শিরোনাম:
পাইকগাছা, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

SW News24
সোমবার ● ২৯ জুন ২০২৬
প্রথম পাতা » সুন্দরবন » নদী সুন্দরবন ঘুরে পলিথিন ও প্লাস্টিক ফিরছে পাতে
প্রথম পাতা » সুন্দরবন » নদী সুন্দরবন ঘুরে পলিথিন ও প্লাস্টিক ফিরছে পাতে
৬৯ বার পঠিত
সোমবার ● ২৯ জুন ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

নদী সুন্দরবন ঘুরে পলিথিন ও প্লাস্টিক ফিরছে পাতে

--- প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা ঃ ডাঙ্গার পলিথিন ও প্লাস্টিক বিভিন্নভাবে মাটি, নদী, সুন্দরবন ও সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রে মিশে যাচ্ছে। পরবর্তীতে জলজ প্রাণীর মাধ্যমে এবং খাদ্যশৃঙ্খল ঘুরে তা আবার বিষাক্ত রূপ নিয়ে মানুষের খাবারের পাতে ফিরে আসছে।

পলিথিন ও অপচনশীল প্লাস্টিক মাটিতে মিশে উর্বরতা নষ্ট করে। এছাড়া নালা-ড্রেন বেয়ে এগুলো খাল, নদী ও সমুদ্রে গিয়ে জমা হয়। নদী বা সমুদ্রের মাছ এবং জলজ প্রাণী এই প্লাস্টিককে খাবার মনে করে খেয়ে ফেলে। ফলে তাদের পেটে প্লাস্টিক জমা হয়। প্লাস্টিকজাত দ্রব্য কখনো পুরোপুরি নিঃশেষ হয় না, বরং ক্ষুদ্র কণার সৃষ্টি করে। এই বিষাক্ত কণা মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের খাদ্যতালিকায় ঢুকে পড়ছে।মানবদেহের ওপর প্রভাবপ্লাস্টিক মিশ্রিত খাবার গ্রহণের ফলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, মস্তিষ্কের গঠন বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

ডাঙ্গায় ফেলে দেওয়া পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য শেষ পর্যন্ত অদৃশ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা হিসেবে আমাদের খাদ্যচক্রে মিশে পুনরায় মানুষের ভাতের পাতেই ফিরে আসছে। রাস্তাঘাট, ড্রেন বা জলাশয়ে ফেলা প্লাস্টিক রোদ, বৃষ্টি ও তরঙ্গের আঘাতে ভেঙে ৫ মিলিমিটারের চেয়েও ছোট কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়। এই বিষাক্ত কণাগুলো মাটি ও পানির সাথে মিশে নদী-নালার দেশীয় মাছ, সামুদ্রিক মাছ এবং গবাদি পশুর শরীরে প্রবেশ করছে। পরবর্তীতে সেই মাছ বা মাংস খাওয়ার মাধ্যমে প্লাস্টিক সরাসরি মানুষের শরীরে চলে আসছে, যা ক্যানসার এবং কিডনি বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

প্রতিদিন উৎপাদিত টন টন প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার কারণে তা নদী ও সাগরে গিয়ে মিশছে। অপচনশীল এই প্লাস্টিকগুলো রোদ ও পানির সংস্পর্শে এসে ধীরে ধীরে ছোট ছোট টুকরোয় পরিণত হয়।  ছোট মাছ বা জু-প্লাঙ্কটন ভুলবশত এই প্লাস্টিক কণাকে খাবার মনে করে খেয়ে ফেলে। ছোট মাছকে যখন বড় মাছ খায়, তখন প্লাস্টিকের ঘনত্ব আরও বাড়ে। খাবার পাতে প্রত্যাবর্তন হচ্ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণা অনুযায়ী, রুই, তেলাপিয়া, টেংরাসহ প্রায় ১৫ প্রজাতির দেশীয় মাছের অন্ত্র ও মাংসে এই প্লাস্টিকের উপস্থিতি মিলেছে, যা আমরা প্রতিনিয়ত খাচ্ছি।

প্লাস্টিক কণাগুলো শরীরে ভারী ধাতু ও বিষাক্ত রাসায়নিক বহন করে, যা হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং প্রজনন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। উপকূলীয় অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানিতেও বিপজ্জনক মাত্রায় এই কণা শনাক্ত হয়েছে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় মানব মস্তিষ্কে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মিলেছে, যা আলঝেইমার্স ও স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো স্নায়বিক রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, কোষের ক্ষতি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস এবং ক্যান্সার ও হৃদরোগের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

বনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশকর্মী, বন বিভাগ, রুপন্তরসহ এনজিওগুলো ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট সবাই প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ প্রতিরোধে নানা কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেডএম হাছানুর রহমান বলেন, সুন্দরবনে পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ রোধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অধীনে সুন্দরবনে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক নিষিদ্ধকরণ করা হয়েছে। সুন্দরবন রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ প্রতিরোধ এবং প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ বা সচেতনতামূলক  প্লাস্টিকমুক্ত পরিবেশ গড়ার মানসিকতা তৈরি করা হচ্ছে।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)