রবিবার ● ৭ জুন ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » বাদুড় কৃষি ও প্রকৃতির অপরিহার্য প্রাণী
বাদুড় কৃষি ও প্রকৃতির অপরিহার্য প্রাণী
বাদুড় প্রকৃতি ও কৃষির এক নীরব বন্ধু। এরা ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফসল রক্ষা করে এবং পরাগায়নের মাধ্যমে উদ্ভিদের বংশবিস্তারে সহায়তা করে। এরা নিশাচর প্রাণী হলেও বাস্তুতন্ত্রে এদের অবদান অসীম।
কৃষিতে বাদুড়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ বাদুড়ই পতঙ্গভুক। এরা রাতের বেলা ফসলের ক্ষতি করে এমন মথ, গুবরে পোকা, মশাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে ফেলে। একটিমাত্র বাদুড় ঘণ্টায় প্রায় এক হাজারটি মশা বা ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফেলতে পারে, যা কৃষিকাজের জন্য খুবই উপকারী। নিশাচর বাদুড় প্রতি রাতে নিজের ওজনের সমান ক্ষতিকর পোকা ও মশা খেয়ে ফেলে। বাদুড়ের কারণে জমিতে রাসায়নিক কীটনাশক দেওয়ার প্রয়োজন কমে যায়। এটি চাষের খরচ কমায় এবং পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখে।
বাদুড়ই একমাত্র স্তন্যপায়ী প্রাণী যাদের ডানা আছে এবং তারা আকাশে উড়তে পারে। বাদুড় কোন পাখি নয়। এটি পৃথিবীর একমাত্র উড্ডয়ন ক্ষমতা বিশিষ্ট স্তন্যপায়ী প্রাণী। পৃথিবীতে প্রায় ১১০০ প্রজাতির বাদুড় রয়েছে। বাদুড় নিশাচর প্রাণী। বাদুড় ফলমূল, ফুলের রস বা মধু খেয়ে বাঁচে।
১৭ এপ্রিল ছিল বিশ্ব বাদুড় ভালোবাসা দিবস। বিষয়টি অনেকের কাছে অদ্ভুত লাগছে নিশ্চয়। ইংরেজিতে দিনটিকে বলা হয়েছে গ্লোবাল ব্যাট অ্যাপ্রিসিয়েশন ডে। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো, বাস্তুতন্ত্রে বাদুড়ের অপরিসীম অবদান তুলে ধরা, ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ, পরাগায়ন ও বীজ বিস্তারে তাদের ভূমিকা স্মরণ করা এবং প্রাণীটি সম্পর্কে সমাজে থাকা কুসংস্কার ও ভীতি দূর করা
অনেক প্রজাতির বাদুড় ফুলের মধু ও পরাগরেণু খেতে পছন্দ করে। রাতের বেলা তীব্র সুগন্ধযুক্ত ফুলগুলোতে এরা পরাগায়ন ঘটায়। আম, লিচু, কলা, পেয়ারা, সফেদা এবং অ্যাভোকাডোর মতো ৫০০-এর বেশি প্রজাতির উদ্ভিদের পরাগায়ন বাদুড়ের ওপর নির্ভরশীল। বাদুড় না থাকলে এসব ফলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো।
কৃষি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাদুড় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলভুক বাদুড়গুলো বুনো ফল খাওয়ার পর উড়ে যাওয়ার সময় মলত্যাগের মাধ্যমে দূর-দূরান্তে বীজ ছড়িয়ে দেয়। এই বীজ বিস্তরণের ফলে প্রাকৃতিকভাবেই নতুন নতুন বনাঞ্চল তৈরি হয়, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দারুণ ভূমিকা রাখে। ফলভোজী বাদুড় মলত্যাগের মাধ্যমে দূর-দূরান্তে বীজ ছড়িয়ে দিয়ে নতুন বনভূমি সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।
বাদুড়ের মল বা বিষ্ঠাকে গুয়ানো বলা হয়। এটি অত্যন্ত উচ্চমানের একটি জৈব সার। এতে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং পটাশিয়াম থাকে, যা মাটির উর্বরতা অনেক বাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে নির্বিচারে গাছ কাটা এবং অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পরিবেশের উপকারী এই বন্ধুটি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ছে। তাই পরিবেশ ও কৃষির টেকসই উন্নয়নের স্বার্থেই বাদুড় এবং তাদের আবাসস্থল রক্ষা করা জরুরি।
কৃষি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাদুড় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী একটি প্রাণী। পরিবেশে ভারসাম্য রক্ষায় বাদুড়ের ভূমিকা রয়েছে। কীটপতঙ্গ ও পরাগায়নকারী হিসেবে এরা বনের বাস্তুতন্ত্র টিকিয়ে রাখে। মশা খেয়ে এরা মানুষের রোগবালাই ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করে। তবে বাদুড়ে খাওয়া রস ও ফল না খাওয়া ভালো। বাদুড়ও বিভিন্ন প্রকার জীবাণু বহন করতে পারে। তাই অন্যান্য প্রাণীর মতো বাদুড়েরও কিছু ক্ষতিকর দিক আছে। আমাদের দেশে কলাবাদুড় নিপাহ ভাইরাস বহন করে, যা খেজুরের কাঁচা রসের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে।
অনেক সময় মানুষ বাদুড়কে ক্ষতিকর বা ভীতিকর মনে করলেও, প্রকৃতিতে এদের অবদান অপরিসীম। তাই বাদুড়দের রক্ষা করা এবং তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণ করা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।






মানুষের নামে পশুর নাম রাখা মানবমর্যাদার অপমান
সমাজের ওপর তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব ব্যাপক
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মূল লক্ষ্য
সড়কে অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকারে বাড়ছে দুর্ঘটনা
বিশ্ব সাইকেল দিবস 