শিরোনাম:
পাইকগাছা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

SW News24
শনিবার ● ৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » ভ্রাতৃদ্বিতীয়া ভাই ও বোনের অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রতীক
প্রথম পাতা » মুক্তমত » ভ্রাতৃদ্বিতীয়া ভাই ও বোনের অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রতীক
৪ বার পঠিত
শনিবার ● ৭ নভেম্বর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ভ্রাতৃদ্বিতীয়া ভাই ও বোনের অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রতীক

---ভ্রাতৃদ্বিতীয়া হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি অন্যতম প্রধান উৎসব, যা ভাই ও বোনের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সম্পর্কের প্রতীক। ভাইফোঁটা বাঙালির জীবনের অন্যতম আবেগঘন পার্বণ। ভাইফোঁটার শাস্ত্রীয় নাম ভ্রাতৃদ্বিতীয়া বা যমদ্বিতীয়া। সাধারণত কালীপূজার দুইদিন পরে কার্তিক মাসের শুক্লদ্বিতীয়া তিথিতে ভাইবোনের এ পবিত্র সম্পর্কের উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়।

ভাইফোঁটা এবং রক্ষাবন্ধন ভাই-বোনের সম্পর্কের স্নিগ্ধ অমলিন উৎসব। ভাইফোঁটা প্রতি বছর কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে কালীপূজা বা দীপাবলির দুই দিন পর এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ভ্রাতৃদ্বিতীয়া বা ভাইফোঁটা হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি অন্যতম প্রধান উৎসব, যা মূলত ভাই ও বোনের মধ্যকার গভীর স্নেহ ও অটুট বন্ধনকে উদ্‌যাপন করতে পালিত হয়।

অঞ্চল ও সম্প্রদায়ভেদে এই উৎসবটি ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত: ভাইফোঁটা বা ভ্রাতৃদ্বিতীয়া: পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও বাংলাদেশে। ভাইদুজ : উত্তর ও পশ্চিম ভারতে, যেখানে এটি পাঁচ দিনব্যাপী দীপাবলির সমাপনী দিন। ভাউবিজ বা ভাইবিজ: মহারাষ্ট্র, গোয়া, গুজরাট ও কর্ণাটকে। ভাইটিকা: নেপাল এবং ভারতের দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলে। যমদ্বিতীয়া: শাস্ত্রীয় ও পৌরাণিক নাম।

পৌরাণিক ইতিহাস ও কিংবদন্তি এই উৎসবের প্রচলন নিয়ে মূলত দুটি প্রধান কাহিনী প্রচলিত রয়েছে: যম ও যমুনার আখ্যান: পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, মৃত্যুর দেবতা যম এই তিথিতে তাঁর বোন যমুনার বাড়ি গিয়েছিলেন। যমুনা তাঁকে পরম যত্নে পুজো করে ভোজন করান। বোন যমুনার আতিথেয়তায় সন্তুষ্ট হয়ে যম আশীর্বাদ করেন যে, এই বিশেষ তিথিতে যে ভাই তাঁর বোনের হাতের রান্না খাবে এবং ফোঁটা নেবে, তার কোনো অকালমৃত্যুর ভয় থাকবে না।

শ্রীকৃষ্ণ ও সুভদ্রার আখ্যান: অন্য একটি মত অনুসারে, নরকাসুর নামে এক রাক্ষসকে বধ করার পর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যখন তাঁর বোন সুভদ্রার কাছে আসেন, তখন সুভদ্রা তাঁর কপালে বিজয় তিলক (ফোঁটা) এঁকে দিয়ে মিষ্টি খাইয়ে স্বাগত জানান।

এদিন যম, যমুনা, চিত্রগুপ্ত ও যমদূতের পূজা আর যমের উদ্দেশে অর্ঘ্য দেওয়ার বিধান। বোন ভাইকে পূজা করেন, আর প্রচলিত রীতি হিসেবে ভাইয়ের কপালে তিলক বা ফোঁটা দেন। ভাইও বোনকে কাপড়চোপড় উপহার দেবেন, আর বোনের হাতে খাবেন। বৈষ্ণব গোস্বামী মতে দিনটি যমদ্বিতীয়া, দুপুরে যমরাজের (ধর্মরাজ) পূজা হয়।

বোনেরা উপবাস থেকে চন্দন, দই, ও ঘাসের শিশির মিশিয়ে ভাইয়ের কপালে বাঁ হাতের অনামিকা আঙুল দিয়ে তিনবার ফোঁটা দেন। ফোঁটা দেওয়ার সময় বিখ্যাত এই ছড়াটি উচ্চারণ করা হয়: “ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা। যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা।।”

ফোঁটা দেওয়ার পর ধান ও দুর্বা দিয়ে ভাইয়ের মাথায় আশীর্বাদ করা হয় এবং মিষ্টিমুখ করানো হয়। এরপর ভাই-বোনেরা একে অপরকে শুভেচ্ছা ও উপহার বিনিময় করে থাকে।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)