শিরোনাম:
পাইকগাছা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

SW News24
বৃহস্পতিবার ● ১৪ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » স্বাস্থ্যকথা » গরমে তৃষ্ণা মেটাতে পথচারিদের রাস্তার শরবতে ভরসা
প্রথম পাতা » স্বাস্থ্যকথা » গরমে তৃষ্ণা মেটাতে পথচারিদের রাস্তার শরবতে ভরসা
৭ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ১৪ মে ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

গরমে তৃষ্ণা মেটাতে পথচারিদের রাস্তার শরবতে ভরসা

--- প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা ঃ  খুলনার পাইকগাছায় বৈশাখ মাসে টানা তিব্র তাপদাহ চলছে। প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ নগরবাসী। ঘর থেকে বের হলেই গরমে ঘেমে নাজেহাল। হেঁটে বা গাড়িতে করে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যেতে ঘাম ঝরছে শরীর থেকে। কাঠফাটা রোদে শুকিয়ে যাওয়া গলা ভেজাতে রাস্তার পাশের দোকান থেকে ঠান্ডা শরবত ও জুস কিনে পান করেন অনেক মানুষ।  সাময়িক প্রশান্তি আর তৃষ্ণা মেটাতে তাই মানুষ ঝুঁকছে রাস্তার শরবত-ফলে। অস্বস্তিকর গরমে রাস্তার পাশের অস্থায় কিংবা ভ্রাম্যমাণ পানীয় ও কাঁটা ফলের দোকানগুলোতে ভিড় চোখে পড়ার মতো।

পাইকগাছার পৌর বাজারে  চোখে পড়বে ব্যস্ত সড়কের মোড়ে, মার্কেটের সামনে, রাস্তার পাশে  দাঁড়ানো লেবু পানি, আখের রস, বেলের শরবত, আম-পেয়ারা , তরমুজ, শসা, ডাবসহ নানা প্রকারের লোভনীয় ফল-ফলাদি। গরম বেশি পড়লে বেড়ে যায় এসব খাবারের চাহিদা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে ভ্যানে করে শরবত বিক্রি করছেন হকাররা। ভ্যানের ওপর একটি ফিল্টারে পানি ও বরফ মিশিয়ে রাখা হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে লেবু, ড্রিংক পাউডার, বিট লবন, তোকমা ও বরফ কুচি। আখের রস ১০ থেকে ২৫ টাকা গ্লাস, শুধু লেবুর শরবত বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকায় আর ড্রিংক পাউডার দিয়ে তৈরি শরবত বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়। লেবুর শরবত বিক্রেতারা জানান, খবার পানি দিয়ে লেবুর শরবত তৈরি করা হয়। লেবুর শরবতের সাথে বিট লবন ও চিনি মিশিয়ে দেওয়া হয়। তবে যেসব বরফ দেওয়া হয়, সেগুলো মাছ সংরক্ষণের জন্য তৈরি করা বরফ। দোকানিরা বলছেন, গরমের কারণে সব ধরনের শরবত-জুসের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ এ ধরনের শরবত বেশি পান করেন।

লেবুর শরবত বিক্রেতা নুর ইসলাম বলেন, প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ গ্লাস শরবত বিক্রি হয়। বেশি বিক্রি হলে লাভও হয় বেশি। শরবতের ক্রেতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,শিশুরা, ভ্যানচালক, বাসের হেলপার, ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষ তাদের ক্রেতা। বরফ কুচি ও বিট লবণ মেশানো লেবুর শরবতের দোকানেও গরমে অস্থির অনেকেই স্বস্তি খুঁজতে ভিড় করেছেন।

লেবুর শরবত বিক্রেতা শহিদুল মোড়ল বলেন, বেশী গরম পড়লে  ভীড় বেড়ে যায়। আমার লেবুর পানি একশ ভাগ ভালো। ভালো কারখানা থেকে বরফ আনা। কোনো ক্ষতি হয় না।

তবে বিভিন্ন সূত্রমতে, রাস্তার এসব পানীয়তে যে বরফ ব্যবহার করা হয় তা মাছের আড়ৎ এর ব্যবহার করা হয়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হয় এ বরফ। এসব বরফে মেশানো থাকে কেমিক্যাল ও ইউরিয়া। ফলে ঠাণ্ডার পরশ পেয়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও অজান্তেই শরীরে যাচ্ছে জন্ডিস, ডাইরিয়াসহ অন্য রোগের জীবাণু। যদিও বিক্রেতাদের দাবি, খাওয়ার বরফ যেসব কারখানায় বানানো হয়, সেখান থেকে বরফ কেনেন তারা। স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বানানোও হয়।

পাইকগাছা উপজেলা সেনেটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক উদয় কুমার মণ্ডল বলেন, গরমে পানি পান করা জরুরি। রাস্তার পাশের ঠান্ডা পানীয় দেখতে খুব আকর্ষণীয় হলেও স্বাস্থ্যের জন্য তা বড় রকমের ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এ কারণে শরবতে রং, কেমিক্যালসহ শরিরের ক্ষতিকর কোন দ্রব্য না মিশায় তার তদারকি ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে শরবত বানানোর জন্য বিক্রেতাদের উদ্বদ্ধ করা হচ্ছে।

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহসানারা বিনতে আহমেদ বলেন, পথঘাটে খাবার না খাওয়াই ভালো। রাস্তার পাশে এসব খাবার পরিস্কার পরিছন্ন পরিবেশে তৈরি করলে তাতে কোন সমস্যা হবে না। তবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুত করা সরবত, আখের রস, জুস এগুলো খেলে ডায়রিয়া, আমাশয় ও জন্ডিসের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত  হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাময়িক তৃপ্তি দিলেও এসব শরবত ও পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত।





আর্কাইভ