শিরোনাম:
পাইকগাছা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

SW News24
রবিবার ● ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষায় ওজোন স্তরের ভূমিকা অনস্বীকার্য
প্রথম পাতা » মুক্তমত » প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষায় ওজোন স্তরের ভূমিকা অনস্বীকার্য
১০৬ বার পঠিত
রবিবার ● ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষায় ওজোন স্তরের ভূমিকা অনস্বীকার্য

---প্রকাশ ঘোষ বিধান

ওজোন স্তর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত এমন একটি প্রাকৃতিক গ্যাসের আবরণ যা সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি  শোষণ করে পৃথিবীর প্রকৃতি,মানবজাতি ও জীববৈচিত্র্যকে রক্ষা করে। সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে জীববৈচিত্র্যকে সুরক্ষা দিতে বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

ওজোন স্তর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একটি প্রাকৃতিক বর্ম। বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে থাকা এই ওজোন গ্যাস সূর্যের প্রায় ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশ ক্ষতিকর রশ্মি আটকে দেয়,যার ফলে পৃথিবীতে জীবন ধারণ সম্ভব হয়েছে। ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীর প্রাণিকুল ও প্রকৃতিকে রক্ষা করে। ওজোন স্তরে ওজোনের ঘনত্ব খুবই কম হলেও জীবনের জন্যে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ওজোন স্তর হচ্ছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একটি স্তর যেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি মাত্রায় ওজোন গ্যাস থাকে। এই স্তর থাকে প্রধানত স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের নিচের অংশে, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে কমবেশি ২০-৩০ কিমি উপরে অবস্থিত। সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি এটি শোষণ করে নেয়। ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর মধ্যম মাত্রার শতকরা ৯৭-৯৯ অংশই শোষণ করে নেয়, যা কিনা ভূ-পৃষ্ঠে অবস্থানরত উদ্ভাসিত জীবনসমূহের সমূহ ক্ষতিসাধন করতে সক্ষম। এই ক্ষতিকর রশ্মি পৃথিবীর জীবজগতের সকল প্রাণের প্রতি তীব্র হুমকি স্বরূপ। বায়ুমন্ডলের ওজোন স্তর প্রতিনিয়তই এই মারাত্নক ক্ষতিকর অতিবেগুণী রশ্নিগুলোকে প্রতিহত করে পৃথিবীর প্রাণিকুলকে রক্ষা করছে।

ফরাসী পদার্থবিদ চার্লস ফ্যব্রি এবং হেনরি বুইসন ১৯১৩ সালে ওজোন স্তর আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে ব্রিটিশ আবহাওয়াবিদ জি এম বি ডবসন ওজোনস্তর নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেন। ১৯২৮ সাল থেকে ১৯৫৮ সালের মধ্যে তিনি ওজোন পর্যবেক্ষণ স্টেশনসমূহের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেন।

ওজোন স্তর ক্ষয় ও এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী গণসচেতনতা তৈরিতে প্রতি বছর ১৬ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক ওজোন দিবস পালন করা হয়। ওজোন স্তরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ভূমিকার জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ওজোন লেয়ার সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনীত করেছে। ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বায়ুমন্ডলের ওজোন স্তর ক্ষয়ের জন্য দায়া দ্রব্যগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ বা সামিত করার লক্ষ্যে ভিয়েনা কনভেশনের আওতায় ওজোন স্তর ধ্বংসকারী পদার্থের ওপর মন্ট্রিল প্রটোকল গৃহীত হয়।

প্রকৃতি ও মানবজাতি সুরক্ষায় ওজোন স্তরের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি ত্বকে লাগলে ত্বকের ক্যানসার এবং হাড়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। ওজোন স্তর এই রশ্মি আটকে আমাদের সুরক্ষিত রাখে। অতিরিক্ত মাত্রায় ইউভি রশ্মি পৃথিবীতে প্রবেশ করলে মানুষের চোখে ছানি পড়াসহ নানাবিধ চোখের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এটি মানুষের ডিএনএ  ক্ষতি হওয়া থেকে বাঁচায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট রাখে।

জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাবাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় ওজোন স্তরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ওজোন স্তর ক্ষয় হলে তীব্র তাপের কারণে স্থল ও জলভাগের সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হয়। অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, ফলে ফসলের উৎপাদন কমে যায় এবং বনায়ন হুমকির মুখে পড়ে। সমুদ্রের ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন অতিবেগুনি রশ্মির কারণে ধ্বংস হতে পারে, যা সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলকে সম্পূর্ণ বিপন্ন করে তোলে।

মানুষের তৈরি বিভিন্ন রাসায়নিক গ্যাস, ক্লোরোফ্লুরোকার্বন, হ্যালন, কার্বন টেট্রাক্লোরাইড এবং মিথাইল ব্রোমাইড ওজোন স্তর ধ্বংসের জন্য প্রধানত দায়ী। এগুলো মূলত রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার এবং অ্যারোসল স্প্রে থেকে নির্গত হয়। যা ওজোন স্তর ক্ষয়ের কারণ ও ওজোন স্তরকে ধ্বংস করছে।

ওজোন স্তর রক্ষায় আমাদের করণীয়। ওজোন স্তর রক্ষার্থে ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ওজোন স্তর রক্ষা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি বা মন্ট্রিয়ল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ক্ষতিকর গ্যাস নিষিদ্ধকরণে সফল ভূমিকা রাখছে। এটি সুরক্ষায় বিশ্বজুড়ে মন্ট্রিল প্রটোকল বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমাদের উচিত পরিবেশবান্ধব ও সিএফসি-মুক্ত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ওজোন স্তর রক্ষায় সচেতনতা বজায় রাখা জরুরি।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)