শুক্রবার ● ১৫ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » উপকূল নিয়ে ভাবনা
উপকূল নিয়ে ভাবনা
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল নিয়ে ভাবনা কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার হিসেবে নয়, বরং এটি দেশের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ ও অবহেলিত জনপদ। উপকূলের জীবনযাত্রা প্রতিনিয়ত বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে লড়াই করে চলছে।
বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল বহুমাত্রিক ঝুঁকিতে পড়েছে। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, নোয়াখালী ও কক্সবাজারসহ বিশাল উপকূলীয় জনপদে কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকিতে।জীবনযাত্রার স্বাভাবিক গতি বিপর্যস্ত হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন বাড়ছে। লবণাক্ত পানি উঠে আসছে জনপদে, তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। তাপমাত্রা চরমভাবাপন্ন হয়ে উঠেছে। বৃষ্টিপাত অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। ফসলি জমিতে লবণাক্ততার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ধানের ফলন মার খাচ্ছে। ক্ষতির মুখে পড়েছে মাছ ও চিংড়ি চাষ। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে আমাদের সার্বিক খাদ্যনিরাপত্তা।
বাংলাদেশের ৭১০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, এবং ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়ের কারণে স্বাস্থ্য, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও বসতির তীব্র সংকটে দিন কাটাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে দেশের ১৯টি উপকূলীয় জেলার কোটি কোটি মানুষ স্বাস্থ্য, খাদ্য, এবং আবাসন ঝুঁকিতে রয়েছে। কেবল দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং স্থায়ী সুরক্ষাই এখন মূল দাবি। টেকসই বনায়ন, পানি সংরক্ষণ, আলাদা উপকূলীয় নীতিমালা ও মন্ত্রণালয় গঠন এবং দুর্যোগকালীন সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনাই উপকূল সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি।
উপকূলের প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার বেড়িবাঁধের বড় অংশই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যা সিডর বা আইলার মতো দুর্যোগে ভেঙে পড়ে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় উপকূলীয় মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাইক্লোন সেন্টার বা আশ্রয়কেন্দ্র নেই।বিশুদ্ধ পানির অভাবে উপকূলের মানুষ লবণাক্ত পানি পান করে এলার্জি, পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছে। পানির সংগ্রহের দায়িত্ব নারীদের ওপর থাকায়, তারা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নদী ভাঙনের কারণে হাজারো মানুষ তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। সিডর, আইলাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলের প্রাকৃতিক সবুজ বেষ্টনী বা ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, যা উপকূলকে অরক্ষিত করে তুলছে।
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশের ফলে তীব্র সুপেয় পানির সংকট চলছে। নিম্নচাপ বা জলোচ্ছ্বাস হলেই টেকসই বেড়িবাঁধের অভাবে লোকালয় প্লাবিত হচ্ছে। নদীভাঙন ও ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়ের কারণে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। জনসংখ্যার অনুপাতে নিরাপদ সাইক্লোন সেন্টারের সংখ্যা অনেক কম।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সমুদ্রের পানি বৃদ্ধির ফলে বহুমাত্রিক সংকটের মুখে পড়ছে। লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে উপকূলজুড়ে সুপেয় পানির হাহাকার চলছে, যা স্থানীয়দের জীবনের অন্যতম প্রধান সমস্যা।সমুদ্রস্ফীতি ঠেকাতে বনায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে কোস্টাল ম্যানেজমেন্ট রুল প্রণয়নের দাবি উঠেছে। উপকূলীয় জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও সুরক্ষার জন্য একটি স্বতন্ত্র উপকূল মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জোরালো হচ্ছে।
উপকূলের মানুষ দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিগুলো মৎস্য, কৃষি ও লবণ উৎপাদন গুরুত্ব ভূমিকা রাখছে। তাই তাদের জীবন সহজতর করতে টেকসই বেড়িবাঁধ, সুপেয় পানির নিশ্চয়তা এবং সুপরিকল্পিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কোস্টাল জোন ও দীর্ঘমেয়াদী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির ওপর জোর দিতে হবে। জলোচ্ছ্বাস প্রতিরোধে উপকূলীয় অঞ্চলে বনায়ন বৃদ্ধি ও কৃষির বিকল্প আধুনিক চিন্তা করা। স্থানীয়দের মাঝে লবণাক্ততা মোকাবিলা ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের প্রযুক্তিগত শিক্ষা দেওয়া। উপকূলের বহুমুখী সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানে একটি সুনির্দিষ্ট উপকূলীয় মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জোরালো হচ্ছে।
উপকূলীয় মানুষের কাছে প্রতিদিনের বেঁচে থাকাটাই একটা সংগ্রাম, যেখানে দূর্যোগের সময় আশ্রয় এবং নিত্যদিনের চাহিদার সংস্থান করা কঠিন হয়ে পড়ে। উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষায় টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।






বাদুড় কৃষি ও প্রকৃতির অপরিহার্য প্রাণী
শিকারি সাংবাদিকতা
মানুষের নামে পশুর নাম রাখা মানবমর্যাদার অপমান
সমাজের ওপর তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব ব্যাপক
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মূল লক্ষ্য
সড়কে অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকারে বাড়ছে দুর্ঘটনা
বিশ্ব সাইকেল দিবস 