শনিবার ● ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » বাঘ
বাঘ
বাঘ আমাদের জাতীয় প্রাণী ও বীরত্বের প্রতীক। বাঘ কেবল একটি প্রাণী নয়, এটি শক্তি, সৌন্দর্য এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার এক জীবন্ত প্রতীক। সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের শীর্ষে অবস্থান করে এটি হরিণ ও শূকরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে বনের স্বাস্থ্য রক্ষা করে। বাংলাদেশে ও পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন এলাকায় যে সুদর্শন বাঘ দেখা যায় তা দুনিয়াব্যাপী রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা বাংলা বাঘ নামে পরিচিত। বাঘ এখন এক বিপন্ন প্রাণী। বিভিন্ন দেশে বাঘ সংরক্ষণের চেষ্টা চলছে।
বাঘ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিড়াল প্রজাতি। স্তন্যপায়ী প্রাণী বাঘ। এটি প্যানথেরা গণের অন্তর্ভুক্ত চারটি বৃহৎ বিড়ালের একটি। অর্থাৎ সিংহ, চিতাবাঘ ও জাগুয়ারের সঙ্গে প্যানথেরা গণের চারটি বিশালাকার সদস্যের মধ্যে এটি সর্ব বৃহৎ ও শক্তিশালী প্রাণী। বাঘ বিড়াল প্রজাতির অন্য সকল প্রাণী এমন কি সিংহ হতেও বড় এবং শক্তিশালী প্রাণী। বাঘ ভারত ও বাংলাদেশ সহ মোট ৬ টি দেশের জাতীয় পশু।
২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস। বাঘের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা এবং বাঘ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১০ সালে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত বাঘ সম্মেলন এ এই দিবসটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাঘ সুন্দরবনের জন্য একটি কিস্টোন প্রজাতি। বাঘ টিকে থাকলে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রসহ জীববৈচিত্র্য নিজে থেকেই টিকে থাকবে, সুন্দরবন টিকে থাকবে। এলাকার জনগণ মনে করেন, সুন্দরবন মায়ের মতো, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করে, জীবন বাঁচায়, খাদ্য জোগায়। তাঁদের মতে, বাঘ বাঁচলে সুন্দরবন বাঁচবে, সুন্দরবন বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। বর্তমানে সুন্দরবন বাংলাদেশের বাঘের শেষ আশ্রয়স্থল। বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণ। পর্যাপ্ত খাবার না পেলে বাঘ দুর্বল হয়ে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা হারাবে এবং বাঘ-মানুষ সংঘাত বাড়বে।
বাঘের প্রাকৃতিক আবাস রক্ষা করা এবং বাঘ সংরক্ষণের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতি বছরের ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস পালন করা হয়। ২০১০ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত বাঘ অভিবর্তনে এ দিবসটির সূচনা হয়। ২০১০ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রথম বাঘ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ নিজ নিজ দেশে বাঘের সংখ্যা ১২ বছরের মধ্যে দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়েছিল। এর মধ্যে নেপাল বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে। ভারত এবং ভুটানও দ্বিগুণের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশে বাঘের সংখ্যা সামান্য বাড়লেও সে লক্ষ্য থেকে দূরে আছে। বাংলাদেশের সুন্দরবন অংশে বাঘের সংখ্যা ১১৪ থেকে বেড়ে বর্তমানে ১২৫টি হয়েছে। ১০বছরে বাঘ বেড়েছে ১৯টি।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের জরিপে সুন্দরবনে বাঘ ছিল ৩৫০টি। এরপর ১৯৮২ সালের জরিপে ৪২৫টি এবং এর দুই বছর পর ১৯৮৪ সালে সুন্দরবন দক্ষিণ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ১১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় জরিপ চালিয়ে ৪৩০ থেকে ৪৫০টি বাঘ থাকার কথা জানানো হয়।
১৯৯২ সালে ৩৫৯টি বাঘ থাকার তথ্য জানায় বন বিভাগ। পরের বছর ১৯৯৩ সালে সুন্দরবনের ৩৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় প্যাগমার্ক পদ্ধতিতে জরিপ চালিয়ে ধন বাহাদুর তামাং ৩৬২টি বাঘ রয়েছে বলে জানায়। ২০০৪ সালের জরিপে বাঘের সংখ্যা পাওয়া যায় ৪৪০টি। ১৯৯৬-৯৭ সালে বাঘের সংখ্যা উল্লেখ করা হয় ৩৫০টি থেকে ৪০০টি। ওই সময়ে বাঘের পায়ের ছাপ পদ্ধতিতে গণনা করা হয়।
২০১৫ সালের জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে দাঁড়ায় ১০৬টি। হটাৎ করে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা ৪০০টি থেকে ১০৬টিতে এসে দাঁড়ালে সারাবিশ্বে হৈ চৈ পড়ে যায়। বাংলাদেশে বাঘ ২০১৫–এর গণনায় ১০৬টি, ২০১৮তে ১১৪টি এবং সর্বশেষ ২০২৪ এর গণনায় ১২৫টি পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের বাঘ নানামুখী হুমকির সম্মুখীন। এরপরও বাঘের সংখ্যা যে ঊর্ধ্বমুখী, এটি আশার সঞ্চার করে।






কার্পেটিং শক্ত হতে প্রকৌশলগত সময়ের প্রয়োজন; কাঁচা কার্পেটিং তুলে ফেলার প্রবণতা রুখতে হবে
জনসংখ্যা একটি দেশের সম্পদ এবং সমস্যা উভয়ই হতে পারে
বুদ্ধির খেলা দাবা
আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবস
নৈতিকতার অবক্ষয়ের কারণে সাংবাদিকই এখন সাংবাদিকের বড় শত্রু
বর্ষাকাল উপকূলীয় মানুষের জন্য বিপদসংকুল সময়
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি
বিশ্বজুড়ে সংকটে শরণার্থী 