শিরোনাম:
পাইকগাছা, বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

SW News24
বুধবার ● ২৬ আগস্ট ২০২৬
প্রথম পাতা » সুন্দরবন » বর্ষাকালে সুন্দরবন এবং সংলগ্ন নদ-নদীতে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্যের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে
প্রথম পাতা » সুন্দরবন » বর্ষাকালে সুন্দরবন এবং সংলগ্ন নদ-নদীতে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্যের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে
৩ বার পঠিত
বুধবার ● ২৬ আগস্ট ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বর্ষাকালে সুন্দরবন এবং সংলগ্ন নদ-নদীতে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্যের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে

বর্ষাকালে সুন্দরবন এবং এর সংলগ্ন নদ-নদীতে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্যের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, যা এই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী ম্যানগ্রোভ বনের বাস্তুতন্ত্রের জন্য এক ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষার তীব্র বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন শহর, হাট-বাজার এবং লোকালয়ের জমাকৃত প্লাস্টিক বর্জ্য ড্রেন ও নদী হয়ে সরাসরি সুন্দরবনে এসে প্রবেশ করছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্ষা মৌসুমে সুন্দরবনের মোহনা অঞ্চলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঘনত্ব প্রায় ৪০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ঢলের কারণে নদ-নদী হয়ে সুন্দরবনে টন টন প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য প্রবেশ করছে। সুন্দরবন সংলগ্ন বিভিন্ন জনপদ ও বাজারের অপচনশীল বর্জ্য জোয়ারের পানির সঙ্গে বনের ভেতরে ঢুকে পড়ে। বৃষ্টির পানির তোড়ে শহরের ড্রেন ও খালের পলিথিন পশুর, রূপসা, শিবসা ও কপোতাক্ষ নদীর মাধ্যমে সুন্দরবনে ভেসে আসে।  সুন্দরবন সংলগ্ন প্রায় ৮০টি গ্রাম ও স্থানীয় বাজারগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব থাকায় তা জোয়ারের পানিতে বনে ছড়িয়ে পড়ছে। পর্যটকবাহী জাহাজ এবং যাত্রীবাহী ট্রলার থেকে ফেলা ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক প্লেট, কাপ ও বোতল নদী দূষণ তীব্র করছে।

জোয়ারের পর পলিথিন ও প্লাস্টিক সুন্দরীসহ বিভিন্ন গাছের শ্বাসমূলে আটকে যায়, যা উদ্ভিদের অক্সিজেন গ্রহণ ব্যাহত করে এবং বনের স্বাভাবিক পুনরুৎপাদন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। নদীর তলদেশে প্লাস্টিকের আস্তরণ পড়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হচ্ছে। হরিণ, বানর ও কচ্ছপের মতো প্রাণীরা ভুলবশত প্লাস্টিক ও পলিথিন খেয়ে ফেলছে, যা তাদের পাকস্থলীতে জমে মৃত্যুর কারণ হচ্ছে। প্লাস্টিক কণা ভেঙে তৈরি হওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিক হরিণা চিংড়িসহ অন্তত ১৭ প্রজাতির মাছের শরীরে পাওয়া গেছে, যা মাছ খাওয়ার মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে ক্যানসার ও লিভারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। প্লাস্টিক ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি হয়ে মাছের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করছে।

সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের মতো অন্যান্য রেঞ্জেও ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক নিষিদ্ধের আইন ও জরিমানা কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। খুলনা ও মংলাসহ আশেপাশের শহরগুলোতে উৎসে বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং ড্রেনে আধুনিক ফিল্টার নেট ব্যবহার করা প্রয়োজন। পলিথিনের পরিবর্তে চটের ব্যাগ এবং মাটির পাত্রের ব্যবহার বাড়াতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের উদ্বুদ্ধ করা জরুরি।





সুন্দরবন এর আরও খবর

পলিথিন- প্লাস্টিক দূষণ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে পলিথিন- প্লাস্টিক দূষণ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে
পাইকগাছায় প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ প্রতিরোধে অভিজ্ঞতা বিনিময় বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ প্রতিরোধে অভিজ্ঞতা বিনিময় বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
সুন্দরবনে বাঘিনীর প্রত্যাবর্তন ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণের নতুন আশাবাদ সুন্দরবনে বাঘিনীর প্রত্যাবর্তন ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণের নতুন আশাবাদ
সুন্দরবনের বনমোরগ সুন্দরবনের বনমোরগ
প্লাস্টিক-পলিথিন দূষণে সুন্দরবন: হুমকির মুখে জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য প্লাস্টিক-পলিথিন দূষণে সুন্দরবন: হুমকির মুখে জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য
ডাঙ্গার পলিথিন ও পিলাস্টিক নদী সুন্দরবন ঘুরে ফিরছে পাতে ডাঙ্গার পলিথিন ও পিলাস্টিক নদী সুন্দরবন ঘুরে ফিরছে পাতে
নদী সুন্দরবন ঘুরে পলিথিন ও প্লাস্টিক ফিরছে পাতে নদী সুন্দরবন ঘুরে পলিথিন ও প্লাস্টিক ফিরছে পাতে
খুলনায় জার্নালিজম ফর সুন্দরবন এর সভা ও সম্মাননা প্রদান খুলনায় জার্নালিজম ফর সুন্দরবন এর সভা ও সম্মাননা প্রদান
খুলনা বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থান পেল খানজাহান আলী মাজারের কুমির খুলনা বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থান পেল খানজাহান আলী মাজারের কুমির

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)