শনিবার ● ১ আগস্ট ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » বাংলাদেশ বিলুপ্তির পথে শালিক পাখি
বাংলাদেশ বিলুপ্তির পথে শালিক পাখি
বাংলাদেশে কাঠ শালিক, বামুন শালিক-এর মতো নানা প্রজাতির শালিক পাখি হারিয়ে যাওয়ার পথে। সব প্রজাতির শালিক ঢালাওভাবে বিলুপ্তির পথে নয়, তবে বন-জঙ্গলে বসবাসকারী কিছু সুনির্দিষ্ট প্রজাতির শালিকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
গাছ কাটা, জমিতে বিষ বা কীটনাশক দেওয়া এবং পাখি শিকার করার কারণে শালিকের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে। অবাধে পাখি শিকার এবং নগরায়ণের ফলে গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ বদলে যাচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার এর লাল তালিকা অনুযায়ী, লোকালয়ে সচরাচর দৃশ্যমান ভাত শালিক বা গো শালিক বিশ্বব্যাপী এবং বাংলাদেশে এখনো ন্যূনতম উদ্বেগজনক ক্যাটাগরিতে রয়েছে। তবে বনাঞ্চল ধ্বংস এবং পোষা পাখি হিসেবে অতিরিক্ত শিকারের কারণে পাহাড়ি অঞ্চলের পাহাড়ি ময়না বা কথা বলা শালিক বাংলাদেশ থেকে প্রায় বিলুপ্তির পথে।
বিশ্বজুড়ে শালিকের প্রায় ১০৪টি প্রজাতি রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ প্রজাতি দক্ষিণ-পূর্ব এশীয়। বাংলাদেশে ১২ প্রজাতির শালিক দেখা যায়। এর মধ্যে ৩টি পরিযায়ী। স্থায়ী প্রজাতিরা হলো: ঝুঁটিশালিক, গাংশালিক, ভাতশালিক, গো-শালিক, কালো শালিক, ময়না, কাঠশালিক, চিত্রা শালিক এবং ব্রাহ্মণী ময়না।
সাদা-কালো শালিককে ডাকা হয় গো-শালিক নামে। এদের ঠোঁটের রং গাঢ় কমলা-হলুদ এবং চোখের মণি হালকা হলুদ রঙের। ঝুঁটিশালিকও সাদা-কালো রঙের হয়; কিন্তু এর মাথায় একটি ঝুঁটি থাকে। গাঢ় বাদামি শালিককে বলা হয় ভাতশালিক। এদের ঠোঁট ও পা উজ্জ্বল হলুদ রঙের। গাংশালিক তুলনামূলক ছোট ও ফিকে রঙের এই শালিকগুলো সাধারণত নদী বা খালের তীরের বালুচরে ঝাঁক বেঁধে থাকতে পছন্দ করে।
হুমকির মুখে থাকা শালিকের প্রজাতিসমূহ সব শালিকের অবস্থা এক নয়। প্রজাতিভেদে বর্তমানে পাহাড়ি ময়না: বন উজাড় এবং খাঁচায় বন্দি করার জন্য অতিরিক্ত শিকারের কারণে এটি বন্য পরিবেশে এখন তীব্র সংকটাপন্ন ও প্রায় অদৃশ্য। কাঠ শালিক ও বামুন শালিক: অবাধে গাছ কাটা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার কারণে এই দুই প্রজাতির বাসস্থান ধ্বংস হচ্ছে এবং এদের সংখ্যা দ্রুত কমছে। ভাত শালিক ও গো শালিক: মানুষের বসবাসের আশেপাশে খাপ খাইয়ে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতার কারণে এই প্রজাতিগুলো এখনো পর্যাপ্ত সংখ্যায় টিকে আছে।
শালিকের সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রধান কারণকীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার। জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে শালিকের প্রধান খাদ্য পোকামাকড়, কেঁচো ও লার্ভা গণহারে মারা যাচ্ছে। বিষাক্ত খাবার খেয়েও অনেক পাখি মারা যায়। শালিক সাধারণত পুরোনো গাছের কোটর, ঘরের কার্নিশ বা তাল গাছে বাসা বাঁধে। নির্বিচারে পুরোনো বড় গাছ কেটে ফেলার কারণে তারা বংশবৃদ্ধির জায়গা হারাচ্ছে। গ্রামীণ বনাঞ্চল এবং খোলা মাঠ কমে কংক্রিটের কাঠামো তৈরি হওয়ায় এদের প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎস দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ময়না এবং ঝুঁটি শালিকের ছানা ধরে খাঁচায় পোষার এবং অবৈধভাবে বিক্রি করার প্রবণতা এখনো বিদ্যমান।
প্রকৃতির এই ঝাড়ুদার পাখিকে টিকিয়ে রাখতে ফসলি জমিতে জৈব সার ব্যবহার বাড়ানো এবং ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার কমানো জরুরি। এছাড়া বাড়ির আশেপাশে ফলদ ও পুরোনো গাছ কাটা বন্ধ করা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করে পাখি শিকার বন্ধ করতে হবে।






আরামপ্রিয় প্রাণী বিড়াল
পাখির রাজা ফিঙে
স্মরণীয় আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়
বন্ধুত্ব টিকে থাকুক
সুন্দরবন বনজীবীদের কষ্ট,পরিশ্রম আর অভাব নিত্য সঙ্গী
বাঘ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিড়াল প্রজাতি
কার্পেটিং শক্ত হতে প্রকৌশলগত সময়ের প্রয়োজন; কাঁচা কার্পেটিং তুলে ফেলার প্রবণতা রুখতে হবে
জনসংখ্যা একটি দেশের সম্পদ এবং সমস্যা উভয়ই হতে পারে
বুদ্ধির খেলা দাবা 