রবিবার ● ৩ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » সাংবাদিকরাও শ্রমিক
সাংবাদিকরাও শ্রমিক
প্রকাশ ঘোষ বিধান
সাংবাদিকরা শ্রমজীবী মানুষ হিসেবে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিক। বাংলাদেশে সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো শ্রম অধিদপ্তরের আওতায় নিবন্ধিত এবং সাংবাদিকরা মজুরি ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার অধিকারী। তবে, সরকার গণমাধ্যম কর্মী আইন অনুমোদনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের শ্রমিক এর পরিবর্তে গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করছে, যা তাদের শ্রমজীবী মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশে সাংবাদিকতা আইনগতভাবে একটি শ্রমঘন পেশা হিসেবে স্বীকৃত এবং সাংবাদিকরা মূলত বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রমের মাধ্যমেই তাদের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী, সংবাদপত্রের সাংবাদিক ও কর্মচারীরা ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট অ্যান্ড আদার নিউজপেপার এমপ্লয়িজ অ্যাক্ট এর আওতায় শ্রমিক হিসেবে গণ্য হন। বাংলাদেশে সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীন শ্রম অধিদপ্তরের আওতায় নিবন্ধিত। সাংবাদিক এবং সংবাদপত্রের কর্মচারীদের অধিকার রক্ষায় নির্দিষ্ট আইনও রয়েছে।
অন্যান্য শ্রমিকের মতো সাংবাদিকরাও মেধা ও শ্রমের বিনিময়ে বেতন বা মজুরি গ্রহণ করেন। সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ, প্রতিবেদন তৈরি এবং সম্পাদনার জন্য দীর্ঘ সময় ও কঠোর পরিশ্রম করেন। সাংবাদিকরা পেশাগতভাবে কগনিটিভ লেবার বা মেধাভিত্তিক শ্রম প্রদান করেন, যা তাদের শ্রমজীবী মানুষের কাতারে শামিল করে।
বাংলাদেশে আইনগতভাবে সাংবাদিকরা শ্রমিক হিসেবে গণ্য হন। শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী, গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক, কলাকুশলী ও কর্মচারীরা শ্রমিকদের প্রাপ্য অধিকার ও সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য। তবে নতুন গণমাধ্যম কর্মী (চাকরির শর্তাবলি) আইন পাসের প্রক্রিয়াধীন থাকায়, তাদের শ্রমিক-এর পরিবর্তে গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে অভিহিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সাংবাদিকতা একটি অত্যন্ত সৃজনশীল, গতিশীল এবং দায়িত্বশীল পেশা। এটি কেবল তথ্য সংগ্রহ ও পরিবেশন নয়, বরং তথ্যকে আকর্ষণীয় ও বোধগম্য করে পাঠকের সামনে তুলে ধরার একটি শৈল্পিক প্রক্রিয়া। কথায় আছে, ভিক্ষুকের পায়ে লক্ষ্মী। ভিক্ষুক যত দুয়ারে পৌঁছায়, ততো তার ঝুলি ভরবে। সেটা হলো টাকা পয়সা চাওয়া পাওয়া। আর একজন সাংবাদিক যত হাটবে; ততই তিনি তথ্য পাবেন। তথ্য সংবাদের খোরক, যত তথ্য ততোধিক সমৃদ্ধ। সততা, মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই সাংবাদিক বিকিশিত হন। আর সাংবাদিক শ্রম ও মেধা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
সাংবাদিকরাও শ্রমিক। আইনগতভাবে এবং শ্রমের প্রকৃতির দিক থেকে সাংবাদিকরা শ্রমজীবী মানুষ, কারণ তারা তাদের শ্রম ও মেধা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তারা তথ্য সংগ্রহ, সংবাদ লিখন, সম্পাদনা ও সম্প্রচারের মতো বুদ্ধিবৃত্তিক ও শারীরিক শ্রম প্রদান করেন। সাংবাদিকরা প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করেন, নিয়মিত বেতন গ্রহণ করেন এবং সাধারণত কঠোর সময়সীমা ও চাপের মধ্যে কাজ করেন।
সব ধরনের গণমাধ্যম কর্মীর জন্য চাকরির শর্ত ঠিক করে একটি আইনের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে সরকার; যেখানে সাংবাদিকদের আগের মতো শ্রমিক হিসেবে বর্ণনা না করে গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আগে গণমাধ্যম কর্মীরা চলতেন দ্য নিউজপেপার এমপ্লয়িজ (চাকরির শর্তাবলি) আইন ১৯৭৪-এর আওতায়। পরে তাদের শ্রম আইনের অধীনে আনা হয়। শ্রম আইনের অধীনে গণমাধ্যম কর্মীদেরও শ্রমিক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। গণমাধ্যম কর্মী (চাকরির শর্তাবলি) আইন ২০১৮-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া সম্প্রচার আইনের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন আইন পাস হলে গণমাধ্যম কর্মীরা আর শ্রমিক থাকবেন না, তাদের গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে অভিহিত করা হবে।
অনেক ক্ষেত্রেই সাংবাদিকরা, বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, শ্রমজীবী হিসেবে সঠিক কর্মপরিবেশ, বেতন কাঠামো এবং অন্যান্য মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। পেশাগত দায়িত্বের কারণে তারা প্রায়শই অনিয়মিত ঘণ্টা, সন্ধ্যা বা সপ্তাহান্তে কাজ করতে বাধ্য হন। মে দিবস বা অন্যান্য শ্রমিক দিবসে সাংবাদিকদেরও নিজস্ব অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হতে দেখা যায়, যা তাদের শ্রমিক পরিচয়কে স্পষ্ট করে।
লেখক ; সাংবাদিক ও কলামিস্ট






কাজী ইমদাদুল হকের জীবন দর্শন
গতি ও পরিবর্তনশীল জীবনযাত্রার এক জীবন্ত প্রতীক শহর
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত প্রয়াস ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন
সনাতন ধর্মীয় শাস্ত্র মেনে তৈরি দুর্গা প্রতিমা পবিত্র শিল্পকর্ম
দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়; বহু মানুষের কর্মসংস্থান ও আয়ের উৎস
ডাকব্যবস্থার বিবর্তন ও মানবসভ্যতার অগ্রগতি
পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রাণীর ভূমিকা অপরিসীম
বিশ্ব নিরামিষ দিবস
প্রবীণদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা সমাজের মৌলিক দায়িত্ব
অতীতে সড়ক পথের চেয়ে নদী পথ ছিল সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ 