শিরোনাম:
পাইকগাছা, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২

SW News24
শনিবার ● ১১ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » ভক্তের হরির লুঠ আর লুটপাটের হরিলুট
প্রথম পাতা » মুক্তমত » ভক্তের হরির লুঠ আর লুটপাটের হরিলুট
৯ বার পঠিত
শনিবার ● ১১ এপ্রিল ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ভক্তের হরির লুঠ আর লুটপাটের হরিলুট

---হরির লুঠ বা হরিলুট হলো হিন্দুধর্মের, বিশেষ করে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের একটি জনপ্রিয় ধর্মীয় লোক-সংস্কার। হরিনাম সংকীর্তন বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে বাতাসা, নকুলদানা বা কদমা প্রসাদ হিসেবে সমবেত ভক্তদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে হরির লুঠ বলা হয়।

ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে হরির লুঠ শব্দটির ব্যুৎপত্তি অত্যন্ত কৌতূহলী। গবেষকদের মতে, এটি মূলত ছিল হরির লুস। প্রাচীন বাংলা ভাষায় লুস শব্দের অর্থ হলো ভোজন। লোকনিরুক্তি  প্রক্রিয়ায় অল্প পরিচিত লুস শব্দটি ধ্বনিগত সাদৃশ্যের কারণে পরিচিত শব্দ লুট বা লুঠ-এ রূপান্তরিত হয়েছে। যেহেতু প্রসাদ সংগ্রহের সময় ভক্তদের মধ্যে এক প্রকার কাড়াকাড়ি বা লুফে নেওয়ার দৃশ্য তৈরি হয়, তাই লোকমুখে এটি লুঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

সাধারণত হরিনাম সংকীর্তন, নামযজ্ঞ বা বিশেষ কোনো পূজা শেষে হরির লুঠ দেওয়া হয়। প্রসাদ মূলত বাতাসা, কদমা, নকুলদানা ও বিভিন্ন শুষ্ক মিষ্টি এই কাজে ব্যবহৃত হয়। সংকীর্তন শেষে ভক্তরা যখন হরিবোল ধ্বনি দেন, তখন হরির আসনের সামনে রাখা প্রসাদ দুই হাত ভরে ভক্তদের উদ্দেশ্যে শূন্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সমবেত ভক্তরা পরম ভক্তিভরে সেই প্রসাদ কুড়িয়ে নেন।

হরির লুঠের মাধ্যমে ভক্তদের মাঝে ভেদাভেদ ঘুচে যায়। প্রসাদ কুড়ানোর সময় ধনী-দরিদ্রের পার্থক্য থাকে না। বৈষ্ণব পদাবলীতে এই ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঈশ্বরের প্রতি নিঃস্বার্থ নিবেদনের উদাহরণ পাওয়া যায়। অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বী রোগমুক্তি বা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য হরির লুঠের মানত করেন।

হরিলুট হলো হিন্দু বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় লোক-সংস্কার। যেখানে কীর্তন শেষে প্রসাদ বাতাসা, কদমা, নকুল দানা ও ফল ভক্তদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। হরিনাম সংকীর্তনের পর নৈবেদ্যর বাতাসা বা নকুলদানা প্রসাদ হিসেবে ভক্তদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এটি মূলত হরির লুট থেকে এসেছে, যা ভক্তির প্রতীক।

হরিলুট একটি বহুমাত্রিক শব্দ যার উৎপত্তি ধর্মীয় হলেও বর্তমানে এটি একটি বহুল ব্যবহৃত বাগধারা। রূপক অর্থে, হরিলুট শব্দটি ব্যাপক লুটপাট, দুর্নীতি বা সরকারি সম্পদ অবৈধভাবে ভাগাভাগি করে নেওয়ার ঘটনা বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়। যখন সীমাহীন পরিমাণে, অরাজক পরিস্থিতির মতো লুটপাট হয়, তখন হরিলুট বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়।

বর্তমানে হরিলুট শব্দটির অর্থ অনেকটা জোর যার মুল্লুক তার -এর মত। অর্থাৎ যার সামর্থ্য আছে সে যেভাবে ইচ্ছা যত ইচ্ছা ভোগ করবে। ব্যাপক হারে এবং সীমাহীন মাত্রায় লুটপাটের ঘটনা বিবৃত করতে বাংলায় হরিলুট বাগধারা প্রচলিত। হরিলুট শব্দটির ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক অর্থ লুটপাটের মহোৎসব।

দেশের বা কোনো প্রতিষ্ঠানের সম্পদ যখন অনিয়মের মাধ্যমে লুটপাট হয়, তখন গণমাধ্যমে বা জনমুখে হরিলুট শব্দটি ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে এটি সাধারণ কথোপকথনে নেতিবাচক অর্থে বেশি ব্যবহৃত হয়। যখন কোনো জায়গায় ব্যাপক অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, কোনো সরকারি বা জনসম্পদ যথেচ্ছভাবে লুটপাট বা অপচয় করা হয়, সরকারি বাজেটের টাকা নষ্ট করা, তখন তাকে হরিলুট বলা হয়।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)