মঙ্গলবার ● ৪ আগস্ট ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রকৃতি » পাইকগাছায় বিলুপ্তির পথে বর্ষার দূত কদম ফুল
পাইকগাছায় বিলুপ্তির পথে বর্ষার দূত কদম ফুল
কদম ফুল বর্ষার রূপ ও প্রকৃতির এক অনন্য আশীর্বাদ। এর গোল বলের মতো আকার, সাদা ও হলুদ-কমলা রঙের মিশ্রণ এবং মিষ্টি সুবাস বর্ষাকালের স্নিগ্ধতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দেওয়া কদম ফুল যে কারো মন কেড়ে নেয়।
বর্ষা এলেই কদম ফুলের সৌন্দর্য আর শিশুদের দুরন্তপনা যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। কদম ফুলের মন মাতানো সুবাস আর শিশুদের উচ্ছ্বলতা গ্রামের দৃশ্যকে আরও মনোরম করে তোলে। কচি হাতে কদম ফুল নিয়ে ছোটাছুটি, খেলাধুলা- বর্ষাকালের এক অপরূপ চিত্র এ যেন আবহমান বাংলার বর্ষা বরণের প্রাকৃতিক আয়োজন।
কদম ফুলের সৌন্দর্য তুলনারহিত। আকার ছোট্ট একটি বলের মতো। যদিও এটাকে আস্ত একটি ফুল মনে করা হয়, আসলে তা অনেক ফুলের সমাহার। ভেতরের পুষ্পাধারে হলুদ রঙের নলাকৃতির ফুলগুলো আটকে থাকে। তার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে সাদা রঙের পরাগকেশ।
শুরু হয়েছে বর্ষাকাল। প্রকৃৃতিও সাজে কদম ফুলের সৌন্দর্যে। বর্ষার প্রতীক হয়ে যেন পাইকগাছার প্রকৃতিতে আগমন ঘটেছে কদম ফুলের। উপজেলার চারদিকে কদম ফুলের সমারোহ। সড়কের ধারে কদমগাছে পাতার সঙ্গে ফুটে আছে হলদে রঙের কদম ফুল। সেই সঙ্গে শিশু, কিশোর ও কিশোরীরা মেতে ওঠে আনন্দে। বাসাবাড়ির কাছে সহজে মেলে এই কদম ফুল। কদমের ঘ্রাণ আর আষাঢ়ে বর্ষায় শিশু দুজনের মাঝে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তাদের এ বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখে ছুটে আসে আরো কয়েকজন শিশু। মেতে উঠে কদম ফুলের উৎসবে।
বর্ষার আগমনী বার্তা নিয়ে আসে কদম ফুল। তাই, কদম ফুলকে বলা হয় বর্ষার দূত। সারা বছর এর দেখা না মিললেও বর্ষায় যেন অনিবার্য এই কদম ফুল। বহু বিখ্যাত কবিতা ও গান রয়েছে বর্ষাকাল আর কদম ফুল নিয়ে। প্রিয় ঋতু বর্ষার আগমনে তাই কদম ফুল যেন অনিবার্য অনুষঙ্গ।
উপকূলের পাইকগাছার পৌর সদর, গদাইপুর, কপিলমুনি, হরিঢালী, রাড়ুলীসহ বিভিন্ন এলাকায় কদম ফুল ফুটতে দেখা গেছে। পথে-প্রান্তরে কদম গাছগুলো ভরে উঠতে শুরু করেছে ফুলে ফুলে।
বাংলা কবিতা ও গানেও সমভাবে সমাদৃত হয়েছে বর্ষাকাল ও কদম। বর্ষার সঙ্গে কদম ফুলের যেন এক নিবিড় সম্পর্ক প্রাকৃতিকভাবেই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় কদম ফুল ফুটেছে। সড়কে যাতায়াতের সময় হঠাৎ এ ফুলের গন্ধ ভেসে আসে। যা খুবই ভালো লাগে এবং বিমোহিত করে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের পাশে, মেঠোপথের ধারে, বসতবাড়ির আশেপাশে, পুকুর ও দীঘির পাড়ের কদম গাছ ছেয়ে আছে মিষ্টি গন্ধেভরা তুলতুলে কদম ফুলে। এসব ফুলের মন ভোলানো সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হচ্ছেন শিশুরাসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। শিশুরা এসব ফুল তাদের খেলার অনুষঙ্গ হিসেবেও ব্যবহার করছে। কিশোরীদের চুলের খোপা ও বেনিতেও শোভা পাচ্ছে বর্ষাদূত কদম ফুল। উঠতি বয়েসী কিশোর কিশোরীদের হাতেও শোভা পাচ্ছে এই ফুল। প্রতিটি সড়ক দিয়ে যেতে যেতে কদম ফুলের গন্ধ ও সৌন্দর্য উপভোগ করছেন সবাই। কদম ফুলের গন্ধে যেনো গ্রামবাংলার চিরচেনা গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। চকচকে উজ্জ্বল সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফোটে থাকা কদম ফুলের সৌন্দর্যে প্রকৃৃতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
শিক্ষার্থী মায়া আক্তার বলেন, রূপ, রঙ ও গন্ধে দৃষ্টিনন্দন ফুল কদম। এই ফুল অন্যান্য ফুলের মতো নয়, এটি সম্পূর্ণ একটি ভিন্নধর্মী ফুল। এই ফুলের হলুদ ও সাদা পাপড়ি আর ভেতরের গোলাকার বলের মতো অংশটি নিয়েই ফুলটির সৌন্দর্য ফুটে উঠে। এ ফুলের সৌন্দর্য অন্য ফুলের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা। প্রতি বছরই বর্ষা এলে কদম ফুলের প্রেমে পড়তে একরকম বাধ্যই হতে হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এখন অসময়েও কদম ফুল ফুটতে দেখা যায়। কয়েক বছর আগেও আষাঢ়ের কদম গাছ ফুলে ফুলে ভরে থাকত। কদম ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য ফুল পিপাসুদের তৃপ্তি মিটাতো। বাঙালির ভালোবাসার কদম ফুল এখন প্রকৃতিতে দেখা মেলে খুব কম। ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে এই অপরূপ সৌন্দর্যের প্রতীক কদমগাছ। লাভের অঙ্কের হিসাব মেলাতে মানুষ আর বাড়ির আঙিনায় কদম ফুলের গাছ লাগাতে চায় না। মেহগনি, রেইন্ট্রিসহসহ বিভিন্ন দামি কাঠের গাছ রোপণে ঝুঁকছে।
প্রকৃতির ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে অন্য গাছের পাশাপাশি কদম গাছ রোপণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। কদম গাছ কমে যাওয়ায় এখন মানুষ তার ঐতিহ্য ভুলতে বসেছে। এমনকি কালের বিবর্তনে কদম ফুল গাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে।






পাইকগাছায় আঁশফলের বাম্পার ফলন; বাজারে চাহিদা প্রচুর
পাইকগাছায় নার্সারীতে জোড় কলম তৈরীতে ব্যস্ত শ্রমিক
গ্রামীণ জীবনে পরিচিত পাখি কানাকুয়া
পাইকগাছায় কাঁঠালের ফলন ভাল; দামে খুশী চাষিরা
অপ্রচলিত ফল আমঝুম শোভা ছড়াচ্ছে
মাগুরায় হারিয়ে যাচ্ছে দেশি জাতের খেজুর
মাগুরার ১০ গ্রামে চলছে লিচু উৎসব; ৭০ কোটি টাকার লিচু বিক্রির সম্ভাবনা
পাইকগাছায় স্ক্যাব রোগে আক্রান্ত লতা আম দেখতে বাদামি ধুসর বর্ণ; বাজারে চাহিদা নেই 