শিরোনাম:
পাইকগাছা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

SW News24
রবিবার ● ২৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রথম পাতা » লাইফস্টাইল » বৈঠা হাতে নদীর বুকে কেটেছে রনজিতের ছয়টি দশক
প্রথম পাতা » লাইফস্টাইল » বৈঠা হাতে নদীর বুকে কেটেছে রনজিতের ছয়টি দশক
৭ বার পঠিত
রবিবার ● ২৫ অক্টোবর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বৈঠা হাতে নদীর বুকে কেটেছে রনজিতের ছয়টি দশক

---মাগুরা প্রতিনিধি :নদীর বুকেই জীবনের কেটে গেছে প্রায় ছয়টি দশক। শৈশবে যেখানে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, সেখানে জীবনের তাগিদে ধরতে হয়েছিল নৌকার বৈঠা। তিনি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের রনজিত (৬৮)। দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে গয়েশপুর-শ্রীকোল খেয়া ঘাটে মানুষের পারাপারের সারথি তিনি। বাবা রাধাপদ মারা গেছেন প্রায় ৩০ বছর আগে। কিন্তু বাবার হাত ধরে ৮ বছর বয়সেই নৌকায় ওঠা রনজিতের জীবন আজও বাঁধা পড়ে আছে সেই নদীর জল আর বৈঠার টানে। জীবনের গল্পে স্কুল জীবনের প্রথম দিনেই শিক্ষককের হাতে মার খেয়ে আর কোনোদিন স্কুলের বারান্দায় পা রাখা হয়নি রনজিতের। বয়সের ভারে শরীর এখন আর আগের মতো সায় দেয় না, হাত দুটো কেঁপে ওঠে। কিন্তু জীবনের কঠিন বাস্তবতার সামনে ক্লান্তি প্রকাশের বিলাসিতা তাঁর নেই। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন অনেক আগেই। একমাত্র ছেলেকে বুকভরা আশা নিয়ে, অনেক কষ্ট করে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসে। ভেবেছিলেন, হয়তো এবার ঘুচবে সংসারের অভাব। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি; সেখানে গিয়ে বড় অঙ্কের টাকা প্রতারণার শিকার হয় ছেলেটি। ফলে ঋণের বোঝা আর অভাবের সংসার যেন আরও অন্ধকার হয়ে নামে তাঁর জীবনে।
এখন প্রতিদিন ঘাটে নৌকা বেয়ে যা উপার্জন হয়, তা দিয়ে দুমুঠো খেয়ে বেঁচে থাকায় কষ্টসাধ্য। তার ওপর যোগ হয়েছে রোগ-ব্যাধির নির্মম পরিহাস। রনজিত ও তাঁর স্ত্রী দুজনের কেউই এখন তিন বেলা ওষুধ ছাড়া চলতে পারেন না। দিন শেষে উপার্জনের একটা বড় অংশই চলে যায় ওষুধের দোকানে। নদী পারাপারের দৈনিক সামান্য আয়ে যখন স্ত্রী, ছেলের বউ, ও ২ নাতি-নাতনী নিয়ে ৫ জনের সংসার চলে না, তখন রনজিতকে বেছে নিতে হয় এক ভিন্ন পথ। নদী তীরের মানুষের সাথে তাঁর দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক। তাই প্রতি ফসলের মৌসুমে আশেপাশের গ্রামগুলোর বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘাট পারাপারকারীদের কাছ থেকে চেয়ে আনেন সামান্য কিছু ফসল। এই দিয়ে কোনোমতে টিকে থাকে তাঁর যাপিত জীবন। ক্লান্ত শরীর, ঋণের বোঝা আর অসুস্থতা নিয়ে রনজিতের জীবনের বৈঠা আজও চলছে। গয়েশপুর-শ্রীকোল ঘাটের চিরচেনা এই মাঝির জীবনযুদ্ধ আজ কেবল বেঁচে থাকার এক করুণ লড়াই।
স্থানীয়রা জানান, রনজিত মাঝির সাথে আমাদের আত্মার সম্পর্ক। খুব একজন পরিচিত মুখ। আমরা সেই ছোট বেলা থেকেই খেয়া ঘাটে তাকে দেখে আসছি। শত কষ্টের মাঝেও তাঁর মুখে হাসি লেগেই থাকে। তিনি এমন একজন মানুষ তাকে দেখলে মনে হয় তিনি পৃথিবীর একজন সুখী মানুষ। রনজিত জানান, আগের মত এখন আর আয় রোজগার নেই। শ্রীপুর ও হাট ফাজিলপুর ব্রিজ হওয়ায় বেশির ভাগ মানুষ ব্রিজ দিয়েই যাতায়াত করে। দিন যা আয় করি তাতে আমার সংসার চলে না ৷





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)