শিরোনাম:
পাইকগাছা, শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩

SW News24
সোমবার ● ৬ জুলাই ২০২৬
প্রথম পাতা » সুন্দরবন » সুন্দরবনের বনমোরগ
প্রথম পাতা » সুন্দরবন » সুন্দরবনের বনমোরগ
১১২ বার পঠিত
সোমবার ● ৬ জুলাই ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

সুন্দরবনের বনমোরগ

---সুন্দরবনের বনমোরগ (রেড জাংলফাউল) হলো পৃথিবীর সব গৃহপালিত মোরগ-মুরগির আদি পিতা। দেখতে গ্রামীণ মোরগের মতো হলেও এরা আকারে কিছুটা ছোট, লেজ লম্বা ও পায়ের রঙ কালচে হয়। এরা অত্যন্ত চালাক ও ক্ষিপ্র হয় এবং সাধারণত জোড়ায় বা ছোট দলে বনের গভীরে বা কাছাকাছি খোলা জায়গায় চরে বেড়ায়।

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের গহীন ঝোপঝাড় ও বনের কাছাকাছি এলাকায় এরা বাস করে। দেখতে সাধারণ গৃহপালিত মোরগের মতো হলেও আকারে কিছুটা ছোট এবং গড়ন লম্বাটে হয়। একটি পূর্ণাঙ্গ বনমোরগ লম্বায় প্রায় ৬৩-৬৫ সেন্টিমিটার এবং বনমুরগি প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। মোরগের পালক লাল, কমলা, কালো ও সবুজাভ মিশ্রিত উজ্জ্বল রঙের হয়। তবে মুরগির রঙ হয় অনুজ্জ্বল বাদামী ও ছাই মিশ্রিত। এদের পায়ের রঙ সাধারণত গাঢ় কালো বা ধূসর হয়। মোরগের লেজের মাঝখানের দুটি পালক বেশ লম্বা ও বাঁকানো থাকে।

বনমোরগ মূলত কচি ঘাস-পাতার ডগা, যে কোনো ধরনের শস্যদানা, ছোট মাছ ও ব্যাঙ, নির্বিষ ও বিষধর ছোট সাপ, কেঁচো, ছোট কাঁকড়া, অঞ্জন, টিকটিকি, কাঁচা মরিচ, কচি বেগুন কীটপতঙ্গ ইত্যাদি খেয়ে বেঁচে থাকে। এছাড়া বনের গাছের পাকা ফলও এদের প্রিয় খাদ্য।এরা মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই দ্রুত আত্মগোপন করে। প্রজনন মৌসুমে একটি দলে সাধারণত ১টি মোরগ এবং ৬টি পর্যন্ত মুরগি থাকে। গৃহপালিত মুরগির চেয়ে এদের ডিম আকারে ছোট হয়।

গৃহপালিত মোরগের মতো এরা অলস নয়; বরং অত্যন্ত চালাক, চটপটে এবং হিংস্র বন্যপ্রাণীর হাত থেকে বাঁচতে সর্বদা সতর্ক থাকে। এরা পাখি না হলেও প্রয়োজনে খুব দ্রুত দৌড়াতে এবং অনেক উঁচুতে উড়তে পারে। গাছে উঠে বা আত্মগোপন করায় এরা অত্যন্ত ওস্তাদ।

বাংলাদেশে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের চিরসবুজ বন, চা-বাগান, শেরপুর ও মধুপুর শালবন ও সুন্দরবনে বনমোরগ বাস করে। একসময় প্রায় সব ধরনের বন-জঙ্গলেই এদের দেখা যেত। কিন্তু ব্যাপক শিকারের কারণে আশঙ্কাজনকভাবে এরা কমে গেছে।পাহাড়ি বনেও এরা প্রায় বিলুপ্তির পথে। এখনো পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো কোনো হাটবাজারে বনমোরগ বিক্রি হয়। তবে সিলেটের চা-বাগান ও সুন্দরবনে বনমোরগ মোটামুটি ভালো অবস্থায় আছে।

নির্বিচারে ফাঁদ পেতে শিকার এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে সুন্দরবনে এদের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এই বনমোরগ শিকার বা গৃহপালিত করার উদ্দেশ্যে ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ।





সুন্দরবন এর আরও খবর

পলিথিন- প্লাস্টিক দূষণ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে পলিথিন- প্লাস্টিক দূষণ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে
পাইকগাছায় প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ প্রতিরোধে অভিজ্ঞতা বিনিময় বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ প্রতিরোধে অভিজ্ঞতা বিনিময় বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
সুন্দরবনে বাঘিনীর প্রত্যাবর্তন ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণের নতুন আশাবাদ সুন্দরবনে বাঘিনীর প্রত্যাবর্তন ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণের নতুন আশাবাদ
প্লাস্টিক-পলিথিন দূষণে সুন্দরবন: হুমকির মুখে জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য প্লাস্টিক-পলিথিন দূষণে সুন্দরবন: হুমকির মুখে জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য
ডাঙ্গার পলিথিন ও পিলাস্টিক নদী সুন্দরবন ঘুরে ফিরছে পাতে ডাঙ্গার পলিথিন ও পিলাস্টিক নদী সুন্দরবন ঘুরে ফিরছে পাতে
নদী সুন্দরবন ঘুরে পলিথিন ও প্লাস্টিক ফিরছে পাতে নদী সুন্দরবন ঘুরে পলিথিন ও প্লাস্টিক ফিরছে পাতে
খুলনায় জার্নালিজম ফর সুন্দরবন এর সভা ও সম্মাননা প্রদান খুলনায় জার্নালিজম ফর সুন্দরবন এর সভা ও সম্মাননা প্রদান
খুলনা বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থান পেল খানজাহান আলী মাজারের কুমির খুলনা বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থান পেল খানজাহান আলী মাজারের কুমির
পহেলা জুন থেকে আগস্ট তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ পহেলা জুন থেকে আগস্ট তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)