বুধবার ● ৬ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » কৃষি » উপকূলের লবনাক্ত মাটিতে শখের আঙুর চাষে সফল পাইকগাছার তৈয়বুর
উপকূলের লবনাক্ত মাটিতে শখের আঙুর চাষে সফল পাইকগাছার তৈয়বুর
প্রকাশ ঘোষ বিধান; পাইকগাছা: খুলনার পাইকগাছায় বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষের উদ্যোক্তা ও কৃষক হিসাবে তৈয়বুর রহমান সফলতা অর্জন করেছেন। তাদের কঠোর পরিশ্রম এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে মিষ্টি আঙ্গুর চাষে বিপ্লব ঘটেছে। যা লবনাক্ত উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য একেবারেই নতুন ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। আঙ্গুর চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন এবং আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছেন। তিনি স্কোয়াশ চাষ করে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কৃষকের স্বীকৃতি পেয়েছেন।
উপজেলায় কপিলমুনি ইউনিয়নের বিরাশি গ্রামের উদ্যমী উদ্যোক্তা ও নার্সারী ব্যবসায়ী তৈয়বুর রহমান আঙ্গুর চাষে সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সরেজমিনে তার বাগানে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় তিন শতক জমিতে জিও ব্যাগ ব্যবহার করে তিনি আঙ্গুর চাষ করছেন। মাচার উপর গাছ ছড়িয়ে আছে। নিচে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে বিদেশি ফল আঙুর। এমন দৃশ্য চোখে পড়লে মনে হবে বিদেশে আঙুর চাষের দৃশ্য। তার সংগ্রহে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের বাইকোনুর,পার্পেল, গ্রিন লং, একলো এবং সুপার নোভাসহ ১০ টি জাতের আঙুর গাছ আছে। তার বাগানে প্রায় এক হাজার ছোট চারা রয়েছে। যা এক শত থেকে তিন শত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
উদ্যোক্তা তৈয়বুর রহমান জানান, শখের বশে আঙুর চাষ শুরু করেন। অনলাইনে ইউটিউব ও বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক ওয়েবসাইট দেখে আঙ্গুর চাষ সম্পর্কে ধারণা নেন। গত বছর তিনি পরীক্ষামূলকভাবে বাড়ির উঠানে মাত্র দুটি আঙ্গুর গাছ রোপণ করেন। প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফলন হওয়ায় তিনি নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে সাত আট মাস আগে আরও ২০টি জিও ব্যাগে আঙ্গুর গাছ লাগান। বর্তমানে প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় আঙ্গুর ধরেছে। ছোট বড় থোকা ঝুলছে, যার ওজন প্রায় পাঁচ শত গ্রাম থেকে এক কেজিও বেশি হয়েছে। গাছগুলোতে ফলের পরিমাণ ও মান দেখে স্থানীয় মানুষজন বিস্মিত এবং আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তার বাগানে প্রতিনিয়ত স্থানীয় কৃষকরা পরিদর্শনে যাচ্ছেন এবং নতুনভাবে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, কেউ আঙ্গুর চাষ করতে চাহিলে, আমি তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত আছি। আমাদের এলাকায় এই চাষ ছড়িয়ে পড়লে কৃষকরা নতুনভাবে লাভবান হতে পারবেন। এখন আঙ্গুর চাষে সফলতা পেয়ে আরও বড় পরিসরে চাষের পরিকল্পনা করছি।
মূলত জিও ব্যাগে চাষ করার ফলে গাছের শিকড় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাটি, সার ও পানি ব্যবস্থাপনা করা যায়। এছাড়া মাচা পদ্ধতিতে গাছগুলো উপরের দিকে ছড়িয়ে দেওয়ায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পায়, ফলে গাছের বৃদ্ধি ও ফলন দুটোই বৃদ্ধি পায়।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, উপকূলীয় লবনাক্ত এলাকায় আঙ্গুর চাষ একটি ব্যতিক্রমী ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া আঙ্গুরের জন্য অনুকূল নয় বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছেন তৈয়বুর রহমান। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা উন্মুক্ত রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হবে।
পাইকগাছার উদ্যোক্তা তৈয়বুর রহমান উপকূলের মাটিতে আঙ্গুরের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। লবণাক্ততা আর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি সবসময়ই চ্যালেঞ্জের মুখে থাকে। প্রতিকূলতাকে জয় করে আঙ্গুর চাষে সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে।






ঈদকে সামনে রেখে পশু প্রস্তুতে ব্যস্ত মাগুরার খামারিরা
পাইকগাছায় সরকারিভাবে রোরো ধান সংগ্রহের অভিযান উদ্বোধন
পাইকগাছায় পাট চাষী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
পাইকগাছায় শিকির বিল খাল খনন কাজের উদ্বোধন
মাগুরায় ধানের দামে ধস; বিপাকে কৃষক
পাইকগাছায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কাল বৈশাখী ঝড়বৃস্টিতে আতঙ্কে কৃষক
তীব্র দাবদাহে মৌসুমী ফল ও ফসল বিপর্যয়ের শঙ্কা
পাইকগাছায় তরমুজের বাম্পার ফলন; বাজার মূল্য ৫০ কোটি টাকা
লোহাগড়ায় বিনামূল্যে হাইব্রিড ধান বীজ বিতরণসহ অধিক ফলন নিশ্চিতকরণে কর্মশালা অনুষ্ঠিত 