শিরোনাম:
পাইকগাছা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

SW News24
শুক্রবার ● ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রথম পাতা » ব্যবসা-বাণিজ্য » পাইকগাছায় পাটের চেয়ে পাটকাঠির চাহিদা বেশি
প্রথম পাতা » ব্যবসা-বাণিজ্য » পাইকগাছায় পাটের চেয়ে পাটকাঠির চাহিদা বেশি
৯ বার পঠিত
শুক্রবার ● ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

পাইকগাছায় পাটের চেয়ে পাটকাঠির চাহিদা বেশি

খুলনার পাইকগাছায় জ্বালানি হিসেবে পাটকাঠি চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। গ্রামের পাশাপাশি এখন শহরাঞ্চলেও রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে পাটকাঠির কদর ও চাহিদা ব্যাপক। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও সহজলভ্যতার কারণে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এর ব্যবহার বাড়ছে।

এক সময়ে গ্রামে রান্নার কাজে ব্যবহৃত অন্যতম প্রধান জ্বালানি ছিল পাটকাড়ি। এছাড়াও গ্রামাঞ্চলে ঘরের বেড়া, ঘর ও চালা নির্মাণে পাটকাড়ি, ফসলের ক্ষেত, মাটির চুলায় রান্নায় পাটকাটি ব্যাবহার হতো। রান্নার জ্বালানি হিসেবে গ্রামের পাশাপাশি শহরের রয়েছে পাটকাড়ির ব্যাপক চাহিদা।

প্রাচীন কাল থেকে রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া, পানের বরজ, গৃহস্থালি সামগ্রীসহ বিভিন্ন সৌখিন পাটজাত পণ্য তৈরির কাজে পাটকাঠির জুড়ি নেই। বর্তমানে বিভিন্ন পার্টিকেল বোর্ড তৈরি ছাড়াও বিভিন্ন কলকারখানায় পাটকাঠি ব্যবহার হচ্ছে। যার ফলে পাটকাঠির মূল্য ক্রমশ বেড়েই চলেছে। একসময় শুধুমাত্র জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হতো পাটকাঠি। এখন পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহারের কারণে কদর বেড়েছে কয়েক গুন।

পাট চাষিরা জানান,পাটের যে বর্তমান বাজারমূল্য তাতে খুব একটা লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না তারা, তবে তুলনামূলকভাবে পাটকাঠির মূল্য আগের চেয়ে অনেক বেশি। পাট বিক্রয় করে খুব বেশি লাভবান না হলেও পাটের কাঠিতে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন চাষিরা।

উপজেলার গোপালপুর গ্রামের পাটচাষী কেরামত সরদার জানান, শ্রমিকের দাম বেশি হওয়ায় পাটের আবাদের খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়। তবে পাটকাঠির দাম বেশি হওয়ায় সেটি পুশিয়ে যাচ্ছে। পাটকাঠির প্রচুর চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় পাট চাষীদের খরচ অনেকাংশে বেচে যাচ্ছে। ছোট ছোট আটি হিসাবে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জ্বালানী হিসাবে গৃহবধুদের কাছে পাটকাঠির চাহিদা খুব বেশি। পাটকাঠি দিয়ে সহজে উনুন জ্বালানো যায় ও সহজে রান্না করা যায়। এইজন্য গৃহবধুদের কাছে পাটকাঠির চাহিদা বেশি।

একসময় পাটের আঁশ ছাড়ানোর পর অবহেলায় পড়ে থাকত পাটকাঠি। রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া কিংবা পানের বরজ তৈরিতে সীমিত ব্যবহারেই ছিল এর কদর। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন পাটকাঠিও হয়ে উঠেছে কৃষকের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস।

একসময় যাকে অবহেলা করা হতো, আজ তা লাভজনক ব্যবসায় রূপ নিয়েছে। পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করে এখন কৃষকরা বাড়তি আয় করছেন, যা তাদের আর্থিক স্বস্তি দিচ্ছে।

উপজেলা কৃষি  অফিসার বলেন, কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, আগে শুধু পাটকাঠি রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন পাটকাঠি দিয়ে ঘরও নির্মাণ, পার্টিক্যাল বোর্ড ও পাটকাঠি পুড়িয়ে এর ছাই দিয়ে কম্পিউটারের প্রিন্টিং মেশিনের কালি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়াও চারকল গুলোতে ব্যাপক হারে ব্যবহার হচ্ছে পাটখড়ি। ফলে চাহিদাও বেড়েছে পাটকাঠির। উপজেলায় উৎপাদিত পাটের গুণগত মান ভালো হওয়ায় এর চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করেও কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)