শিরোনাম:
পাইকগাছা, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

SW News24
শনিবার ● ২০ জুন ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রকৃতি » গ্রামীণ জীবনে পরিচিত পাখি কানাকুয়া
প্রথম পাতা » প্রকৃতি » গ্রামীণ জীবনে পরিচিত পাখি কানাকুয়া
৪ বার পঠিত
শনিবার ● ২০ জুন ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

গ্রামীণ জীবনে পরিচিত পাখি কানাকুয়া

---বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনে পরিচিত এক পাখির নাম কানাকুয়া। ইংরেজিতে যাকে বলা হয় গ্রেটার কোকাল আর বৈজ্ঞানিক নাম সেন্ট্রোপাস সাইনেনসিস। এটি কোকিল পরিবারের সদস্য হলেও কোকিলের মতো পরজীবী নয়। কোকিল যেমন অন্য পাখির বাসায় ডিম পাড়ে। কিন্তু কানাকুয়া নিজের মতো করে ঝোঁপঝাড়ের মধ্যে বাসা বানিয়ে সংসার সাজায়।

কানাকুয়া পাখি যা সাধারণ মানুষের কাছে বড় কুবো, কুক্কা, কুকো বা হাড়িকুড়ি নামেও পরিচিত। এটি কোকিল গোত্রের এক প্রকার লাজুক ও মাঝারি আকারের ভূচর পাখি। পাখিটির ডাক অত্যন্ত গম্ভীর এবং এটি সাধারণত লোকচক্ষুর অন্তরালে ঝোপঝাড়ে থাকতে পছন্দ করে।

একটি পূর্ণবয়স্ক কানাকুয়া লম্বায় প্রায় ৪৬ থেকে ৪৮ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। এর মাথা, ঘাড়, বুক, পেট এবং লেজ চকচকে নীলাভ-কালো রঙের হয়। এর ডানা বা পিঠের অংশটি উজ্জ্বল খয়েরি বা তামাটে রঙের হয় এবং চোখ দুটি টকটকে লাল বা রুবী লাল রঙের হয়ে থাকে। এরা খুব ভালো উড়তে পারে না। বেশির ভাগ সময় মাটিতে হেঁটে বা ছোট ঝোপঝাড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে খাবার খোঁজে। বাংলাদেশ এবং ভারতের ঝোপঝাড়যুক্ত এলাকা, চা বাগান, বনের প্রান্ত বা লোকালয়ের কাছাকাছি স্যাঁতসেঁতে জঙ্গলে এদের বাস। কানাকুয়া মূলত একটি হিংস্র ও মাংসাশী শিকারি পাখি। তবে কোকিল গোত্রের হলেও এরা অন্য পাখির বাসায় ডিম পাড়ে না, বরং নিজেদের বাসা নিজেই তৈরি করে।  এরা শুঁয়োপোকা, ঘাসফড়িং, শামুক, কেঁচো, ইঁদুর, টিকটিকি, গিরগিটি এবং ছোট বিষধর সাপ ধরে খায়।

এরা পাখিরাজ্যে বেশ কুখ্যাত। অন্য ছোট পাখিদের বাসা ভেঙে ডিম ও ছানা খাওয়া এদের অন্যতম স্বভাব। এজন্য অন্য পাখির যম বলা হয়।এই কারণে কাক বা অন্য পাখিরা কানাকুয়া দেখলে দলবদ্ধভাবে আক্রমণ করে। ভোরবেলা বা সন্ধ্যায় এরা গম্ভীর গলায় কুপ-কুপ-কুপ বা পুৎ পুৎ পুৎ শব্দে একটানা ডাকে।

গ্রামীণ সমাজে এদের ডাক নিয়ে নানা রকম কুসংস্কার বা বৃষ্টি নামার লোককথা প্রচলিত আছে। বহু কুসংস্কার ও বিশ্বাসের সাথে এ পাখিটি জড়িত। এর গম্ভীর ডাক অমঙ্গল ও অপদেবতার আগমনের সাথে সম্পর্কিত বলে বহু জায়গায় মনে করা হয়।

একসময় গ্রামে সহজেই চোখে পড়তো এ পাখি। নগরায়ন, বনাঞ্চলের অবলুপ্তি, অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার আর খাদ্যচক্রের ভারসাম্যহীনতার কারণে আজ কানাকুয়াও বিপন্ন হওয়ার পথে।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)