শিরোনাম:
পাইকগাছা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

SW News24
শুক্রবার ● ২৯ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » সড়কে অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকারে বাড়ছে দুর্ঘটনা
প্রথম পাতা » মুক্তমত » সড়কে অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকারে বাড়ছে দুর্ঘটনা
৪২ বার পঠিত
শুক্রবার ● ২৯ মে ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

সড়কে অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকারে বাড়ছে দুর্ঘটনা

---  প্রকাশ ঘোষ বিধান

সড়কে স্পিড ব্রেকার দেওয়া হয় মূলত গাড়ির গতি কমানোর জন্য। কিন্তু অপরিকল্পিত অবস্থানে ত্রুটিপূর্ণ নকশার স্পিড ব্রেকার মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করে দুর্ঘটনা কমানোর জন্য স্পিড ব্রেকার তৈরি করা হলেও, নির্দিষ্ট নিয়মনীতি না মেনে তৈরি করা অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকারগুলো চালক ও যাত্রীদের জন্য মারাত্মক জীবননাশের কারণ বা মৃত্যুফাঁদ তৈরি হয়। সঠিক উচ্চতা না থাকা, রং না করা বা সতর্কবার্তা না থাকার কারণে এটি গাড়ির ক্ষতি, চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং বড় দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সাধারণত সড়কে দুর্ঘটনা হ্রাস করতে সড়ক-মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে স্পিড ব্রেকার দেওয়া হয়। তবে স্পিড ব্রেকারে সংকেত বা চিহ্নের অভাবে দুর্ঘটনা বাড়ছে। বেশিরভাগ স্পিড ব্রেকারে দূর থেকে চেনার জন্য সাদা-হলুদ রঙের কোনো রোড মার্কিং বা রিফ্লেক্টিভ পেইন্ট থাকে না।  স্পিড ব্রেকার আসার আগে সড়কে কোনো সতর্কীকরণ সাইন বোর্ড থাকে না।  রাতে বা কুয়াশার মধ্যে চালকরা হুট করে সামনে চলে আসা গতিরোধক দেখতে পান না, ফলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে।

রাস্তায় গাড়ির গতি কমানোর জন্য স্পিড ব্রেকার দেওয়া হলেও, অপরিকল্পিত ও নিয়মবহির্ভূত স্পিড ব্রেকার মারাত্মক বিপদজনক। অনেক সময় গতিরোধকগুলো আদর্শ উচ্চতার চেয়ে অনেক বেশি উঁচু ও খাড়া করে তৈরি করা হয়। তীব্র গতিতে থাকা একটি গাড়ি বা মোটরসাইকেল যখন হঠাৎ এই উঁচু ও খাড়া বাধাটি পার হয়, তখন সেটি শূন্যে লাফিয়ে ওঠে এবং চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।

মোটরসাইকেল বা স্কুটারের চাকা ছোট হওয়ায় এগুলো স্পিড ব্রেকারে সবচেয়ে বেশি ভারসাম্য হারায়। চালক ও আরোহী ছিটকে পিচঢালা রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হন। সামনের গাড়িটি স্পিড ব্রেকার দেখে হঠাৎ ব্রেক চাপলে, পেছনের দ্রুতগতির গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে পেছনের দিক থেকে ধাক্কা দেয়।

স্পিড ব্রেকার কোনো সমস্যার সমাধান নয় বরং এটি অনেক সমস্যা তৈরি করে। অনেক স্পিড ব্রেকার খুব উঁচু বা এবড়োখেবড়ো হয়। দ্রুতগতির গাড়ি বা মোটরসাইকেল হঠাৎ এমন স্পিড ব্রেকারে উঠলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং গাড়ি উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। অনেক স্থানে কোনো রকম দিকনির্দেশক চিহ্ন, সতর্কবার্তা বা স্পিড ব্রেকারের উপর সাদা দাগ দেওয়া থাকে না। রাতের বেলা বা কুয়াশায় চালকরা দূর থেকে তা দেখতে পান না, ফলে হঠাৎ ব্রেক কষে দুর্ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত উঁচু স্পিড ব্রেকারের কারণে গাড়ির চেসিস, এক্সেল, ও সাসপেনশনে মারাত্মক চাপ পড়ে। দীর্ঘমেয়াদে গাড়ির ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশের বড় ধরনের ক্ষতি হয়। ঝাঁকুনির কারণে যাত্রীদের, বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের শারীরিক সমস্যা হয়। এছাড়াও এটি মানবদেহের মেরুদণ্ড ও কোমরের দীর্ঘমেয়াদী ব্যথার কারণ হতে পারে। অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস বা পুলিশের মতো জরুরি সেবার গাড়িগুলো দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। তীব্র ঝাঁকুনিতে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগীদের অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হতে পারে।

অপরিকল্পিত ও নিয়মবহির্ভূত স্পিড ব্রেকারের কারণে যানবাহনের ক্ষতি ও পরিবেশ দূষণ ও গাড়ির পার্টস নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গাড়ির নিচের অংশ  স্পিড ব্রেকারে ঘষা লেগে সাইলেন্সার পাইপ, ইঞ্জিন অয়েল প্যান এবং সাসপেনশন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  প্রতিটি স্পিড ব্রেকারে গাড়ি পুরোপুরি থামিয়ে আবার প্রথম গিয়ার থেকে গতি তুলতে হয়। এতে প্রচুর বাড়তি জ্বালানি অপচয় হয় এবং বায়ু দূষণ বাড়ে। ঘন ঘন স্পিড ব্রেকারের কারণে গাড়ি বারবার থামাতে হয় ও গতি বাড়াতে হয়, যা প্রচুর জ্বালানি অপচয় করে ও পরিবেশ দূষণ বাড়ায়।

স্পিড ব্রেকার মূলত চালকদের গতি কমাতে বাধ্য করে, তবে অপরিকল্পিত বা নিয়মবহির্ভূত স্পিড ব্রেকার মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ত্রুটিপূর্ণ স্পিড ব্রেকার গাড়ি উল্টে যাওয়া ও ভয়াবহ মেরুদণ্ডের আঘাতের ঝুঁকি বাড়ায় এবং গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত করে।

ত্রুটিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকার কীভাবে সড়ক নিরাপত্তায় নতুন ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সড়ক নিরাপদ রাখতে হাইওয়ে বা প্রধান সড়কগুলো থেকে অপরিকল্পিত গতিরোধক অপসারণ করা এবং আবশ্যিক স্থানে নির্দিষ্ট মাপ ও রিফ্লেক্টিভ রঙ ব্যবহার করে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)