শিরোনাম:
পাইকগাছা, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

SW News24
সোমবার ● ৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রথম পাতা » ব্যবসা-বাণিজ্য » পাইকগাছায় মাল্টা চাষে সাড়া ফেলেছেন সফল উদ্যোক্তা জিয়া বিশ্বাস
প্রথম পাতা » ব্যবসা-বাণিজ্য » পাইকগাছায় মাল্টা চাষে সাড়া ফেলেছেন সফল উদ্যোক্তা জিয়া বিশ্বাস
১৪ বার পঠিত
সোমবার ● ৫ অক্টোবর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

পাইকগাছায় মাল্টা চাষে সাড়া ফেলেছেন সফল উদ্যোক্তা জিয়া বিশ্বাস

---প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা ঃ খুলনার পাইকগাছায় মাল্টা চাষে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে জিয়া বিশ্বাসের অবদান স্থানীয় কৃষিতে এক দারুণ অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে। তিনি উপকূলীয় অঞ্চলের প্রতিকূল লবণাক্ত আবহাওয়া ও মাটিকে জয় করে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা আবাদ করে সাফল্য লাভ করেছেন।

সাধারণত পাইকগাছা অঞ্চলের মাটিতে লবণাক্ততার কারণে ঐতিহ্যগত ফসলের বাইরে ভিন্ন কিছু চাষ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করে তিনি এই অসাধ্য সাধন করেছেন।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়ানের মটবাটি গ্রামের সভ্রান্ত ও ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান জিয়া উদ্দিন বিশ্বাস। তিনি সাবেক ব্যাংকার, সৌখিন ও রুচিশীল মানুষ হিসাবে এলাকায় পরিচিত। তিনি সখের বসে মালটা বাগান করলেও পরবর্তীতে বাণিজ্যিকভাবে রুপ নিয়েছে।

জানাগেছে, মটবাটি বাড়ির পাশে নিজের পাঁচ বিঘা জমিতে মালটা বাগান তৈরি করেছেনে। বাগানে ৭শত একটি মালটা গাছ রয়েছে। মালটা বাগান দেখাশুনা ও পরিচর্যা করেন আর এক সফল কৃষক লুৎফর রহমান সানা (লুতু)। প্রথম দিকে বিপনন ব্যাবস্থা ভালো থাকায় আশানারুপ লাভ হয়নি। তবে বিগত বছর থেকে বাগানের মালটা বিক্রি করে আশানারুপ লাভ হচ্ছে। বাগানের প্রতিটা গাছে মালটায় ভরে আছে। মালটার ভরে গাছের ডাল মাটিতে নুয়ে পড়েছে। চলতি মৌসুমে মালটা বাগানের ফল প্রায় ৭লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে এবছর মালটার ব্যাপক চাহিদা ও মূল্য বেশি থাকায় ব্যাবসায়ীরা ক্রয়কৃত বাগানের মালটা প্রায় ১৫ লাখ টাকা বিক্রি হবে বলে তার জানিয়েছে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী উচ্চ ফলনশীল ও খরাসহিষ্ণু বারি মাল্টা-১ জাতটি চাষের জন্য বেছে নেওয়া হয়। এই জাতের মাল্টা আকারে বড়, রসালো এবং অত্যন্ত সুস্বাদু হয়ে থাকে। লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা এড়াতে উঁচু জমি বা নিপুণভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি করে বেলে-দোআঁশ মাটিতে মাল্টা চাষ করা হয়। সঠিক পরিমাণে গোবর সার, ইউরিয়া, টিএসপি এবং পটাশ সার ব্যবহার করে গাছের পুষ্টি নিশ্চিত করা হয়।

মাল্টা চাষ একটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা। একবার গাছ বড় হয়ে ফল দেওয়া শুরু করলে দীর্ঘ কয়েক বছর পর্যন্ত সেখান থেকে নিয়মিত ফলন পাওয়া যায়, যা স্থানীয় বেকারত্ব দূরীকরণে ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

জিয়া বিশ্বাসের এই উদ্যোগ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এখন পাইকগাছার আরও অনেক তরুণ ও কৃষক ঐতিহ্যবাহী চাষাবাদের পাশাপাশি মালটা ফল চাষের দিকে ঝুঁকছেন।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)