শিরোনাম:
পাইকগাছা, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩

SW News24
মঙ্গলবার ● ৫ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » পরিযায়ী পাখির ভূমিকা ও গুরুত্ব
প্রথম পাতা » মুক্তমত » পরিযায়ী পাখির ভূমিকা ও গুরুত্ব
৭ বার পঠিত
মঙ্গলবার ● ৫ মে ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

পরিযায়ী পাখির ভূমিকা ও গুরুত্ব

---  প্রকাশ ঘোষ বিধান

পরিযায়ী পাখি প্রকৃতি ও পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিযায়ী পাখিকে পরিব্রাজক বা যাযাবর পাখিও বলা হয়। পরিযায়ী পাখি   যারা শীতের সময় বহু পথ পেরিয়ে আমাদের দেশে আসে এবং কিছুদিন অবস্থান করে আবার চলে যায়।

পাখি পরিযান বলতে নিদিষ্ট প্রজাতির কিছু পাখির প্রতি বছর বা কয়েক বছর পর পর একটি নিদিষ্ট ঋতুতে বা সময়ে কম করে দুটি স্থানের মধ্যে আসা-যাওয়াকে বোঝায়। যেসব প্রজাতির পাখি আসা- যাওয়ায় অংশ নেয়, তাদেরকে পরিযায়ী পাখি বলে। এ পাখিরা প্রায় প্রতি বছর পৃথিবীর কোনো এক বা একাধিক দেশ থেকে  বিশ্বের অন্য কোনো দেশে চলে যায় কোনো একটি বিশেষ ঋতুতে। ঋতু শেষে আবার সেখান থেকে ফিরে আসে। এ ঘটনা ঘটতে থাকে প্রতি বছর এবং কমবেশি একই সময়ে।

বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস প্রতি বছর মে ও অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শনিবারে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়, যার মূল উদ্দেশ্য হলো পরিযায়ী পাখিদের রক্ষা এবং তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পাখিদের পরিযান পথের নিরাপত্তা ও তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া। সাধারণত মে মাসের দ্বিতীয় শনিবার (বসন্তকালীন পরিযান) এবং অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শনিবার (শরৎকালীন পরিযান) দিনটি পালিত হয়। পরিযায়ী পাখি, বিশেষ করে শীতের আমেজ আসার সাথে সাথে সুদূর থেকে আসা পাখিদের বাসস্থান ও পরিযান পথ নিরাপদ রাখা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পরিযায়ী পাখির ভূমিকা অপরিসীম। যাতে এই পাখিদের বিপন্ন অবস্থা ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশের পাখিদের মধ্যে একটি বড় অংশ দখল করে আছে বিভিন্ন প্রজাতির এই পরিযায়ী পাখি। অনিন্দ্য সুন্দর পাখিগুলো প্রকৃতিরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। শীতের শুরুতেই বাংলাদেশের হাওর, বাওর, মোহনা, উপকূলীয় এলাকায় পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠে। খাদ্য ও আশ্রয়ের সন্ধানে এসব পাখি হাজার হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এদেশে আসে। পরিযায়ী পাখিরা ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমন, মাটিকে উর্বর করে তোলাসহ জলজ পরিবেশকে সুন্দর রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রতি বছর শীতের মৌসুমে দেশে বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখি আসে। পাখিদের কুজনে ও প্রাণপ্রাচুর্যে ভরে উঠে দেশের নানা প্রান্তের হাওর, বাঁওড়, বিলসহ অসংখ্য জলাশয়। পাখি  প্রাকৃতিক পরিবেশের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পৃথিবীতে প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির পাখি আছে, তার এক-তৃতীয়াংশই পরিযায়ী পাখি। বাংলাদেশে ৭০০ এর অধিক প্রজাতির পাখির দেখা পাওয়া যায়। তার মধ্যে প্রায় ৩০০ প্রজাতির পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে। দেশের জলাভূমি, বন, গ্রাম ও শহর জুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়। বাংলাদেশের পাখিদের মধ্যে একটি বড় অংশ দখল করে আছে বিভিন্ন প্রজাতির এই পরিযায়ী পাখি। অনিন্দ্য সুন্দর পাখিগুলো প্রকৃতিরও অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে নান্দনিক সৌন্দর্যের সাথে বজায় রাখে পরিবেশের ভারসাম্য।

পরিযায়ী পাখি প্রকৃতি ও পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাইবেরিয়া, হিমালয়সহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শীতকালে বাংলাদেশে আসা এসব পাখি ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ দমন, বীজের বিস্তারের মাধ্যমে বনসৃজন এবং জলাভূমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। পাখিরা প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ধন ও পরিবেশের সুস্থতার নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। পরিযায়ী পাখিরা ফসলের ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে কৃষিতে বড় ধরণের সহায়তা করে এবং কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে সাহায্য করে। জলচর পরিযায়ী পাখি বিভিন্ন জলাশয়ের পুষ্টি উপাদান আদান-প্রদান করে পরিবেশের ভারসাম্য ধরে রাখে। কোনো এলাকায় পরিযায়ী পাখির আগমনের পরিমাণ দেখে সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশের সুস্থতা বোঝা যায়।

পরিযায়ী পাখি আমাদের প্রকৃতির অলঙ্কার। প্রতি বছর শীতের মৌসুমে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে আসা এসব পরিযায়ী পাখি প্রকৃতির ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।  পরিযায়ী পাখির সুরক্ষা দেওয়া আমাদের সকলের দায়িত্ব। তাদের প্রতি সদয় হওয়া এবং তারা যেন কোনোভাবেই অমানবিক আচরণের শিকার না হয়, সেদিকে নজর রাখা জরুরি।

পরিযায়ী পাখি শিকার বা বিক্রি আইনত অপরাধ। বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি ১ লাখ টাকা জরিমানা, এক বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড। কিন্তু আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের অভাবে এই মৌসুমে পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। পেশাদার ছাড়াও অনেক শৌখিন শিকারি পরিযায়ী পাখি শিকারে অংশ গ্রহণ করে। শিকারিদের হতে প্রতিদিন শত শত পরিযায়ী পাখি মারা পড়ে। ফলে জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।

পরিযায়ী পাখিরা ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ও পোকামাকড় খেয়ে ফসলের সুরক্ষা দেয় এবং পরাগায়নের মাধ্যমে উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে। পাখির বিষ্ঠা জলাভূমি ও কৃষিজমির উর্বরতা বাড়াতে প্রাকৃতিক সার হিসেবে কাজ করে। তারা বিভিন্ন গাছ ও উদ্ভিদের বীজ বিস্তারে ভূমিকা রাখে, যা বনায়ন বা নতুন চারা গজাতে সাহায্য করে। পাখি প্রকৃতি ও কৃষকের বন্ধু, শত্রু নয়; এই বার্তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের একটু সচেতনতা পরিযায়ী পাখিদের জীবন বাঁচাতে পারে। পরিযায়ী পাখি নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করা সবার দায়িত্ব।

পাখি শিকার, বিষটোপ বা জাল ব্যবহার করে পাখি ধরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় তাদের নিরাপদে থাকতে দেওয়া এবং শিকারিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া জরুরি। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে পরিযায়ী পাখি রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার।

জলবায়ু পরিবর্তন, আবাসস্থল ধ্বংস এবং শিকারিদের কারণে এই পাখিদের সংখ্যা দিন দিন কমছে। প্রকৃতির ভারসাম্য এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তাদের নিরাপদ আবাসস্থল ও উড্ডয়ন পথ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

পরিযায়ী পাখির সুরক্ষা দেওয়া আমাদের সকলের একটি নৈতিক ও নাগরিক দায়িত্ব। এই পাখিরা হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আমাদের প্রকৃতিতে আসে এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

লেখক ; সাংবাদিক ও কলামিস্ট





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)