সোমবার ● ৬ জুলাই ২০২৬
প্রথম পাতা » সুন্দরবন » সুন্দরবনের বনমোরগ
সুন্দরবনের বনমোরগ
সুন্দরবনের বনমোরগ (রেড জাংলফাউল) হলো পৃথিবীর সব গৃহপালিত মোরগ-মুরগির আদি পিতা। এগুলি দেখতে সাধারণ মোরগের মতোই তবে আকারে ছোট, লেজের পালক লম্বা ও পায়ের রঙ কালচে। এরা অত্যন্ত চালাক ও ক্ষিপ্র হয় এবং সাধারণত জোড়ায় বা ছোট দলে বনের গভীরে বা কাছাকাছি খোলা জায়গায় চরে বেড়ায়।
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের গহীন ঝোপঝাড় ও বনের কাছাকাছি এলাকায় এরা বাস করে। দেখতে সাধারণ গৃহপালিত মোরগের মতো হলেও আকারে কিছুটা ছোট এবং গড়ন লম্বাটে হয়। একটি পূর্ণাঙ্গ বনমোরগ লম্বায় প্রায় ৬৩-৬৫ সেন্টিমিটার এবং বনমুরগি প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। মোরগের পালক লাল, কমলা, কালো ও সবুজাভ মিশ্রিত উজ্জ্বল রঙের হয়। তবে মুরগির রঙ হয় অনুজ্জ্বল বাদামী ও ছাই মিশ্রিত। এদের পায়ের রঙ সাধারণত গাঢ় কালো বা ধূসর হয়। মোরগের লেজের মাঝখানের দুটি পালক বেশ লম্বা ও বাঁকানো থাকে।
বনমোরগ মূলত মাটি থেকে বিভিন্ন শস্যদানা, ঘাসের গোড়া, কচি পাতা, কেঁচো ও কীটপতঙ্গ খেয়ে বেঁচে থাকে। এছাড়া বনের গাছের পাকা ফলও এদের প্রিয় খাদ্য।এরা মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই দ্রুত আত্মগোপন করে। প্রজনন মৌসুমে একটি দলে সাধারণত ১টি মোরগ এবং ৬টি পর্যন্ত মুরগি থাকে। গৃহপালিত মুরগির চেয়ে এদের ডিম আকারে ছোট হয়।
গৃহপালিত মোরগের মতো এরা অলস নয়; বরং অত্যন্ত চালাক, চটপটে এবং হিংস্র বন্যপ্রাণীর হাত থেকে বাঁচতে সর্বদা সতর্ক থাকে। এরা পাখি না হলেও প্রয়োজনে খুব দ্রুত দৌড়াতে এবং অনেক উঁচুতে উড়তে পারে। গাছে উঠে বা আত্মগোপন করায় এরা অত্যন্ত ওস্তাদ।
নির্বিচারে ফাঁদ পেতে শিকার এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে সুন্দরবনে এদের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এই বনমোরগ শিকার বা গৃহপালিত করার উদ্দেশ্যে ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ।






ডাঙ্গার পলিথিন ও পিলাস্টিক নদী সুন্দরবন ঘুরে ফিরছে পাতে
নদী সুন্দরবন ঘুরে পলিথিন ও প্লাস্টিক ফিরছে পাতে
খুলনায় জার্নালিজম ফর সুন্দরবন এর সভা ও সম্মাননা প্রদান
খুলনা বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থান পেল খানজাহান আলী মাজারের কুমির
পহেলা জুন থেকে আগস্ট তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ
সুন্দরবনে বাঘের কবলে এক মৌয়াল
পাইকগাছায় সুন্দরবনের প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ প্রতিরোধে শিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
সুন্দরবনকে যেকোনো মূল্যে বিষমুক্ত করা হবে : বন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম 