শিরোনাম:
পাইকগাছা, সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

SW News24
সোমবার ● ৩১ আগস্ট ২০২৬
প্রথম পাতা » কৃষি » জমির সবুজ সার ধৈঞ্চার চাষ হারিয়ে যাচ্ছে
প্রথম পাতা » কৃষি » জমির সবুজ সার ধৈঞ্চার চাষ হারিয়ে যাচ্ছে
৪ বার পঠিত
সোমবার ● ৩১ আগস্ট ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

জমির সবুজ সার ধৈঞ্চার চাষ হারিয়ে যাচ্ছে

---অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের ব্যবহার ও দ্রুত ফসল তোলার প্রবণতার কারণে কৃষিজমিতে সবুজ সার হিসেবে ধৈঞ্চা চাষ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও উর্বরতা বৃদ্ধিতে ধৈঞ্চা চাষ অপরিহার্য ছিল, কিন্তু আধুনিক নিবিড় কৃষিব্যবস্থার কারণে এই সনাতন ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিটি এখন বিলুপ্তির পথে।

দ্রুত ফলন পেতে কৃষকেরা ইউরিয়া, টিএসপি ও পটাশ সারের ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।   বাণিজ্যিকীকরণের ফলে জমিতে বছরে ৩ থেকে ৪টি ফসল চাষ করা হচ্ছে, যার ফলে সবুজ সার তৈরির জন্য জমি ফাঁকা রাখার সময় পাওয়া যায় না। ধৈঞ্চা চাষ করে তা আবার লাঙল দিয়ে মাটির সাথে মেশানোর প্রক্রিয়াকে অনেক কৃষক অতিরিক্ত পরিশ্রম ও ব্যয়বহুল মনে করেন। চাহিদার অভাবে বাজারে এখন ধৈঞ্চার মানসম্মত বীজ সহজে পাওয়া যায় না।পাইকগাছা উপজেলার হিতামপুর ব্লকের কৃষক সামাদ সরদার বলেন, আগে বাপ-দাদারা প্রতি বছর একবার ধৈঞ্চার চাষ করতেন। মোটামোটি একমাসের মধ্যেই সবুজ চারায় ছেয়ে যেত ফসলের মাঠ। নরম ও সবুজ ধৈঞ্চার ক্ষেতে লাঙল দিয়ে চাষ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হতো। সপ্তাহের মধ্যেই জমিতে ধৈঞ্চা পচে মাটির সাথে মিশে যেত। জৈব সারের চাহিদা মিটে যেত। সে সময় জমিতে প্রচুর ফসল ফলতো। কিন্তু এখন জমিতে সবুজ সার ও গোবর সার ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

তবে উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার পাশে বা ক্ষেতের আইলে জ্বালানিকাঠ এবং পশুখাদ্য হিসেবে ধৈঞ্চার চাষ প্রচলন রয়েছে। ধৈঞ্চার হলুদ ফুল সবজি হিসেবে খাওয়া হয়।

ধৈঞ্চা গাছের শিকড়ে থাকা গুটি (নোডিউল) বাতাস থেকে নাইট্রোজেন ধারণ করে মাটিতে যোগ করে, যা ইউরিয়া সারের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। ৪০-৫০ দিন বয়সের কচি ধৈঞ্চা গাছ মাটিতে চাষ দিয়ে মিশিয়ে দিলে তা দ্রুত পচে গিয়ে মাটিতে প্রচুর পরিমাণে জৈব সার যোগ করে। এটি বেলে মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায় এবং কাদা মাটির বাতাস চলাচলের সুবিধা উন্নত করে। সবুজ সার ব্যবহারের ফলে জমিতে ক্ষতিকর পোকা ও রোগের আক্রমণ অনেকটাই কমে যায়। জমিতে ধৈঞ্চা ব্যবহার করলে পরবর্তী ফসলে রাসায়নিক সারের খরচ প্রায় ২৫-৩০% পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।

মার্চ থেকে মে মাসের মাঝামাঝি ধৈঞ্চা বোনার সবচেয়ে ভালো সময়। এটি আমন ধান রোপণের আগে চাষ করা হয়। বিঘাপ্রতি ৪-৫ কেজি বীজ ছিটিয়ে বা লাইনে বুনে হালকা চাষ দিতে হয়। গাছের বয়স ৪০ থেকে ৫০ দিন হলে অথবা গাছে ফুল আসার ঠিক আগে চাষ দিয়ে মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। মাটিতে মেশানোর পর অন্তত ১৫ থেকে ২০ দিন জমিতে পানি রেখে গাছগুলো ভালোভাবে পচতে দিতে হবে, এরপর মূল ফসলের চারা রোপণ করতে হবে।

জমিতে সবুজ সার হিসেবে ধৈঞ্চা চাষ দিন দিন হারিয়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো কৃষকদের অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক নির্ভরতা এবং অধিক লাভের আশায় একই জমিতে বারবার বাণিজ্যিক ফসল ফলানোর প্রবণতা। মাটির দীর্ঘমেয়াদী প্রাণশক্তি রক্ষা এবং চাষাবাদের খরচ কমাতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে কৃষকদের আবার এই সবুজ সার চাষে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন।

পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, ধৈঞ্চার ব্যবহার এখন কমে গেলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রান্তিক এ অঞ্চলের কৃষকেরা বিনা পরিশ্রমে বাজারে সার পায় এজন্য ধৈঞ্চা চাষে অনিহা। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ধৈঞ্চারমতো প্রাকৃতিক সবুজ সারের ব্যবহার বাড়ানোর জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন। কৃষকদের নিয়মিত রাসায়নিক সার, বীজ ও কীটনাশকের ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে বুঝানো হচ্ছে।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)