বুধবার ● ১৮ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রকৃতি » বক ফুল ; ভাজা হিসেবে বাঙালির কাছে প্রিয়
বক ফুল ; ভাজা হিসেবে বাঙালির কাছে প্রিয়
বক ফুল শিম ও মটর গোত্রীয় গাছ। কিন্তু গাছ দেখতে মোটেই শিম বা মটরের মত নয়। ফুলের গড়নের কিছুটা মিল থাকলেও পাতা ও গাছের সাথে কোন মিল নেই। তবে ধৈঞ্চা গাছের সাথে কিছুটা মিল আছে। বক ফুল গাছ ধৈঞ্চা গাছের চেয়ে বড় ও মজবুত। ফুলের রং বকের মত সাদা বলেই হয়তো এর নামকরণ করা হয়েছে বকফুল।
এদেশে তিন রংয়ের বকফুল দেখা যায়। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সাদা বকফুলের। কিন্তু শুধু সাদা রঙই নয় বকফুল রয়েছে লাল ও গোলাপি রঙেরও। কিন্তু সেভাবে এই ফুলের দেখা মেলে না সর্বত্র। এদেশে তিন রংয়ের বকফুল দেখা যায়- সাদা, লাল, গোলাপী। মনে করা হয় লাল রংয়ের বকফুলের জাত এসেছে থাইল্যান্ড থেকে। এজন্য একে থাই বকফুল বলা হয়।
বক ফুল শিম বা মটর গোত্রীয় এক প্রকার ভেষজ উদ্ভিদ, যা সাধারণত সাদা বা লাল রঙের হয়। এটি দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে সবজি এবং ঔষধি গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বক ফুল সাধারণত ঘর সাজানো বা পূজার কাজে খুব একটা ব্যবহৃত হয় না; বরং এটি বড়া বা ভাজা হিসেবে বাঙালির কাছে অত্যন্ত প্রিয় খাবার। রান্নার আগে ফুলের ভেতরের শক্ত গর্ভদণ্ড ফেলে দিয়ে বেসন বা ডালের গোলায় ডুবিয়ে এটি ভাজা হয়।
এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, রক্তশূন্যতা দূর এবং হাড়ের মজবুতি বাড়াতে সহায়ক। পাতার রস রাতকানা রোগ, জ্বর এবং কৃমি সারাতে কার্যকর। গ্যাস্ট্রিক আলসার ও বুক জ্বালা নিরাময়ে এর পাতার রস ব্যবহৃত হয়। মাথাব্যথা কমাতে পাতার রসের ঘ্রাণ নেওয়া উপকারী।
প্রায় প্রতিবাড়িতেই বক ফুলের বড়া একটি প্রচলিত খাবার। চালের গুড়া হালকা জলে মিশিয়ে পাতলা করে এতে হলুদ ও লবণ মিশিয়ে বকফুল চুবিয়ে বড়া করে তৈরি করা হয়। বকফুলের বড়া বাংলার মানুষের কাছে একটি পছন্দের খাবার।
বক ফুলের ঔষুধিগুণ আছে প্রচুর। জ্বর, ফোলা ও ব্যাথাবেদনা সারাতে, বাতের ব্যথায় শিকড় চূর্ণ জলের সাথে গুলে ব্যাথা জায়গায় ঘষলে আরাম পাওয়া যায়। চুলকানি-পাঁচড়া সারাতে কম্বোডিয়ায় বাকল চূর্ণ লাগানো হয়। কৃমি ও জ্বর সারাতে পাতার রস খাওয়ানো হয়। গ্যাস্ট্রিক আলসার ও বুক জ্বালা নিরাময়, রাতকানা রোগের ঔষুধ হিসাবে গাছের পাতার রস ব্যবহার করা হয়, করেকোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে, চোখের স্নায়ু জোরদার করেবার্ধক্য ও হাড় দুর্বলতা প্রতিরোধ করতে বকফুল পাতার রস উপকারী।
আকৃতিতে বকফুল গাছ বড় হয়। এটি সাধারণত বাড়ির আঙিনা বা পুকুর পাড়ে সহজেই জন্মে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক জায়গায় এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে ও নার্সারীতে পাওয়া যায়। বক ফুল গাছে ১২ মাস ফুল দেখা গেলেও শীত কাল থেকে আশ্বিন মাসের শেষ দিকে বেশি ফুল ফোটে। ফল বরবটির মতো লম্বা দেখতে। পাকলে হলুদ রং ধারণ করে, বীজের রং কলো।অতিবৃষ্টিতে এই গাছ মারে যায়।






লিচু ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বাজিমাত করেছেন জাহাঙ্গীর
প্রেমের প্রতীক মনোমুগ্ধকর অশোক ফুল
পাইকগাছায় লিচুর গাছ মুকুলে ভরে গেছে
গ্রামাঞ্চলের পরিচিত জিওল গাছ
পাইকগাছায় সজিনার বাম্পার ফলন হয়েছে
পাইকগাছায় শিমুল ফুল প্রকৃতি রাঙাচ্ছে
পাইকগাছায় আমের ভালো ফলন নিশ্চিত করতে প্রস্ফুটিত মুকুলের পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষী
পাইকগাছায় আমের মুকুলের সোনালি রঙ; ছড়াচ্ছে মৌ মৌ গন্ধ 