শিরোনাম:
পাইকগাছা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

SW News24
সোমবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রথম পাতা » ইতিহাস ও ঐতিহ্য » বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জরাজীর্ণ জন্মভিটা নতুন রুপ পেতে শুরু করেছে
প্রথম পাতা » ইতিহাস ও ঐতিহ্য » বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জরাজীর্ণ জন্মভিটা নতুন রুপ পেতে শুরু করেছে
৫ বার পঠিত
সোমবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জরাজীর্ণ জন্মভিটা নতুন রুপ পেতে শুরু করেছে

---খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার কপোতাক্ষ নদের তীরের রাড়ুলী গ্রামে অবস্থিত বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী স্যার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জন্মভিটা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় আংশিক সংস্কার করার পর একটি নতুন রূপ পেয়েছে। তবে দর্শনার্থী, স্থানীয় এলাকাবাসী ও গবেষকদের মতে, বিজ্ঞানীর স্মৃতি ও তাঁর বিশাল অবদানকে পুরোপুরি ধরে রাখতে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটির সম্পূর্ণ আধুনিকায়ন ও পূর্ণাঙ্গ সংরক্ষণ করা জরুরি।

বাঙালি রসায়নের জনক ও বেঙ্গল কেমিক্যালসের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জন্মভিটা সংস্কার ও নতুন রূপ দেওয়ার উদ্যোগ বিজ্ঞান ও ঐতিহ্যপ্রেমীদের মাঝে এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।

জরাজীর্ণ জন্মভিটাটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে ধাপে ধাপে সংস্কার ও সংরক্ষণের আওতায় আসায় এটি নতুন রূপ পেতে শুরু করেছে। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক পৈতৃক বাড়িটির মূল ভবনের অন্দরমহল ও সদরমহলের কিছু অংশের ভগ্নদশা দূর করতে সংস্কার কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।

উপজেলার রাড়ুলী গ্রামে কপোতাক্ষ নদের তীরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বিজ্ঞানীর বসতভিটার সদর মহল বা প্রধান ভবনের কিছু অংশ সংস্কার করা হয়েছে। মূল মন্দিরের ভেতরের অংশ এবং সীমানা প্রাচীরসহ অন্যান্য স্থাপনাগুলো এখনো সম্পূর্ণ সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে।

জানা যায়, খুলনা আঞ্চলিক প্রত্নতত্ব বিভাগের অধিনে বাড়িটি। সংরক্ষণ ও দেখভাল করে খুলনা আঞ্চলিক প্রত্নতত্ব অধিদপ্তর। বাড়ি সংস্কারের জন্য বরাদ্ধ হয়েছে ৩৭ লাখ ৮১ হাজার টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডোমাইন ইন্টারপ্রাইজ সংস্কার কাজ করছে। এ বছর বাড়ির দোতলা ভবন সংস্কার করা হবে, দরজা জানালা বাদে। যার মধ্যে রয়েছে,উত্তর পাশের দোতলা ভবনের পাঁচটি কক্ষ, দুইটি বারান্দা, বাইরের পলেস্তরা, চারপাশের রং করা। পরবর্তিতে বাড়ির ভিতরের ভবন ও মন্দির সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। আগামী চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে এই সংস্কার কাজ শেষ হবে বলে মনে করছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

খুলনা আঞ্চলিক প্রত্নতত্ব বিভাগের পরিচালক(রুটিন দায়িত্ব) মোঃ মহিদুল ইসলাম বলেন, রসায়ন শাস্ত্রের জনক আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জরাজীর্ণ জন্মভিটা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। বাড়ির বিভিন্ন নকশা ঠিক রেখে অনুরুপ ভাবে সংস্কার করা হচ্ছে।   বাড়ির নান্দনিক নকশা নতুনভাবে নির্মাণ ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে পুরা বাড়ি সংস্কার হবে। তাছাড়া বাউণ্ডারি ওয়াল ও ডিসপ্লে রুম তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থ বরাদ্ধ পেলে কাজ শুরু করা হবে।

১৮৬১ সালের ২ আগস্ট জন্ম নেওয়া স্যার পি সি রায় ছিলেন একাধারে উপমহাদেশের প্রথম আধুনিক রসায়ন গবেষণাগারের প্রতিষ্ঠাতা, মার্কারি (I) নাইট্রেটের আবিষ্কারক এবং বিখ্যাত বেঙ্গল কেমিক্যালস-এর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর এই জন্মভিটা বাঙালির বিজ্ঞানচর্চা ও জাতীয় গৌরবের এক অনন্য স্মারক।

পাইকগাছায় অবস্থিত প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও বেঙ্গল কেমিক্যালসের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের প্রায় ২০০ বছরের পুরনো জরাজীর্ণ পৈতৃক ভিটা সংস্কারের কাজ শুরু করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর। কপোতাক্ষ নদের তীরে অবস্থিত রাড়ুলি গ্রামের এই বাড়িটির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সংস্কার কাজ চলছে, যা শেষ হলে এটি একটি অন্যতম ঐতিহাসিক ও পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে। সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে, যা দেশী ও বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষণ করবে।

বাঙালির এই অনন্য জাতীয় ঐতিহ্যকে সম্পূর্ণভাবে ধরে রাখতে এবং একে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন ও বিজ্ঞান কেন্দ্রে রূপ দিতে বর্তমানে বেশ কিছু দাবি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এই স্থানটিকে আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞান ঐতিহ্য কেন্দ্রে রূপান্তরের দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান জাদুঘর, গবেষণাগার, ডিজিটাল প্রদর্শনী গ্যালারি এবং মিলনায়তন নির্মাণের মতো প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সুন্দরবনগামী বহু পর্যটক যাতায়াতের পথে এই ঐতিহাসিক স্থানটি পরিদর্শন করেন। একে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা হলে স্থানীয় অর্থনীতির ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

বাংলার এই গর্বিত সন্তানের স্মৃতি ও অবদান ধরে রাখতে তার পৈতৃক ভিটা সংরক্ষণ নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী, প্রশংসনীয় ও ঐতিহাসিক উদ্যোগ। যা অতীতকে বাঁচিয়ে রেখে ভবিষ্যতের পথে আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।





আর্কাইভ