদেশের মানুষ যখন ব্রিটিশ শাসনের প্রতিবাদ শুরু করে তখন ব্রিটিশ সরকার নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করে। ১৯০৫ সালে ব্রিটিশরা বাংলাকে ভেঙ্গে দেওয়ার পায়তারা করে। যা বঙ্গভঙ্গ নামে সকলের কাছে পরিচিত। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের আদেশ জারি হয়। কিন্তু আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১৯১১ সালে এ আদেশ প্রত্যাহার করে নেয় ব্রিটিশ সরকার।

ব্রিটিশ শাসকরা তীব্র আন্দোলনের মুখে নতি স্বীকার করে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়। বাংলাকে ভাগ করা হবে না, এমন ঐতিহাসিক ঘোষণা প্রদানের জন্য ব্রিটিশ শাসকের প্রতিনিধি সম্রাট পঞ্চম জজ দিল্লীতে আসেন। ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর দিল্লির রাজকীয় দরবারে সম্রাট পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ রদ করার ঘোষণা দেন। এই ঐতিহাসিক জয়কে স্মরণীয় করে রাখতে এবং কপোতাক্ষ নদের তীরে সেই সময়কার আন্দোলনের স্মৃতি ধরে রাখতে রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক রাজ কুমার বসু এই স্তম্ভটি নির্মাণ করেন।

সম্রাট পঞ্চম জজের দিল্লী আগমনকে স্বাগত জানিয়ে তালার তৎকালীন রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক রাজকুমার বসু তালা বাজারের কেন্দ্রস্থল খেয়াঘাট মোড়ে ঐতিহাসিক এই স্তম্ভটি নির্মাণ করেছিলেন। সেই আন্দোলনের স্মৃতি হিসেবে তালায় এই স্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়েছিল, যা স্থানীয়ভাবে দরবার স্তম্ভ নামে সমধিক পরিচিত।

পুরোপুরি ইটের তৈরি গোল স্তম্ভটির মাথার ওপর একটি বড় কলস ও তার ওপর আরেকটি ছোট কলসের চিহ্ন দেখা যায়। সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে স্তম্ভটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছিলো। পরবর্তীতে বিভিন্ন মহলের দাবির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে নথিভুক্ত করে।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের বিজয়ের স্মৃতিচিহ্ন আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে দরবার স্তম্ভরূপে। প্রায় তিন দশমিক সাত মিটার উচ্চতার দরবার স্তম্ভটি তালা উপজেলা সদরের খেয়াঘাট মোড়ে অবস্থিত। DURBUR MEMORIAL| KING EMPEROR GEORGEV| EST- 12-12-11 লেখা দরবার স্তম্ভটি দেখতে ভিড় জমায় দেশি-বিদেশী পর্যটকসহ অনেকে। তালা উপজেলার এই দরবার স্তম্ভটি দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশনগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি।

দরবার স্তম্ভ সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের একটি নীরব সাক্ষী হিসেবে পরিচিত।বর্তমানে এটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে টিকে থাকলেও স্থানীয়দের মতে এটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও অযত্নে রয়েছে।





ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরও খবর

পাইকগাছার একটি উল্লেখযোগ্য এলাকা গদাইপুর পাইকগাছার একটি উল্লেখযোগ্য এলাকা গদাইপুর
প্রত্যতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে ভাতের ভিটা সংরক্ষণের কাজ চলছে প্রত্যতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে ভাতের ভিটা সংরক্ষণের কাজ চলছে
বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জরাজীর্ণ জন্মভিটা সংস্কারের কাজ শুরু বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জরাজীর্ণ জন্মভিটা সংস্কারের কাজ শুরু
বীরাঙ্গনা গুরুদাসী মাসী বীরাঙ্গনা গুরুদাসী মাসী
আগাছা ও জঙ্গলে পরিপূর্ণ ‘শিল্পী এস এম সুলতান ঘাট’ আগাছা ও জঙ্গলে পরিপূর্ণ ‘শিল্পী এস এম সুলতান ঘাট’
মাগুরার বিনোদপুরে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত রাম বাবুর বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে মাগুরার বিনোদপুরে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত রাম বাবুর বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে
কেশবপুর ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থাপনায় সমৃদ্ধ পর্যটনের লীলাভুমি কেশবপুর ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থাপনায় সমৃদ্ধ পর্যটনের লীলাভুমি
স্মৃতিচিহ্ন মুছে যাচ্ছে বাজারখোলা দোল মন্দিরের স্মৃতিচিহ্ন মুছে যাচ্ছে বাজারখোলা দোল মন্দিরের
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাইকগাছা ক্যাম্পাস বিজ্ঞানী পিসি রায়ের নামে নামকরণের দাবি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাইকগাছা ক্যাম্পাস বিজ্ঞানী পিসি রায়ের নামে নামকরণের দাবি

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)