শিরোনাম:
পাইকগাছা, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

SW News24
শুক্রবার ● ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » সাংবাদিকরা যখন রাজনৈতিক নেতা; সাধারণ সাংবাদিকরা তখন ঝুঁকিতে
প্রথম পাতা » মুক্তমত » সাংবাদিকরা যখন রাজনৈতিক নেতা; সাধারণ সাংবাদিকরা তখন ঝুঁকিতে
৪ বার পঠিত
শুক্রবার ● ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

সাংবাদিকরা যখন রাজনৈতিক নেতা; সাধারণ সাংবাদিকরা তখন ঝুঁকিতে

---সাংবাদিকরা যখন সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক দল বা ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক নেতা হয়ে ওঠেন, তখন মাঠপর্যায়ের এবং সাধারণ সাংবাদিকদের পেশাগত ঝুঁকি ও নানামুখী সংকট অনেক গুণ বেড়ে যায়।

কোনো সাংবাদিক বা মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সরাসরি রাজনৈতিক নেতা বনে গেলে, সামগ্রিক সাংবাদিকতা পেশাটির নিরপেক্ষতা নিয়ে সাধারণ জনগণের মনে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়। কোনো গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তি বা প্রভাবশালী সাংবাদিক রাজনৈতিক দলভুক্ত হলে, পুরো প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাসযোগ্যতা সংকটে পড়ে। সাধারণ ও মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা যখন কোনো বস্তুনিষ্ঠ বা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে যান, তখন তাদের সহজেই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের এজেন্ট বা পক্ষপাতদুষ্ট বলে তকমা দেওয়া হয়।

সাংবাদিক থেকে নেতা হওয়া ব্যক্তিরা প্রায়ই চান তাদের সাবেক সহকর্মীরা বা তাদের অধীনস্থ মিডিয়া হাউসগুলো তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা প্রচার করুক।  সাধারণ সাংবাদিকরা যখন কোনো রাজনৈতিক নেতার মালিকানাধীন বা প্রভাবাধীন গণমাধ্যমে কাজ করেন, তখন তারা স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশ করতে পারেন না। এতে পুরো সাংবাদিক সমাজের ওপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যায়।

একজন প্রভাবশালী সাংবাদিক যখন নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা হয়ে ওঠেন, তখন প্রতিপক্ষ দলগুলো পুরো সাংবাদিক সমাজ বা ওই নির্দিষ্ট গণমাধ্যমকে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মনে করতে শুরু করে। এর ফলে মাঠপর্যায়ে সাধারণ সাংবাদিকরা আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন।

ক্ষমতার পালাবদল হলে বা রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টালে, নতুন ক্ষমতাসীনরা আগের রাজনৈতিক সাংবাদিকদের পাশাপাশি সাধারণ সাংবাদিকদেরও সন্দেহের চোখে দেখে। এর ফলে মিথ্যা মামলা, হয়রানি এবং গ্রেফতারের ঝুঁকি বাড়ে। মিডিয়া হাউসগুলোর ভেতরে পেশাগত যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্য বেশি গুরুত্ব পায়। যারা নিরপেক্ষ থাকতে চান বা ভিন্ন মত পোষণ করেন, তারা পদোন্নতি বঞ্চিত হন। রাজনৈতিক নেতার মর্জির বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ করলে বা দলীয় লাইনে কাজ না করলে সাধারণ সাংবাদিকদের চাকরি হারানোর স্থায়ী ঝুঁকিতে থাকতে হয়।

সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার জন্য যেসব ইউনিয়ন বা প্রেস ক্লাব রয়েছে, সেগুলোর নেতৃত্বে যখন রাজনৈতিক দলের অনুসারীরা চলে আসেন, তখন তারা সাংবাদিকদের স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দেন। ফলে সাধারণ সাংবাদিকরা নির্যাতিত বা চাকরিচ্যুত হলেও এই সংগঠনগুলো থেকে কার্যকর কোনো সহায়তা পান না।

সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বা ইউনিয়নগুলো যখন রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তখন সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়ে। সাধারণ সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড, বেতন-ভাতা বা পেশাগত সুরক্ষার চেয়ে দলীয় লেজেড়বৃত্তি ও পদ-পদবি পাওয়ার প্রতিযোগিতা মুখ্য হয়ে ওঠে। ফলে সাধারণ ও সৎ সাংবাদিকরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন।

সাংবাদিকতা যখন রাজনৈতিক ক্ষমতার হাতিয়ারে পরিণত হয়, তখন মাঠপর্যায়ে সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে সাধারণ সাংবাদিকদের জীবন ও জীবিকা উভয়ই চরম হুমকির মুখে পড়ে।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)