মঙ্গলবার ● ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » সুযোগসন্ধানী না হয়ে সাংবাদিকের দায়বদ্ধতা জরুরি
সুযোগসন্ধানী না হয়ে সাংবাদিকের দায়বদ্ধতা জরুরি
প্রকাশ ঘোষ বিধান
সুযোগসন্ধানী মনোভাব পরিহার করে দায়িত্বশীল ও নৈতিক সাংবাদিকতা সমাজ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হলুদ সাংবাদিকতা বা ক্লিকবেইট সংস্কৃতির ভিড়ে একজন সাংবাদিক যখন তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক ফায়দা লোটাতে ব্যস্ত হন, তখন সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত গণমাধ্যমের মূল ভিত্তিটাই ভেঙে পড়ে। সুযোগসন্ধানী বা হলুদ সাংবাদিকতা পরিহার করে গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বজায় রাখা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
সাংবাদিকতা হলো সমাজের দর্পণ এবং রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ, যার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সত্য প্রকাশ এবং ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা। কিন্তু যখন কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যম জনস্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত বা দলীয় সুযোগ-সুবিধাকে প্রাধান্য দেয়, তখন সমাজ ভুল পথে পরিচালিত হয় এবং গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়।
সংবাদপত্র সমাজ ও রাষ্ট্রের দর্পণ। সাংবাদিকের নৈতিক দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে যেকোনো খবর প্রকাশের আগে তার সত্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা তথ্যের উৎস যাচাই করা প্রধান দায়িত্ব। সমাজের প্রভাবশালী বা শাসকগোষ্ঠীর অনিয়ম-দুর্নীতি সাহসের সাথে তুলে ধরা।
সংবাদ পরিবেশনের মূল ভিত্তি হলো সত্য। সুযোগসন্ধানী না হয়ে সাংবাদিকদের সর্বদা সঠিক তথ্য যাচাই করে জনসমক্ষে সত্য তুলে ধরতে হবে। উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ সমাজের মারাত্মক ক্ষতি করে। নৈতিক দায়বদ্ধতা থাকলে সাংবাদিকরা এমন অপপ্রচার থেকে দূরে থাকতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থ বা গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থেকে হলুদ সাংবাদিকতা সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা। রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণকে ব্যক্তিস্বার্থ বা বাণিজ্যিক লাভের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া।
সাংবাদিকতার প্রথম ও প্রধান কাজ হলো সত্যের পক্ষে থাকা। কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সঠিকতা ও সত্যতা ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। ব্যক্তিগত মতামত বা প্ররোচনা থেকে দূরে থেকে নিরপেক্ষভাবে ঘটনা তুলে ধরা।সাংবাদিকতার মূল আনুগত্য থাকে সাধারণ মানুষের বা নাগরিকদের প্রতি।
অসত্য ও উসকানিমূলক সংবাদ অনেক সময় সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা কারো জীবন ধ্বংস করতে পারে, তাই সংবাদের সংবেদনশীলতা বুঝতে হবে। বর্তমান অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমের যুগে ভুয়া খবর ছড়ানো বন্ধে সাংবাদিকদের আরও বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
সাংবাদিকতা ব্যক্তিগত বা দলীয় লাভের মাধ্যম নয়। এর মূল লক্ষ্য হলো জনস্বার্থ রক্ষা করা এবং সরকারের বা সমাজের লুকানো অনিয়ম ও দুর্নীতি জনগণের সামনে নিয়ে আসা। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করে। সাংবাদিকদের এই গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার। সুযোগসন্ধানী মানসিকতা ক্ষণস্থায়ী সুবিধা দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান উভয়েরই গ্রহণযোগ্যতা ধ্বংস করে। তাই একটি সুস্থ ও সচেতন সমাজ গঠনে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়বদ্ধ সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই।
গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করতে সুযোগসন্ধানী না হয়ে সাংবাদিকের বস্তুনিষ্ঠ দায়বদ্ধতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। একটি সুস্থ, সচেতন এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সাংবাদিকদের দায়িত্ব ও সততা অনস্বীকার্য। দায়বদ্ধতাহীন সাংবাদিকতা সমাজে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। তাই পেশাগত নৈতিকতা মেনে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট






সনাতন ধর্মীয় শাস্ত্র মেনে তৈরি দুর্গা প্রতিমা পবিত্র শিল্পকর্ম
দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়; বহু মানুষের কর্মসংস্থান ও আয়ের উৎস
ডাকব্যবস্থার বিবর্তন ও মানবসভ্যতার অগ্রগতি
পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রাণীর ভূমিকা অপরিসীম
বিশ্ব নিরামিষ দিবস
প্রবীণদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা সমাজের মৌলিক দায়িত্ব
অতীতে সড়ক পথের চেয়ে নদী পথ ছিল সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ
সংবাদ সম্মেলন নাকি সাংবাদিক সম্মেলন
জমিদার বাড়ির দালান আর বনেদি পরিবারের আঙিনা থেকে বেরিয়ে দুর্গাপূজার আজ সর্বজনীন রূপ 