শনিবার ● ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » নারী ও শিশু » ফুল শোলা দিয়ে কদম ফুল তৈরি করে জীবন জীবিকা রেখা বিশ্বাসের
ফুল শোলা দিয়ে কদম ফুল তৈরি করে জীবন জীবিকা রেখা বিশ্বাসের
মাগুরা প্রতিনিধি : বিল থেকে আগাছা শোলার গাছ সংগ্রহ করে তার, ভেতরের সাদা অংশ দিয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন ধরনের ফুল ও মালা। হস্ত শিল্পীরা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ধারালো ছুরি দিয়ে শোলা কেটে বিভিন্ন আকার তৈরি করেন এবং পরে রং ও সুতা দিয়ে আকৃতি করে তৈরি হয় নানা ধরনের ফুল, মালা, বাচ্চাদের খেলনা এবং ঘর সাজানোর উপকরণ।
মাগুরা
১নং পৌরসভার কাদিরাবাদ গ্রামে দেখতে পায় শোলার তৈরি ফুল দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
এলাকার নারী ও পুরুষ মিলে শিল্পের ছোঁয়ায় অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ফুল শোলা কেটে বিভিন্ন আকার দেন এবং পরে তাতে রং ও সুতা দিয়ে আকৃতি প্রদান করেন। শোলার তৈরি ফুলগুলো নষ্ট হয় না, রং উজ্জ্বল থাকে এবং অনেক দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এই ফুল ও মালা নানা পুজার উপকরণ হিসেবেও ব্যবহার হয়।
ফুল তৈরির প্রধান কারিগর রেখা বিশ্বাস বলে, মাঘ মাসে বিলের পানি শুকিয়ে গেলে ফুল শোলা কুড়িয়ে এনে ফুল, মালা তৈরি করে হাটে বাজারে বিক্রি করি। শোলার তৈরি চাঁদমালা, মুকুট, কদম কিংবা ঝোরা ফুল তৈরি করি। একই সঙ্গে শুভ কাজ বা মানতের জন্য এগুলো ব্যবহার করা হয়। আমাদের এই কাজে অনেক প্রতিবেশি হাতের কাজে সহোযোগিতা করেন বলে আমরা ভালো ভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, এই ফুল, মালা বিক্রি করে আমাদের সারা বছরের সংসার চলে। আমরা যদি সরকারি কোন সাহায্য পাই তাহলে একটা কার্খানা করতাম আমাদের ভালো চলতো।
কারিগর রেখার স্বামী রনজীত বিশ্বাস বলেন , কাঁচা শোলার সংকট আছে মাঠে পানি কম হওয়ার জন্য শোলা কম তৈরি হয়। বছরে ২টা সিজিন শ্রাবন ও মাঘ মাসে আমরা এই কাজ গুরুত্বের সাথে করি। মোট ২টা সিজিনে ১লক্ষ টাকা উপার্জন হয়। শত কষ্টের মধ্যেও এখনো বাপ-দাদার এই হস্তশিল্প পেশাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছি। এই গ্রামের ১২ থেকে ১৫ টি পরিবার এ পেশায় নিয়জিত আছে। আমরা সরকারি সহোযোগিতা পেলে হয়তো আরো বড় পরিসরে ফুল তৈরির কার্খানা করতাম।
ঐই এলাকার যুবক সিজান বলেন, রেখা দিদিকে ছোট বেলা থেকেই দেখে আসছি তিনি ও তিনার স্বামী মিলে এই শোলার তৈরি কদম ফুল, ঝোরা ফুল তৈরির মাধ্যমেই এ শিল্পকর্মটি বাঁচিয়ে রেখেছে। বংশ পরম্পরায় তারা এ পেশার সঙ্গে যুক্ত আছেন। তাদেরকে যদি সরকারি সহায়তা বা কোন সংস্থা সহযোগিতা করতো তাহলে তারা এই শিল্পটাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারতো। এক দিন হয়তো রেখা দিদি সফল নারী উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারবে, পাশাপাশি এলাকার অনেক নারী কর্মীরাও তার সাথে কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করতে পারবে।
কাদিরাবাদ গ্রামে প্রবীণ রাজকুমার বলেন, রেখা ও রনজীত দীর্ঘ দিন ধরে এই ফুল, মাল, মুকুট তৈরির কাজের সাথে যুক্ত আছে। তারা অনেক কষ্ট করেন, এই কাজের ভেতর দিয়ে সংসার চালাতে হিমসিম খায়। আমি আশীর্বাদ করি তারা যেন ভালো কিছু করতে পারে, তাদের যেন ভালো হয়।






মাগুরায় বেগম রোকেয়া দিবসে ১০ অদম্য নারীকে সম্মাননা
পাইকগাছায় বেগম রোকেয়া দিবস পালিত; পাঁচ নারীকে সম্মাননা প্রদান
পাইকগাছার ৫ নারী অদম্য নারী পুরস্কারে ভূষিত
শ্যামনগরে লিডার্স এর আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উদযাপন
মাগুরায় শিশু কিশোর অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণী
কুমড়ো ফুলে জীবন জীবিকা রাহেলার
পাইকগাছায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন
শ্যামনগরে ইউপি সদস্য ও নারীদের নিয়ে জেন্ডার রেসপনসিভ বাজেট বিষয়ক প্রশিক্ষণ
বাগেরহাটে শিশুশ্রম পরিবীক্ষণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত 