শিরোনাম:
পাইকগাছা, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

SW News24
রবিবার ● ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » নাচ জীবনের প্রতিবিম্ব
প্রথম পাতা » মুক্তমত » নাচ জীবনের প্রতিবিম্ব
৭ বার পঠিত
রবিবার ● ২৬ এপ্রিল ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

নাচ জীবনের প্রতিবিম্ব

 --- নাচ বা নৃত্য জীবনেরই একটি জীবন্ত প্রতিবিম্ব। যা মানুষের চাওয়া-পাওয়া, আবেগ, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের কথা ছন্দে ও ভঙ্গিমায় ফুটিয়ে তোলে। নাচ শুধু বিনোদন নয়, বরং প্রাচীনকাল থেকে সমাজের রীতিনীতি, প্রতিবাদ, প্রেম ও আনন্দের বহিঃপ্রকাশ। শরীরের নড়াচড়ায় জীবনের গল্প, সুখ-দুঃখ এবং মানসিক অবস্থার শৈল্পিক রূপই হলো নাচ।

নাচ জীবনের এক শৈল্পিক প্রতিফলন। এটি মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি এবং যাপনের গল্পকে শরীরের ভাষায় ফুটিয়ে তোলে। নাচের প্রতিটি মুদ্রায় লুকানো থাকে আনন্দ, বেদনা, প্রাপ্তি কিংবা না-পাওয়ার না বলা কথা। নাচ মানুষের অব্যক্ত কথা, প্রতিবাদ, রাগ, অনুরাগ এবং ভালোবাসা প্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

প্রাচীনকাল থেকেই নাচ বিভিন্ন সমাজ ও ঐতিহ্যের গল্প প্রজন্মের পর প্রজন্ম বহন করে আসছে। মানুষ তার মনের গভীরতম অনুভূতিগুলো, যা হয়তো ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, তা ছন্দের তালে তালে প্রকাশ করার সুযোগ পায়। একজনের নাচের ভঙ্গি বা স্টাইল অনেক সময় তার ব্যক্তিত্ব ও মানসিকতাকে প্রকাশ করে।

নাচ কেবল পরিবেশনা নয় বরং মানুষের মেধা ও মনন বিকাশে এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।সহজ কথায়, নাচ হলো আত্মার লুকানো ভাষা যা জীবনের গতি ও ছন্দকে অর্থবহ করে তোলে। নাচ হল কাজ করার একটি চমৎকার উপায়। নিয়মিত নাচ স্মৃতিশক্তি ও জ্ঞানের দক্ষতা বাড়াতে এবং মানসিক চাপ ও অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের মতো অসুখও দূরে থাকে। প্রতিদিন ১ ঘণ্টা নাচ করলে শরীর সুস্থ, সবল, নমনীয় ও ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

২৯ এপ্রিল সারা বিশ্বে নানা উৎসব-আয়োজনের মধ্য দিয়ে নৃত্য দিবসটি উদযাপিত হয়। দিবসটি উদ্‌যাপন করা হয় ব্যালে নৃত্যের স্রষ্টা জ্যঁ জর্জ নভেরের জন্মদিনে। ইউনেস্কো ১৯৮০ সালে তার জন্মদিন ২৯ এপ্রিলকে আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস ঘোষণা করে। তখন থেকে পৃথিবীব্যাপী এ দিবস আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন করা হয়। নৃত্য বা নাচ মানুষের মনোজাগতিক প্রকাশভঙ্গি। কেননা, নৃত্য ও এর ভাষা কাজ করে একসূত্রে। নাচের মাধ্যমেই সহজে মনের আবেগকে তুলে ধরার গুরুত্ব থেকে দিবসটি সারাবিশ্বে উদযাপন করা হয়।

১৭২৭ সালের ২৯ এপ্রিল বিশ্ব নৃত্য সংস্কারক জ্যঁ জর্জ নোভের জন্মগ্রহণ করেন প্যারিসে। তিনি ১৭৫৪ সালে ব্যালে নৃত্য আবিষ্কার করেন। নৃত্য সংস্কারক হিসেবেও ছিল তার খ্যাতি। নভেরে নৃত্যকে ক্ষুদ্র গণ্ডি ও সংকীর্ণতা মুক্ত করে অপেরায় উন্নীত করেন। এর পর ১৭৬০ সালে রচনা করেন লেটারস অন দ্য ড্যান্স গ্রন্থ।

নোভের ব্যালে রচনার পাশাপাশি ব্যালের বিন্যাস, নির্দেশনা, পোশাক সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল নৃত্যশিল্পী, বাদক, শিল্পনির্দেশক সবার সমন্বয়। ব্যালের শেক্সপিয়ার হিসেবে পরিচিত নোভেরের মোট কম্পোজিশন ১৫০টি। ওই সময় তার কম্পোজিশন পৃথিবীব্যাপী আলোড়ন তুলেছিল। নোভেরের ব্যালের ব্যাপক পরিমার্জন করেন ইতালির নৃত্যবিদ ডাবরভেল ও সেলভেটর ভিগেনোর। তবে তাদের শিক্ষক নৃত্যবিদ কার্লো ব্লাসিস নোভেরের সৃষ্টিকে সুমহান মর্যাদা দিয়েছিলেন। নোভেরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যালের মধ্যে রয়েছে অ্যাডমিটেড অ্যারসেট, লে মোট দ্য হারক্লি, মিড ইট জ্যাসন, দ্য পাস্ট অব হিউম্যান, ডিয়ার লেস অ্যাজামনুন, অ্যাপলস ইট ক্যাম্পপেসপে প্রভৃতি। ১৮১০ সালের ১৯ অক্টোবর নোভেরের প্রয়াণ ঘটে।

সব সংস্কৃতির আদি জননী হচ্ছে নাচ বা নৃত্য। নাচ সাংস্কৃতিক শিক্ষার অন্যতম মাধ্যম। ফলে গবেষণা ও শিক্ষার উপাদান হিসেবে সারা বিশ্বেই নাচের জনপ্রিয়তা রয়েছে। নাচ মানুষের মেধা ও মননকে বিকশিত করে। নাচে দেহভঙ্গিমার মাধ্যমে শৈল্পিকভাবে পার্থিব ও অপার্থিব সব ভাবকে মানুষ প্রকাশের সুযোগ পায়। এ প্রকাশভঙ্গিতে থাকে গতি ও ছন্দ। সেই গতি ও ছন্দের তালে তালে ফুটে ওঠে প্রেম, ভালোবাসা, রাগ, অনুরাগ, প্রতিবাদ। সমাজ কিংবা গল্প-ইতিহাসের কথাও নাচের মাধ্যমে উঠে আসে। নাচের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা যায় জীবনের কথা, চাওয়া-পাওয়া বা না-পাওয়ার কথা। সব মিলিয়ে নাচ শুধু বিনোদনমাত্র নয়, নাচ জীবনের প্রতিবিম্ব।

তিনি ভাবতেন নৃত্য অত্যন্ত জটিল একটি ব্যাপার। ছবি ও রঙের মতো। চিত্রকর্মের বিচিত্র রূপের সঙ্গে নৃত্যের বিন্যাস ঘটে। পরে এর প্রকাশভঙ্গি আলোর সমকক্ষ চিন্তা করা যেতে পারে। সংগীত ব্যতীত নৃত্য বোধগম্য নয়। সৃজনশীল উপায়ে সব দেহটাকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং দেহের ছন্দকে মানুষের কাছে তুলে ধরা জরুরি। আর একটা জিনিসের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন, সেটা হলো অভিব্যক্তি। এ ক্ষেত্রে আত্মার গতিশীল আলোড়ন ফুটে ওঠে মুখমণ্ডলের মাধ্যমে।

যেকোনো দেশের মানুষের এগিয়ে যাওয়ার পেছনে প্রেরণা হয়ে কাজ করে সে দেশের সংস্কৃতি। সংস্কৃতির মাধ্যমেই মানুষ বৃহৎ পরিসরে নিজেকে মেলে ধরতে পারে। সংস্কৃতির মধ্য দিয়েই একজন মানুষের যেমন, তেমনি একটি জাতির রুচিবোধেরও পরিচয় মেলে। সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়েই সংহতি, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, সহযোগিতার বন্ধন তৈরি হয়।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)