শিরোনাম:
পাইকগাছা, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

SW News24
বুধবার ● ১ জুলাই ২০২৬
প্রথম পাতা » সুন্দরবন » প্লাস্টিক-পলিথিন দূষণে সুন্দরবন: হুমকির মুখে জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য
প্রথম পাতা » সুন্দরবন » প্লাস্টিক-পলিথিন দূষণে সুন্দরবন: হুমকির মুখে জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য
৮ বার পঠিত
বুধবার ● ১ জুলাই ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

প্লাস্টিক-পলিথিন দূষণে সুন্দরবন: হুমকির মুখে জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের ইকোসিস্টেম ও জীববৈচিত্র্য মানুষের তৈরি প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণের কারণে এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। জোয়ারের জল এবং পর্যটকদের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে বিপুল পরিমাণ অপচনশীল বর্জ্য। এর ফলে শুধু জলজ প্রাণীই নয়, বনের সামগ্রিক উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণীর জীবনচক্র মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য সুন্দরবনের জলজ পরিবেশের ভারসাম্য সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিচ্ছে। সুন্দরবনের ৫৪টি নদী ও খালে প্রতিদিন প্রায় ৫০ টন পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য জমা হচ্ছে। এর ফলে বনের অনন্য বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসের সম্মুখীন এবং জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

পলিথিন ও প্লাস্টিক সূর্যের তাপে ও পানিতে গলে ক্ষুদ্র মাইক্রো প্লাস্টিক-এ পরিণত হয়। দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হওয়ায় শুশুক ও ডলফিন পানির পলিথিনকে জেলিফিশ মনে করে খেয়ে ফেলছে। ভেসে থাকা প্লাস্টিক ও পলিথিনে জড়িয়ে কচ্ছপসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে। মাছ, কাঁকড়া, ডলফিন ও কুমিরসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী এই বিষাক্ত কণা গ্রহণ করছে, যা পরবর্তীতে মানুষের খাদ্যচক্রেও প্রবেশ করছে।

প্লাস্টিকের ক্ষতিকর রাসায়নিক পানির লবণাক্ততার সাথে মিশে মাছের প্রজনন প্রক্রিয়া এবং বৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের প্যাকেট ও জালের কারণে ডলফিন, কচ্ছপসহ অনেক জলজ প্রাণী শ্বাসরুদ্ধ হয়ে বা আহত হয়ে মারা যাচ্ছে। প্লাস্টিক বর্জ্য সুন্দরীসহ অন্যান্য গাছের শ্বাসমূলে আটকে গিয়ে উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকাকে বাধাগ্রস্ত করছে। প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তর নদী ও খালের তলদেশে জমা হয়ে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত করছে।

সুন্দরবনের অভ্যন্তরে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক বা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পুরোপুরি নিষিদ্ধ হলেও পর্যটকদের অসচেতনতা এবং জোয়ারের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী শহর ও নদী রূপসা, পশুর, ভৈরব,শিবসা থেকে প্রতিদিন এই বর্জ্য বনের ভেতরে প্রবেশ করছে।

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে সারা বছরই কম-বেশি দর্শনার্থী থাকেন। দীর্ঘক্ষণ বনের মধ্যে অবস্থান করায় বিভিন্ন ধরনের খাবার ও পানির জন্য অনটাইম প্লাস্টিকের ব্যবহার শেষে এসব প্লাস্টিকের মোড়ক এবং খালি বোতল সুন্দরবনে ফেলে দেওয়া হয়। সুন্দরবনের মধ্যে পর্যটক ও বনজীবীরা যেখানে সেখানে পলিথিন, চিপস, চানাচুর, বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল, একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকের থালা ও কাপ ফেলে থাকে।

বনের যেসব এলাকায় মানুষের যাতায়াত বেশি, সেখানে প্লাস্টিক দূষণও বেশি। তবে পর্যটক ও বনজীবীরা শুধু সুন্দরবনের ভেতরে গিয়েই দূষণ ঘটাচ্ছেন না, বনসংলগ্ন লোকালয় থেকেও এগুলো জোয়ার-ভাটায় নদীর পানিতে ভেসে বনে যায়। বনসংলগ্ন ৮০টি গ্রাম থেকে ৫৪টি নদী-খাল হয়ে জোয়ারের সময় একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকের থালা ও কাপ বনের মধ্যে চলে যাচ্ছে। ফলে প্লাস্টিক বর্জ্যে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি সুন্দরবনের প্রাণিকূলের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন এখন প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণের কারণে মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে। বন বাঁচাতে এবং জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সুন্দরবন ভ্রমণে পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পরিবেশ ও বন বিভাগ নিয়মিত অভিযান ও জরিমানা অব্যাহত রেখেছে, তবে সামগ্রিক সুরক্ষার জন্য উপকূলীয় এলাকায় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো অত্যন্ত জরুরি।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)