শিরোনাম:
পাইকগাছা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২

SW News24
সোমবার ● ৩০ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » কৃষি » চলতি ইরি- বোরো মৌসুম মাগুরায় তেল সংকটে সেচ ব্যাহত; বিপাকে কৃষক
প্রথম পাতা » কৃষি » চলতি ইরি- বোরো মৌসুম মাগুরায় তেল সংকটে সেচ ব্যাহত; বিপাকে কৃষক
৩০ বার পঠিত
সোমবার ● ৩০ মার্চ ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

চলতি ইরি- বোরো মৌসুম মাগুরায় তেল সংকটে সেচ ব্যাহত; বিপাকে কৃষক

---শাহীন আলম তুহিন,মাগুরা থেকে  : জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে  মাগুরা চার উপজেলার কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। তেলের অভাবে চলতি ইরি বোরো মৌসুমে নিয়মিত সেচ দিতে পারছেন না  কৃষকরা। ফলে জেলায় ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে ।
জেলার কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া ও পরিবেশ  ভালো থাকায়   জেলায় ধানের বাম্পার ফলন হবে । কিন্তু বর্তমানে তেলের সংকট থাকায় ধানের অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে । এবার জেলায়  ২৭ হাজার ৯০১ হেক্টর জমিতে ধানের চাষ হয়েছে। চলতি বছর ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে  ১ লক্ষ ৭৯ হাজার ৬৮৯ মেট্রিক টন চাল।
মাগুরা সদরের ইউনিয়নের জগদল ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামের কৃষক কবির হোসেন বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে  আমি ধানের জমিতে তেলের অভাবে সেচ দিতে পারছি না।   এ বছর আমি পাঁচ বিঘা জমিতে ধানের চাষ করেছি। চাষের পরপর  নিয়মিত ভাবেই সেচ দিয়ে আসছি। কিন্তু বর্তমানে  জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে আমি ধানের জমিতে আমি  সেচ দিতে পারছি না। ফলে এ বছর ধানের কাঙ্ক্ষিত  ফলন পাব কিনা ভাবছি। ধান গাছ এখন অনেক বড় হয়ে গিয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই ধানের  শীষ বের হবে। এখনই ধানের সেচ দেয়ার উপযুক্ত সময়। জ্বালানী তেলের তীব্র সংকটের কারণে আমি সেচ দিতে পারছি না প্রায় ১০ দিন । হাটে বাজারে কোথাও তেল পাচ্ছি না।
মাগুরা সদরের নরসিংহাটি গ্রামের কৃষক জামিল হোসেন বলেন, হাটে বাজারে কোথাও তেল পাচ্ছি না আমি ধানের জমিতে সেচ দিতে পারছি না। মাগুরা শহরের পাম্পে  গিয়েও মিলছে না তেল। শহরের সব পামগুলোই তেল না দেয়ার ফলে আমাদের সেচ কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মাঝে মাঝে দুই একটি পাম্পে তেল দিলেও লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে আমরা তেল পাচ্ছি না। পামগুলোতে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না তেল। হাটে বাজারে অনেকেই  গোপনভাবে চড়া দামে বিক্রি করেছেন জ্বালানি তেল। কিন্তু আমরা গরীব কৃষকরা  তেল পাচ্ছি না।
মাগুরা সদরের চাউলিয়া ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক  নাজিম উদ্দিন বলেন, তেলের অভাবে চলতি মৌসুমের ধানের সেচ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এবার আমি ৭ বিঘা জমিতে ধানের চাষ করেছি। তেল না পেয়ে আমি দুই সপ্তাহ সেচ দিতে পারছি না। ধানের জমিতে নিয়মিতভাবে সেচ না দিলে ধানের ফলন ভালো হয় না।  এ বছর জ্বালানি তেলের সংকটে ধানের জমিতে আমাদের গ্রামের অনেক কৃষক সেচ দিতে না পেরে  বিপাকে পড়েছেন। তেল না পেয়ে সেচ দিতে পারছেন না অনেকেই। তাই এ বছর ধানের ফলন শংকিত হওয়ার আশঙ্কা।
মাগুরা সদরের শ্রীরামপুরের কৃষক  জিল্লুর রহমান বলেন, আমি এবার চার বিঘা জমিতে ধানের চাষ করেছি।  তেলের তীব্র সংকটের কারণে  চরমভাবে সেচ কার্য ব্যাহত হচ্ছে। হাটে বাজারে কোথাও তেল নেই। শহরে গিয়ে  তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে  ঘন্টার পর ঘন্টা লাইন দাঁড়িয়ে মিলে না তেল। ধানের আগামী মৌসুমে অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা না হওয়ার শঙ্কায় আমরা খুবই হতাশ ও শঙ্কিত।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)