শিরোনাম:
পাইকগাছা, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

SW News24
রবিবার ● ৭ জুন ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » শিকারি সাংবাদিকতা
প্রথম পাতা » মুক্তমত » শিকারি সাংবাদিকতা
২ বার পঠিত
রবিবার ● ৭ জুন ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

শিকারি সাংবাদিকতা

শিকারি সাংবাদিকতা  হলো এমন এক বিশেষ ধারার সাংবাদিকতা, যা বস্তুনিষ্ঠতা ও নৈতিকতা বাদ দিয়ে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি প্রধানত কাউকে হেনস্থা করা, চরিত্রহনন, কিংবা মুহূর্তের মধ্যে কোনো প্রমাণ ছাড়াই কাউকে অপরাধী হিসেবে প্রমাণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

শিকারি সাংবাদিকতা হলো কোনো বিশেষ রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক বিস্তারের ফলে এই ক্ষতিকর প্রবণতা ও এর নেতিবাচক প্রভাব আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

শিকারি সাংবাদিকতার প্রভাব বাংলাদেশে ক্রমশ বাড়ছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো বিশেষ রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিলের জন্য কাউকে মুহূর্তের মধ্যে অপরাধী হিসেবে চিত্রিত করা। গণমাধ্যম, গোয়েন্দা সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় শক্তির একাংশের যোগসাজশে এই ধরনের চর্চা অতীতে বিরোধীমত দমন ও ভয়ের রাজত্ব কায়েম করতে ব্যবহৃত হয়েছে।

শিকারি সাংবাদিকতার অন্যতম ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে সামাজিকভাবে বা মানসিকভাবে ধ্বংস করার লক্ষ্য নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা। মিথ্যা তথ্য বা গোপন ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা।

সাংবাদিকদের মধ্যে চাকরি হারানো, স্বাধীনতাবিরোধী বা ফ্যাসিবাদী তকমা পাওয়ার ভয় কাজ করায় অনেকেই মালিকপক্ষের অনৈতিক এজেন্ডা মেনে নিতে বাধ্য হন। কোনো প্রমাণ ছাড়াই সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা অনুযায়ী সংবাদ প্রকাশ করে মুহূর্তের মধ্যে কাউকে জনসমক্ষে অপরাধী বানিয়ে দেওয়া হয় এবং সামাজিক ও আইনি শাস্তির মুখোমুখি করা হয়। একজনকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে বাকিদের বার্তা দেওয়া হয় যেন কেউ নির্দিষ্ট ক্ষমতার সীমানার বাইরে যাওয়ার সাহস না করে।এমন ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয় যা, এর পরোক্ষ শিকার হয় পুরো সমাজ।

শিকারি সাংবাদিকতার প্রধান বৈশিষ্ট্য উদ্দেশ্য প্রণোদিত চরিত্র হনন করা। সংবাদমাধ্যম বা অনলাইন পোর্টালে চটকদার ও বিভ্রান্তিকর শিরোনাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্র হনন করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে ভিউ বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় অনেক পোর্টাল অর্থের বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশ করে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের মতো অপরাধে জড়াচ্ছে।  তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের আগেই কাউকে সমাজে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে হেনস্থা করা, যা দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির একটি অংশ।

সাংবাদিকরা সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেন। সাংবাদিকরা সমাজের রক্ষী বা ওয়াচডগ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু  রক্ষী বা ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করার পরিবর্তে, কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করা সাংবাদিকতার মধ্যে পড়ে না। সংবাদ প্রতিবেদন এর নামে যখন শিকারি এজেন্ডা সাধারণ মানুষকে খাওয়ানো হয়, তখন দেশের সামগ্রিক বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ধ্বংস হয়ে যায়।

প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং বিপুল সংখ্যক নিয়ন্ত্রণহীন অনলাইন নিউজ পোর্টালের উত্থানের ফলে এই ধরনের সাংবাদিকতা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই অপসাংবাদিকতা রোধে গণমাধ্যমকর্মীদের নৈতিকতা, বস্তুনিষ্ঠতা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)