শিরোনাম:
পাইকগাছা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

SW News24
সোমবার ● ৩০ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য ও সত্যের সন্ধানে
প্রথম পাতা » মুক্তমত » মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য ও সত্যের সন্ধানে
১৬০ বার পঠিত
সোমবার ● ৩০ মার্চ ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য ও সত্যের সন্ধানে

---মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য নিয়ে মানুষের কৌতূহল আদিমকাল থেকেই। আধুনিক বিজ্ঞান এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের মতে, এই বিশাল মহাবিশ্বের সৃষ্টির পেছনে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হলো বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব। মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও এর গভীর সত্যের অনুসন্ধান মানব সভ্যতার সবচেয়ে পুরনো ও রোমাঞ্চকর এক অভিযাত্রা। বিজ্ঞান, দর্শন এবং ধর্ম প্রতিটি ক্ষেত্রই নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করেছে। আধুনিক বিজ্ঞান মহাবিশ্বের সৃষ্টি ব্যাখ্যায় বিগ ব্যাং তত্ত্বকে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মনে করে।

সৃষ্টির পূর্বে এ মহাবিশ্বে শক্তি ছাড়া কিছু ছিলো না। এ শক্তি ছিলো পুঞ্জীভূত অবস্থায়। একেই জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বিগ ব্যাং বলে অভিহিত করেন। বিজ্ঞানমতে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে একটি অতি ঘন ও উত্তপ্ত বিন্দু থেকে বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাবিশ্বের উৎপত্তি হয়েছে। এই ঘটনার পরেই স্থান, কাল (সময়) ও পদার্থের সৃষ্টি হয় এবং মহাবিশ্ব ক্রমাগত প্রসারিত ও শীতল হচ্ছে। এটি একটি বিজ্ঞানভিত্তিক তত্ত্ব যা মহাজাগতিক পর্যবেক্ষণ দ্বারা সমর্থিত।

অধিকাংশ বিজ্ঞানীর মতে, আজকের বিশাল মহাবিশ্ব একসময় একটি ক্ষুদ্রতম বিন্দুতে (সিঙ্গুলারিটি) পুঞ্জীভূত ছিল। এই বিন্দুর বিস্ফোরণের ফলেই নক্ষত্র, গ্যালাক্সি ও গ্রহগুলোর সৃষ্টি হয়েছে।মহাবিশ্বের ৯৯.৯% অংশই প্লাজমা দিয়ে গঠিত। এছাড়া প্রোটন, নিউট্রন এবং কোয়ার্কের মতো কণাগুলো মহাবিশ্বের দৃশ্যমান বস্তুসমূহ তৈরি করেছে।

বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই মহাবিশ্ব আলোর চেয়েও দ্রুত গতিতে প্রসারিত হতে থাকে একে বলা হয় ইনফ্লেশন। প্রসারণের সাথে সাথে মহাবিশ্ব ধীরে ধীরে শীতল হতে শুরু করে, যা পদার্থ গঠনের পথ তৈরি করে। শুরুতে মহাবিশ্ব ছিল কেবল শক্তির খেলা। পরে তাপমাত্রা কমে আসায় প্রোটন, নিউট্রন এবং ইলেকট্রনের মতো মৌলিক কণা তৈরি হয়। প্রায় ৩ লক্ষ ৮০ হাজার বছর পর প্রথম হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম পরমাণু গঠিত হয়। মহাকর্ষ বলের প্রভাবে গ্যাস ও ধূলিকণা একত্রিত হয়ে কয়েক কোটি বছর পর তৈরি হয় প্রথম প্রজন্মের নক্ষত্র এবং পরে বিশাল বিশাল গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ। মহাবিশ্ব সৃষ্টির অনেক পরে, প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে আমাদের সৌরজগত এবং পৃথিবীর সৃষ্টি হয়।
বর্তমানে মহাবিশ্ব প্রসারিত হলেও বিজ্ঞানীদের ধারণা, ভবিষ্যতে এটি সংকুচিত হতে পারে (যাকে বিগ ক্রাঞ্চ বলা হয়) অথবা অনির্দিষ্টকাল ধরে প্রসারিত হতে হতে একসময় স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে। হাবল মহাকাশ টেলিস্কোপের তথ্যমতে, মহাবিশ্ব এখনো প্রসারিত হচ্ছে এবং গ্যালাক্সিগুলো একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, মহাবিশ্ব চিরকাল এভাবে প্রসারিত নাও হতে পারে। ডার্ক এনার্জির প্রভাবে এটি একসময় সংকুচিত হয়ে বিগ ক্রাঞ্চ এর মাধ্যমে ধ্বংস হতে পারে, যা প্রায় ২০ বিলিয়ন বছর পরে ঘটতে পারে বলে কোনো কোনো তত্ত্ব ইঙ্গিত দেয়।

বিজ্ঞান সবসময় পর্যবেক্ষণ ও তথ্যের ভিত্তিতে সত্য খোঁজে। বিগ ব্যাং-এর আগে কী ছিল বা কেন এমন হলো, তা এখনো রহস্য। মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে জ্ঞান প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত হচ্ছে, যা মানুষের অজানাকে জানার চিরন্তন প্রচেষ্টাকেই তুলে ধরে।

ধর্মীয় ও দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে মহাবিশ্ব একজন সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনায় সৃষ্ট, এমন বিশ্বাস দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত। বিজ্ঞান যেখানে কীভাবে সৃষ্টি হলো তার উত্তর খোঁজে, ধর্ম সেখানে কেন সৃষ্টি হলো তার উত্তর খোঁজার চেষ্টা করে। ধর্মীয় এবং দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গিগুলো সৃষ্টির পেছনে একজন সচেতন স্রষ্টা বা পরম সত্যের অস্তিত্বের কথা বলে।

হিন্দু দর্শনে ব্রহ্মকে মহাবিশ্বের পরম বাস্তবতা বা চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গণ্য করা হয়, যা সমস্ত অস্তিত্বের মূল কারণ। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে মহাবিশ্ব সৃষ্টিকে মহান আল্লাহর এক নিপুণ কারুকার্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অনেক ধর্মতাত্ত্বিকের মতে, মহাবিশ্বের শৃঙ্খলা এবং নিয়মাবলি একজন বুদ্ধিমান নকশাকার বা স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়।

মহাবিশ্বের এই বিশালতা এবং রহস্য আজও আমাদের প্রতিনিয়ত নতুন সত্যের মুখোমুখি করে। বিজ্ঞান তথ্য ও প্রমাণের মাধ্যমে এর গঠন ব্যাখ্যা করে, আর দর্শন ও ধর্ম এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য খোঁজার চেষ্টা করে।





মুক্তমত এর আরও খবর

অতীতে সড়ক পথের চেয়ে নদী পথ ছিল সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ অতীতে সড়ক পথের চেয়ে নদী পথ ছিল সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ
শরতের মনোমুগ্ধকর কাশবন আর প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের আবেগ শরতের মনোমুগ্ধকর কাশবন আর প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের আবেগ
সংবাদ সম্মেলন নাকি সাংবাদিক সম্মেলন সংবাদ সম্মেলন নাকি সাংবাদিক সম্মেলন
জমিদার বাড়ির দালান আর বনেদি পরিবারের আঙিনা থেকে বেরিয়ে দুর্গাপূজা আজ সর্বজনীন রূপ নিয়েছে জমিদার বাড়ির দালান আর বনেদি পরিবারের আঙিনা থেকে বেরিয়ে দুর্গাপূজা আজ সর্বজনীন রূপ নিয়েছে
এনজিও কর্তৃক প্রশিক্ষণে সঠিক বিষয়ে সঠিক সাংবাদিক নির্বাচন জরুরি এনজিও কর্তৃক প্রশিক্ষণে সঠিক বিষয়ে সঠিক সাংবাদিক নির্বাচন জরুরি
মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদীর গুরুত্ব মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদীর গুরুত্ব
এনজিও কর্তৃক সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কতটা যুক্তিযুক্ত এনজিও কর্তৃক সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কতটা যুক্তিযুক্ত
পর্যটন মানব ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চালিকাশক্তি পর্যটন মানব ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চালিকাশক্তি
পাটকাঠি জ্বালানি থেকে বাণিজ্য পাটকাঠি জ্বালানি থেকে বাণিজ্য
জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ একবার প্রকাশ পেলে শতভাগ প্রাণঘাতী জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ একবার প্রকাশ পেলে শতভাগ প্রাণঘাতী

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)