শিরোনাম:
পাইকগাছা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

SW News24
রবিবার ● ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষায় ওজোন স্তরের ভূমিকা অনস্বীকার্য
প্রথম পাতা » মুক্তমত » প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষায় ওজোন স্তরের ভূমিকা অনস্বীকার্য
৫ বার পঠিত
রবিবার ● ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষায় ওজোন স্তরের ভূমিকা অনস্বীকার্য

 সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে জীববৈচিত্র্যকে সুরক্ষা দিতে বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীর প্রাণিকুল ও প্রকৃতিকে রক্ষা করে। ওজোনস্তরে ওজোনের ঘনত্ব খুবই কম হলেও জীবনের জন্যে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ওজোন স্তর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একটি প্রাকৃতিক বর্ম। সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি  শোষণ করে প্রকৃতি ও জীবজগৎকে রক্ষা করে। বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে থাকা এই ওজোন গ্যাস সূর্যের প্রায় ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশ ক্ষতিকর রশ্মি আটকে দেয়, যার ফলে পৃথিবীতে জীবন ধারণ সম্ভব হয়েছে।

ওজোন স্তর হচ্ছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একটি স্তর যেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি মাত্রায় ওজোন গ্যাস থাকে। এই স্তর থাকে প্রধানত স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের নিচের অংশে, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে কমবেশি ২০-৩০ কিমি উপরে অবস্থিত। সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি এটি শোষণ করে নেয়। ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর মধ্যম মাত্রার (তরঙ্গদৈর্ঘ্যের) শতকরা ৯৭-৯৯ অংশই শোষণ করে নেয়, যা কিনা ভূ-পৃষ্ঠে অবস্থানরত উদ্ভাসিত জীবনসমূহের সমূহ ক্ষতিসাধন করতে সক্ষম। এই ক্ষতিকর রশ্মি পৃথিবীর জীবজগতের সকল প্রাণের প্রতি তীব্র হুমকি স্বরূপ। বায়ুমন্ডলের ওজোন স্তর প্রতিনিয়তই এই মারাত্নক ক্ষতিকর অতিবেগুণী রশ্নিগুলোকে প্রতিহত করে পৃথিবীর প্রাণিকুলকে রক্ষা করছে।

ফরাসী পদার্থবিদ চার্লস ফ্যব্রি এবং হেনরি বুইসন ১৯১৩ সালে ওজোন স্তর আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে ব্রিটিশ আবহাওয়াবিদ জি এম বি ডবসন ওজোনস্তর নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেন। ১৯২৮ সাল থেকে ১৯৫৮ সালের মধ্যে তিনি ওজোন পর্যবেক্ষণ স্টেশনসমূহের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেন।

ওজোন স্তর ক্ষয় ও এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী গণসচেতনতা তৈরিতে প্রতি বছর ১৬ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক ওজোন দিবস পালন করা হয়। ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বায়ুমন্ডলের ওজোন স্তর ক্ষয়ের জন্য দায়া দ্রব্যগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ বা সামিত করার লক্ষ্যে ভিয়েনা কনভেশনের আওতায় ওজোন স্তর ধ্বংসকারী পদার্থের ওপর মন্ট্রিল প্রটোকল গৃহীত হয়। ওজোন স্তরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ভূমিকার জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ওজোন লেয়ার সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনীত করেছে।

প্রকৃতি ও মানবজাতি সুরক্ষায় ওজোন স্তরের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি ত্বকে লাগলে ত্বকের ক্যানসার এবং হাড়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। ওজোন স্তর এই রশ্মি আটকে আমাদের সুরক্ষিত রাখে। অতিরিক্ত মাত্রায় ইউভি রশ্মি পৃথিবীতে প্রবেশ করলে মানুষের চোখে ছানি পড়াসহ নানাবিধ চোখের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এটি মানুষের ডিএনএ  ক্ষতি হওয়া থেকে বাঁচায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট রাখে।

জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাবাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় ওজোন স্তরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ওজোন স্তর ক্ষয় হলে তীব্র তাপের কারণে স্থল ও জলভাগের সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হয়। অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, ফলে ফসলের উৎপাদন কমে যায় এবং বনায়ন হুমকির মুখে পড়ে। সমুদ্রের ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন (তৃণজাতীয় অণুজীবাণু) অতিবেগুনি রশ্মির কারণে ধ্বংস হতে পারে, যা সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলকে সম্পূর্ণ বিপন্ন করে তোলে।

ওজোন স্তর রক্ষায় আমাদের করণীয়। মানুষের তৈরি কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক, যেমন ক্লোরোফ্লুরোকার্বন, যা রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার এবং অ্যারোসল স্প্রে থেকে নির্গত হয়, তা ওজোন স্তরকে ধ্বংস করছে। এটি সুরক্ষায় বিশ্বজুড়ে মন্ট্রিল প্রটোকল বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমাদের উচিত পরিবেশবান্ধব ও সিএফসি-মুক্ত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)