শুক্রবার ● ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে
পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে
পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে মাটি, পানি ও বায়ুদূষণ মারাত্মকভাবে বাড়ছে। পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে বিশ্বব্যাপী এবং আমাদের দেশে পরিবেশ দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এটি বর্তমান যুগের অন্যতম বড় পরিবেশগত হুমকি।
প্লাস্টিক এমন একটি অপচনশীল উপাদান, যা শত শত বছরেও মাটির সাথে মিশে যায় না। ফলে এটি আমাদের বাস্তুতন্ত্র, জনস্বাস্থ্য এবং জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি করছে। প্লাস্টিক মাটিতে আলো ও বাতাস চলাচলে বাধা দেয়। এর ফলে মাটির প্রয়োজনীয় ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীব মারা যায় এবং মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়। প্লাস্টিক বর্জ্য পুড়িয়ে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হলে তা থেকে বিষাক্ত ডাইঅক্সিন ও হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস নির্গত হয়, যা বায়ুমণ্ডলকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে।
অপ্রকৃতিজাত বা নন-বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক ও পলিথিন সহজে পচে না বা মাটির সাথে মিশে যায় না। এগুলো শত শত বছর মাটিতে অক্ষত থেকে মাটির স্বাভাবিক পুষ্টি ও উর্বরতা নষ্ট করে এবং গাছপালার বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। যত্রতত্র ফেলে দেওয়া পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য শহরের ড্রেন, নর্দমা ও সুয়ারেজ লাইনে জমে গিয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই কৃত্রিম বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
নদী ও সাগরে প্লাস্টিক বর্জ্য নিক্ষেপের ফলে পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। সামুদ্রিক প্রাণী ও মাছ এগুলোকে খাবার মনে করে গ্রহণ করায় প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে, যা জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি। এছাড়া গবাদিপশু পলিথিন খেয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। প্লাস্টিক ভেঙে অত্যন্ত ক্ষুদ্র মাইক্রোপ্লাস্টিক-এ পরিণত হয়। এই মাইক্রোপ্লাস্টিক মাছ ও ফসলের মাধ্যমে মানুষের খাদ্য তালিকায় প্রবেশ করছে। প্লাস্টিক পোড়ালে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস (যেমন ডাইঅক্সিন) ক্যানসার ও শ্বাসকষ্টের মতো মারাত্মক ব্যাধি সৃষ্টি করে।
প্রতিরোধে আমাদের করণীয় ও জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। পলিথিনের পরিবর্তে পাটের ব্যাগ, কাপড়ের ব্যাগ বা কাগজের থলে ব্যবহার করা। থ্রি-আর (3R) নীতি অনুসরণ করা: ব্যবহার কমানো বারবার ব্যবহার করা এবং রিসাইকেল করা। প্লাস্টিক বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলা। আইনগত নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। সাধারণ মানুষকে প্লাস্টিক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে হবে এবং বর্জ্য সঠিকভাবে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।
পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বর্তমানে আমাদের পরিবেশের জন্য অন্যতম বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে দেশে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটছে, যা রোধে সরকার ও প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকদের নিয়ে এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপন্সিবিলিটি (ইপিআর) নির্দেশিকা চালু করা হয়েছে।






ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়
বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে
সাংবাদিকরা যখন রাজনৈতিক নেতা; সাধারণ সাংবাদিকরা তখন ঝুঁকিতে
ভারতীয় কেন্দ্রীয় আইনসভা নির্বাচনে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন নজরুল
সুযোগসন্ধানী না হয়ে সাংবাদিকের দায়বদ্ধতা জরুরি
বৃষ্টির পর সন্ধ্যায় মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা ডানাওয়ালা পোকা
মানবতার সেবায় মাদার তেরেসা
বিল ডাকাতিয়ার স্থায়ী জলাবদ্ধতা; কৃষকের কান্না 