বৃহস্পতিবার ● ২৮ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » বিশ্ব সাইকেল দিবস
বিশ্ব সাইকেল দিবস
প্রকাশ ঘোষ বিধান
৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস। সাইকেলের অনন্যতা, দীর্ঘস্থায়িত্ব ও বহুমুখীতাকে উদযাপন এবং পরিবহন মাধ্যম হিসেবে এর ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে ২০১৮ সালে জাতিসংঘ এই দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। প্রতিবছর জুন মাসের ৩ তারিখে সমগ্র বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় সাইকেল দিবস। এর মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে দৈনন্দিন ছোটখাটো যাতায়াতে সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত করা।
২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রসংঘর সাধারণ সভায় ৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস হিসেবে উদ্যাপন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। পরিবেশবান্ধব, সহজলভ্য এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এই বাহনটির ব্যবহার বাড়াতে সচেতনতা তৈরি করা দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশে প্রতি বছর এই দিনে বিভিন্ন সাইক্লিং কমিউনিটি এবং পরিবেশবাদী সংগঠন নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে। বিশ্ব সাইকেল দিবস বর্তমান সুস্থ জীবন নির্বাহ পদ্ধতিকে প্রচারের জন্য অনুষ্ঠিত করা হয়। সাইকেল চালানো স্বাস্থ্যর জন্য লাভকারক। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট সাইকেল চালালে তা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বহুলাংশে কমাতে সাহায্য করে। সাইকেল চালালে মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন বা সুখ হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মনকে ফুরফুরে রাখে এবং ঘুমের গুণগত মান বাড়ায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর অধ্যাপক লেসজেক সিবিলস্কি তার সমাজশাস্ত্রের শ্রেণিতে তৃণ-মূল পর্যায়ে বিশ্ব সাইকেল দিবসের রাষ্ট্রসংঘর স্বীকৃতির জন্য এক অভিযানের সূচনা করেছিলেন। ২০১৫ সালে সিবিলস্কি একটি একাডেমিক প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেন। পরে তার এই অভিযান তুর্কমেনিস্তানকে নিয়ে ৫৬ টি দেশের সমর্থন লাভ করে। এই প্রকল্পটি একটি বড় আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত বাইসাইকেলের জন্য জাতিসংঘ একটি দিন নির্ধারিত করে। ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র সর্বসম্মতিক্রমে ৩ জুনকে বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
সাইকেল কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি ছাড়াই চলে, যা কার্বন নির্গমন এবং বায়ু দূষণ কমাতে সরাসরি সাহায্য করে। নিয়মিত সাইকেল চালালে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে, পেশী শক্তিশালী হয় এবং অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। এটি অত্যন্ত কম খরচে যাতায়াতের একটি নির্ভরযোগ্য ও সহজ মাধ্যম। যানজট মুক্ত শহর ও টেকসই নগর পরিবহনের মডেল তৈরিতে সাইকেলের ভূমিকা অপরিসীম।
নিয়মিত সাইকেল চালানো বা সাইক্লিং শারীরিক ও মানসিক উভয় স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী একটি অ্যারোবিক ব্যায়াম। সাইক্লিং হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ও রক্ত সঞ্চালনকে উন্নত করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। তীব্র গতিতে সাইকেল চালালে ঘণ্টায় প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ ক্যালোরি পর্যন্ত বার্ন করা সম্ভব, যা শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে দারুণ ভূমিকা রাখে। এটি পায়ের মাংসপেশি শক্তিশালী করে এবং জয়েন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ না ফেলেই হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে।
বিশ্ব সাইকেল দিবস সমগ্র বিশ্বে জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ, বয়স ভেদে উদ্যাপন করা হয়। সাইকেল মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের এক প্রতীক। বাইসাইকেল এমন একটি যানবাহন যা সমাজের একজন ধনী থেকে গরিব পর্যন্ত সবাই বহন করতে পারে। এটি বায়ু দুষণ কমায়। ট্রাফিক যানজট নিরসন করে। সমাজের বিভিন্ন দিকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ইহা সহনশীলতা, পারস্পরিক বোঝাবুঝি এবং শ্রদ্ধা বৃদ্ধি করার সঙ্গে সামাজিক সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক শান্তি প্রদান করে।
সাইকেল মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের প্রতীক। এটা সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়ানো, সামাজিক বন্ধন এবং সংস্কৃতির বাহন হিসেবে কাজ করে। জাতিসংঘ সাইকেলকে শান্তি, সহনশীলতা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্য উপযুক্ত যানবাহন হিসেবে পরিচয় করিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হচ্ছে বাইসাইকেল। বিশেষ করে উন্নত দেশের মানুষ সাইকেলের দিকে ঝুঁকছে বেশি।
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট






কার্পেটিং শক্ত হতে প্রকৌশলগত সময়ের প্রয়োজন; কাঁচা কার্পেটিং তুলে ফেলার প্রবণতা রুখতে হবে
জনসংখ্যা একটি দেশের সম্পদ এবং সমস্যা উভয়ই হতে পারে
বুদ্ধির খেলা দাবা
আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবস
নৈতিকতার অবক্ষয়ের কারণে সাংবাদিকই এখন সাংবাদিকের বড় শত্রু
বর্ষাকাল উপকূলীয় মানুষের জন্য বিপদসংকুল সময়
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি
বিশ্বজুড়ে সংকটে শরণার্থী
সংগীত মানুষের মনে নাড়া দেয় 