শিরোনাম:
পাইকগাছা, সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ১১ মাঘ ১৪২৮
SW News24
সোমবার ● ৬ ডিসেম্বর ২০২১
প্রথম পাতা » উপকূল » শাকবাড়িয়া নদীর ভেড়িবাঁধে ভাঙন ঠিকাদারের গাফিলাতিতে আবারও ডুবলো কয়রার গাতিরঘেরী ও হরিহারপুর গ্রাম
প্রথম পাতা » উপকূল » শাকবাড়িয়া নদীর ভেড়িবাঁধে ভাঙন ঠিকাদারের গাফিলাতিতে আবারও ডুবলো কয়রার গাতিরঘেরী ও হরিহারপুর গ্রাম
৫৪ বার পঠিত
সোমবার ● ৬ ডিসেম্বর ২০২১
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

শাকবাড়িয়া নদীর ভেড়িবাঁধে ভাঙন ঠিকাদারের গাফিলাতিতে আবারও ডুবলো কয়রার গাতিরঘেরী ও হরিহারপুর গ্রাম

 এস ডব্লিউ;---  শাকবাড়িয়া নদীর ভেড়িবাঁধ ভেঙে কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাতিরঘেরী ও হরিহারপুর গ্রাম আবারও প্লাবিত হয়েছে। এতে করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দুই গ্রামের প্রায় দুইশ’ পরিবার। ঠিকাদারের গাফিলতিতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পানিবন্দি পারিবারের সদস্যরা। 
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরের সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে শাকবাড়িয়া নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পায়। নদীতে প্রবল স্রোত ও স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত শনিবার রাতে হরিহারপুর লঞ্চঘাটের পূর্বপাশ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেড়িবাঁধ পুনরায় ভেঙে যায়। চলতি বছরের ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে একই স্থানে ভেঙে প্লাবিত হয়ে পড়ে সেখানকার মানুষ। স্থানীয় সংসদ সদস্যর প্রচেষ্টায় ও এলাকার মানুষের কাজে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ভেঙে যাওয়া বাঁধটি বাঁধতে সম্ভব হয়।  তারপর ওই স্থানের ভেড়িবাঁধ নির্মানের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদার যথাসময়ে সঠিক ভাবে বাঁধ নির্মাণ না করায় আবার ভেঙ্গে গেলো। এতে করে প্লাবিত এলাকার মানুষ আবারও দুর্ভোগে পড়লো।


সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিভাগ-২) সূত্রে জানা গেছে, জরুরি ভিত্তিতে খুলনার কয়রা উপজেলার পোল্ডার ১৪/১ এর হরিপুর লঞ্চঘাটের পূর্বপাশ থেকে ৪১০ মিটার পর্যন্ত  টিউব দ্বারা রিং বাঁধ ও মাটি দিয়ে স্লোপ নির্মাণ কাজের জন্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মেসার্স জিয়াউল ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। গাতিরঘেরী গ্রামের ভবেশ মন্ডল বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের পর প্রায় পাঁচ মাস পানিবন্দি ছিলাম। মাস খানেক আগে বাঁধ হওয়ায় মনে করেছিলাম বিধাতা হয়তো আমাদের দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছেন। কিন্তু ঠিকাদারের গাফিলতিতে আবারও বাঁধ ভেঙে আমরা পানিবন্দি হয়ে পড়েছি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, জানিনা এ দশা থেকে আবার কবে মুক্ত হবো। হরিহারপুর গ্রামের অনিমা মন্ডল বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে ঘরবাড়ি ভেঙে গিয়েছিল। ছয় মাস ধরে খুপড়ি ঘরে পরিবার নিয়ে বাস করেছি। বাঁধ হওয়ায় নতুন করে ঘর তৈরি করার স্বপ্ন দেখছিলাম। কিন্তু সেটা দুঃস্বপ্ন থেকে গেল। আবারও পানিবন্দি হয়ে পড়েছি। তিনি জরুরি ভিত্তিতে বাঁধের কাজ পুনরায় শুরু করার আহবান জানান। 


উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি বলেন, হরিহারপুর লঞ্চঘাটের পূর্বপাশে ওয়াপদার কাজটি মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে এক লেবার শ্রমিক সাব কন্ট্রাক্টে কিনে নিয়ে কাজ করছিল। সেই থেকে টিউবে বালু ভরে রিং বাঁধ দিয়ে পানি আটকায়। কিন্তু মাটি দিয়ে স্লোপের কাজ না করে চলে যায়। টিউবের তল দিয়ে পানি লিকেজ হওয়ায় রিং বাঁধটি ভেঙে গেছে।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিভাগ-২) উপ-সহকারী প্রকৌশল মশিউল আবেদিন বলেন, ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে শাকবাড়িয়া নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হরিহারপুর লঞ্চঘাটের পূর্বপাশে ভেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। ওই স্থানে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া আছে। দ্রুত সময়ের মধ্য ওই এলাকার মানুষকে পানিবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করা যাবে। কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, শাকবাড়িয়া নদীর ভেড়িবাঁধ ভেঙে গাতিরঘেরী ও হরিহারপুর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের জন্য ইতিমধ্যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া ঐ এলাকার মানুষের শীত নিবারনের জন্য শীতবস্ত্র প্রদান করা হয়েছে।



আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)