শিরোনাম:
পাইকগাছা, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

SW News24
বুধবার ● ২২ জুলাই ২০২৬
প্রথম পাতা » সুন্দরবন » পলিথিন- প্লাস্টিক দূষণ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে
প্রথম পাতা » সুন্দরবন » পলিথিন- প্লাস্টিক দূষণ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে
৬ বার পঠিত
বুধবার ● ২২ জুলাই ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

পলিথিন- প্লাস্টিক দূষণ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের প্রাণীদের আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্য উভয়ের জন্যই প্লাস্টিক দূষণ মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ সুন্দরবনের অনন্য বাস্তুতন্ত্রের জন্য একটি মারাত্মক হুমকি। প্রতিদিন বনের ভেতরের নদী-খালে জমা হচ্ছে টন টন প্লাস্টিক বর্জ্য, যা ম্যানগ্রোভের শ্বাসমূলকে বাধাগ্রস্ত করে, বন্যপ্রাণীর জীবন বিপন্ন করে এবং সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বঙ্গোপসাগরের তীরে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর ব-দ্বীপে অবস্থিত সুন্দরবন। ম্যানগ্রোভ বনভূমি উপকূলরেখাকে ক্ষয় ও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে থেকে রক্ষা করে এবং দূষণকারী পদার্থ পরিশোধন করে পানির গুণমান উন্নত করে। এছাড়াও এই বনভূমি অনেক সামুদ্রিক প্রাণীর জন্য নার্সারি হিসেবে কাজ করে। এই বনের গাছের পাতা, কাণ্ড, শিকড় ও মাটিতে লাখ লাখ টন কার্বন জমা হয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অবদান রেখে যাচ্ছে।

সুন্দরবন বাংলাদেশের উপকূলরেখা বরাবর বিস্তৃত। এটা বেঙ্গল টাইগার ও ইরাবতী ডলফিনসহ বিশ্বের কিছু বিরল প্রাণীর আবাসস্থল। বনের বড় ধরনের বন্য প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগার, লবণাক্ত পানির কুমির, হরিণ, বানর, শূকর, সাপ, সরীসৃপ ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণী দ্বারা সমৃদ্ধ। এছাড়াও, বনে অসংখ্য প্রজাতির পাখি রয়েছে। সুন্দরবনে অসংখ্য জলজ প্রাণী রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৬ প্রজাতির চিংড়ি, ১৩ প্রজাতির কাঁকড়া ও ৪২ প্রজাতির শামুক অন্যতম। প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য এগুলোর উপর নির্ভরশীল। প্লাস্টিক ও পলিথিনের দূষণ থেকে সুন্দরবনের এই জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণের জরুরি প্রয়োজন।

সুন্দরবন আমাদের জাতীয় অর্থনীতির একটি স্তম্ভ। এখান থেকে প্রতিবছর প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে সরকার, যা স্থানীয় জনগণের জীবিকা এবং দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি অবদান রাখে। কিন্তু প্লাস্টিক দূষণ সুন্দরবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুন্দরবনের ৫৪টি নদীতে প্রতিদিন প্রায় ৫০ টন পলিথিন ও প্লাস্টিক জমা হয়ে পরিবেশের ভারসাম্য হারাচ্ছে।

বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র ও সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলে প্লাস্টিক জমা কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর জন্য সমন্বিত, বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে অন্যতম হলো পর্যটকদের সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক পানির বোতল, পলিথিন বহন নিষিদ্ধ করা এবং বনের ভেতর কঠোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। বনের জীববৈচিত্র্য ও শ্বাসমূল রক্ষায় সুন্দরবন এলাকায় পলিথিন ও ওয়ান-টাইম প্লাস্টিকের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে কঠোর জরিমানার বিধান বাস্তবায়ন করা।

সুন্দরবনে পর্যটকবাহী প্রতিটি নৌযান ও ট্যুরিস্ট স্পটে সুনির্দিষ্ট ডাস্টবিন স্থাপন করা। সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য বনের বাইরে এনে রিসাইক্লিংয়ের ব্যবস্থা করা। পলিথিনের বদলে পাটের ব্যাগ ও কাগজের ঠোঙা এবং প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব পাত্র ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা।

সুন্দরবনের প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে একক ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।  ট্যুর অপারেটরদের মাধ্যমে পর্যটকদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ এবং প্রবেশ ফি দেওয়ার সময় প্লাস্টিক ফ্রি সুন্দরবন ক্যাম্পেইনে স্বাক্ষর করানো যেতে পারে। স্থানীয় বনজীবী, ট্যুরিস্ট ও বেসরকারি সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগে বনের খাল ও সৈকতগুলোতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা।

সুন্দরবনের দূষণ হ্রাস, পরিবেশের উন্নতি এবং বাংলাদেশে ম্যানগ্রোভ বন ও তাদের প্রভাব অঞ্চল- শীর্ষক প্রকল্পটি খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা ও পিরোজপুর জেলার ১৭টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পটি সরকারের তিনটি আর রিডিউস, রিইউজ, ও রিসাইকেল বাস্তবায়ন কৌশলের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। সামগ্রিকভাবে এটি প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি সম্পর্কিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখবে।

রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ বলেন, তরুণরা প্লাস্টিক বর্জ্য ও দূষণ প্রতিরোধের পাশাপাশি এর মাটি ও পানিকে আরও অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, সুন্দরবনের এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে প্লাস্টিক দূষণ। পর্যটন মৌসুমে পর্যটকরা সুন্দরবনের নদী-খালে চিপস, বিস্কুটের প্যাকেট, প্লাস্টিকের পানির বোতল, পলিথিন, ওয়ান টাইম প্লেট-গ্লাস, চকোলেটের খোলা ফেলে যান। এ সব প্লাস্টিক বর্জ্য নদীর জোয়ার-ভাটায় ১০-১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বনের অভ্যন্তরে ঢুকে যায়। সুন্দরবনের গাছের স্বাসমূলের উপর  জড়িয়ে থাকে। এতে প্রাণশক্তি হারায়ে গাছ মরে যায়।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)