শিরোনাম:
পাইকগাছা, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

SW News24
শুক্রবার ● ৩১ জুলাই ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » আরামপ্রিয় প্রাণী বিড়াল
প্রথম পাতা » মুক্তমত » আরামপ্রিয় প্রাণী বিড়াল
৪ বার পঠিত
শুক্রবার ● ৩১ জুলাই ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

আরামপ্রিয় প্রাণী বিড়াল

---বিড়াল মানুষের অন্যতম প্রিয় ও আদুরে পোষা প্রাণী, যা তার মায়াবী চোখ, নরম স্বভাব এবং ভালোবাসাময় আচরণের জন্য পরিচিত। এরা শুধু দেখতেই সুন্দর নয়, বরং মানুষের মানসিক চাপ কমাতে এবং একাকীত্ব দূর করতে দারুণ ভূমিকা রাখে। নরম স্বভাব, মায়াবী চোখ আর চমৎকার সব আচরণের কারণে এরা মানুষের খুব সহজেই মন কেড়ে নেয়।

গৃহপালিত পোষা প্রাণীর মধ্যে বিড়াল অন্যতম। আদুরে চেহারার এই প্রাণী পছন্দ করেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আজ থেকে দশ হাজার বছর আগেও মানুষ বিড়াল পুষত। শহরবাসীদের অনেকেই পোষা প্রাণী হিসেবে বিড়াল পালেন। এটি বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় গৃহপালিত প্রাণী। বিড়াল খুবই আরামপ্রিয় একটি প্রাণী। এরা দিনে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ঘুমায়।

বাংলাদেশে বিড়ালকে বাঘের মাসি বলে ডাকা হয়। অনেকে বিড়াল পোষেন ইঁদুর মারার জন্য। তাছাড়া দুধ, মাছ, মাংস বিড়ালের প্রিয় খাবার। এরা খুবই নিঃশব্দে চলাফেরা করতে পারে। কারণ এদের পায়ের নীচে খুব নরম মাংসপিণ্ড থাকে।

বিড়াল একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় গৃহপালিত ও আদুরে প্রাণী। মানুষ ও বিড়ালের মধ্যকার এই সুসম্পর্ক বিজ্ঞানসম্মতভাবেও প্রমাণিত। বিড়ালের আদুরে আচরণধীরে চোখের পাতা বন্ধ করা বা স্লো ব্লিংক করে ভালোবাসা প্রকাশ করা। খুশি হয়ে লেজ নাড়ানো এবং আরও বেশি আদর চাওয়া। কাছে এসে মিউ মিউ শব্দ করে মনোযোগ আকর্ষণ করা। গায়ে গা ঘষে নিজেদের গন্ধ ও ভালোবাসা জানানো।

প্রতি বছর ৮ আগস্ট বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত আনন্দের সাথে আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবস পালন করা হয়। ২০০২ সালে ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার এই বিশেষ দিনটির সূচনা করে। পরবর্তীতে ২০২০ সাল থেকে বিড়ালদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষায় নিয়োজিত অলাভজনক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্যাট কেয়ার এই দিবসটি পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।

গৃহপালিত এবং অলিতে-গলিতে ঘুরে বেড়ানো অবহেলিত বিড়ালদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা দূর করে তাদের নিরাপদ আশ্রয় ও ভালো আচরণের অধিকার মনে করিয়ে দেওয়া। বিড়ালের সঠিক পুষ্টি, টিকাদান ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। ৮ আগস্ট বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে স্বীকৃত, তবুও কিছু দেশ নিজেদের মতো করে আলাদা দিনেও এই দিবসটি উদযাপন করে।

অস্ট্রেলীয় অঞ্চল, মাদাগাস্কার ও প্রশান্তমহাসাগরীয় দ্বীপসমূহ ছাড়া পৃথিবীর সর্বত্র ৩৪ প্রজাতির বিড়াল ছড়িয়ে রয়েছে। বিড়ালের প্রজাতিসমূহের বিস্তার দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় সর্বোচ্চ, যেখানে একটি এলাকায় একত্রে ৭ প্রজাতির বিড়াল দেখা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় বিড়াল প্রজাতির সংখ্যা ৭ এবং ইউরোপে ৪। বাংলাদেশে আছে ৮ প্রজাতি, তন্মধ্যে ৬টি বিভিন্ন ধরনের হুমকির মুখে। হুমকিগ্রস্ত ৬ প্রজাতির মধ্যে সোনালি বিড়াল, গেছোবাঘ বা লামচিতা, চিতাবাঘ ও বাঘ অতিবিপন্ন এবং বনবিড়াল ও মেছোবিড়াল বিপন্ন।
পৃথিবীতে ঠিক কত জাতের বিড়াল আছে তা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রেসিভ ক্যাট ব্রিডার্স অ্যালায়েন্স (আইপিসিবিএ) ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৭৩ জাতের বিড়াল তালিকাভুক্ত করেছে। অন্যদিকে দি ইন্টারন্যাশনাল ক্যাট অ্যাসোসিয়েশনের (টিআইসিএ) তথ্য অনুযায়ী ৫৮ জাত, ক্যাট ফ্যান্সিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (সিএফএ) তথ্য অনুযায়ী ৪৪ জাতের বিড়াল আছে।

বিড়ালের অন্যান্য ফেলিডি প্রাণীর অনুরূপ দৃঢ় নমনীয় শরীর, ত্বরিত প্রতিক্রিয়াশীল, এদের তীক্ষ্ণ দাঁত এবং সঙ্কোচনীয় থাবা দেখা যায়। এরা ক্ষুদ্র শিকারে পারদর্শী। এদের নৈশদৃষ্টি এবং ঘ্রাণশক্তি খুব প্রখর। তবে এদের বর্ণের দৃশ্যমানতা দরিদ্র। বিড়ালের যোগাযোগের মধ্যে কণ্ঠস্বরের ব্যবহার যেমন, মিয়াও, গরগর, কম্পনজাত শব্দ, হিস, গর্জন এবং গোঁ গোঁ শব্দ করা প্রভৃতি কণ্ঠ্যবর্ণের ব্যবহারের পাশাপাশি বিড়ালের নির্দিষ্ট শরীরী ভাষা রয়েছে। বিড়াল, একক শিকারী হওয়া সত্ত্বেও সামাজিক প্রজাতির। মানুষের কানের তুলনায় বিড়াল খুব তীক্ষ্ণ এবং খুব উচ্চ শব্দ কম্পাঙ্ক শুনতে পায়, যেমন ইঁদুর অথবা অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণীর দ্বারা সৃষ্ট শব্দ। এরা শিকারী প্রবৃত্তির হওয়ায় ভোর ও সন্ধ্যায় সর্বাধিক সক্রিয় থাকে। এছাড়াও এরা নিজ প্রজাতির সাথে অপ্রকাশ্য এবং ফেরোমোন অনুভূতি দ্বারা যোগাযোগ করতে সক্ষম।

বিড়ালের রাতে দেখতে পাওয়ার বিষয়টি নিশাচর প্রাণীদের মত নয়। বিড়ালকে নিশাচর প্রাণী বলা অমূলক। মূলত মৃদু আলো বা স্বল্প আলোতে বিশেষ করে গোধূলি বেলার আলোতে বিড়ালের দৃষ্টিশক্তি প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে সকাল-সন্ধ্যার মৃদু আলোয় বিড়াল দেখতে পায়, যে আলোয় মানুষ দেখতে পায় না কিন্তু বিড়াল দেখতে পায় এবং শিকার করতে পারে।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)