শনিবার ● ৮ আগস্ট ২০২৬
প্রথম পাতা » কৃষি » পাইকগাছায় পাট কাটা, নতুন পানিতে জাগ দেওয়া, ধোয়া ও শুকানোয় ব্যস্ত চাষিরা
পাইকগাছায় পাট কাটা, নতুন পানিতে জাগ দেওয়া, ধোয়া ও শুকানোয় ব্যস্ত চাষিরা
প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা ঃ খুলনার পাইকগাছায় গাঢ় সবুজ পাট কেটে তা জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোর কাজে চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়িয়ে পাট ধোয়া এবং শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। কয়েকদিন আগে ভারি বৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন জলাশয়ে পানি জমে থই থই করছে। সেই পানিতেই এখন পাট জাগ ও ধোয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় কৃষকরা খুশি।
সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার অনেক স্থানে পাট চাষ কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও আঁশ ভালো হয়েছে। এতে কৃষকরাও খুশি। জেলার বিভিন্ন এলাকায় চাষিরা স্থানভেদে পাট কেটে নদী, নালা, খাল, বিল ও ডোবায় জাগ দেওয়া, পাট ধোয়া এবং হাটে-বাজারে বিক্রিসহ সব মিলিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবার কোথাও কোথাও দেখা গেছে, নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে পাট ছাড়ানোর কাজ চলছে।
কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে, এ বছর পাটের আবাদ হয়েছে ২৮৩ হেক্টর জমিতে। উপকূলের লবনাক্ত পাইকগাছার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি, রাড়ুলী ও পৌরসভার জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয়, তোষা ও অন্যান্য জাতের পাট রয়েছে। উপজেলার গদাইপুর গ্রামের পাটচাষী কেসমত সরদার জানান, পাট ও পাটকাটির দাম বেশি হওয়ায় লাভ বেশী হবে। প্রতি বিঘা জমিতে চাষ, সেচ, রাসায়নিক সার প্রয়োগ, পাট কাটা, শুকানোসহ খরচ হবে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। এবার পাটের আঁশ ভালো হওয়ায় বিঘা প্রতি ১০-১২ মণ পাট পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তারা। আর তাতে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। পাটের দাম বেশি পাওয়ায় সোনালী আঁশের সুদিন ফিরে আসবে বলে মনে করেন স্থানীয় পাট চাষীরা।
উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারগুলোতে প্রতি মন পাট তিন হাজার টাকা থেকে তিন হাজার দুশত টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পাট ব্যবসায়ীরা বাড়ি বাড়ি গিয়েও পাট কেনা শুরু করেছে। তাই ভালো ফলন ও আশানুরুপ দাম পেয়ে কৃষকদের মুখে সন্তুষ্টির হাসি ফুটে উঠেছে। সোনালী আঁশের রঙে ভরে গেছে কৃষকের মন।
উপজেলার হিতামপুর গ্রামের পাট চাষি আব্দুস সামাদ বলেন, পাট চাষে নানা বিড়ম্বনার শিকার হয়। বড় সমস্যা পাট জাগ দেওয়ার জায়গা পাওয়া যায় না। এতে পাটের আবাদের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ কিছুটা কমে এসেছে। কারণ পাট পচানোর সমস্যা। এখন পুকুর-জলাশয় মাছ চাষের আওতায় এসেছে। ফলে মাছ চাষ করা পুকুর-জলাশয়ে পাট পচানো সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলার গোপালপুর গ্রামের পাটচাষী কেরামত সরদার জানান, শ্রমিকের দাম বেশি হওয়ায় পাটের আবাদের খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়। তবে পাটকাঠির দাম বেশি হওয়ায় সেটি পুশিয়ে যাচ্ছে। পাটকাঠির প্রচুর চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় পাট চাষীদের খরচ অনেকাংশে বেচে যাচ্ছে। ছোট ছোট আটি হিসাবে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জ্বালানী হিসাবে গৃহবধুদের কাছে পাটকাঠির চাহিদা খুব বেশি। পাটকাঠি দিয়ে সহজে উনুন জ্বালানো যায় ও সহজে রান্না করা যায়। এইজন্য গৃহবধুদের কাছে পাটকাঠির চাহিদা বেশি।
পাইকগাছা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন জানান, পাট চাষিরা গত বছরের তুলনায় এবার দাম বেশি পাচ্ছেন। পাটকাঠি থেকে কৃষকরা আশানারুপ মূল্য পাচ্ছেন। পাটের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে পাটের সুদিন ধরে রাখা সম্ভব হবে।






পাইকগাছায় পেঁপে চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক
পাইকগাছায় আমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে
পাইকগাছায় কৃষি বিভাগের চারা বিতরন কর্মসূচি
পাইকগাছায় বিনামূল্যে ভার্মি কম্পোস্ট উপকরণ বিতরণ
বাজার খোলার ভোলানাথ সুখদা সুন্দরী দোল মন্দিরে নারকেলের চারা রোপন
পাইকগাছার বোয়ালিয়া বিএডিসি খামারে মাটির স্বাস্থ্য ও গুণাগুণ রক্ষায় ধৈঞ্চার চাষ
মাগুরায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ
পাইকগাছায় গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত পুকুরে মাছের পোনা ও গাছের চারা বিতরণ
শ্যামনগরে গবাদি প্রাণীর প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা ও টিকাদান কর্মসূচি নিশ্চিত করতে ভেটেরিনারি প্রশিক্ষণ 