শিরোনাম:
পাইকগাছা, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২

SW News24
বৃহস্পতিবার ● ২৩ জানুয়ারী ২০২৫
প্রথম পাতা » সুন্দরবন » সুন্দরবনে হরিণ শিকারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে
প্রথম পাতা » সুন্দরবন » সুন্দরবনে হরিণ শিকারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে
২৪৩ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ২৩ জানুয়ারী ২০২৫
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

সুন্দরবনে হরিণ শিকারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে

 --- বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের হরিণ শিকারে মেতে উঠেছে কয়েকটি চক্র। মাঝে মধ্যে মাংস বহনকারীরা ধরা পড়লে মূল শিকারিরা রয়ে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। সম্প্রতি বেশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার এসব চক্রগুলো। এদিকে, গরু ও খাসির মাংসের তুলনায় হরিণের মাংসের দাম কম হওয়ায় সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকায় এই বন্যপ্রাণীর মাংসের চাহিদা বাড়ছে।

সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর এবং বাগেরহাটের মোংলা ও শরণখোলার মানুষ বেশি হরিণ শিকার করে বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় হরিণের প্রতি কেজি মাংস ৫ শত থেকে ৬ শত টাকা, জেলা শহরে প্রতি কেজি হরিণের মাংসের দাম এক হাজার টাকা থেকে দুই হাজার টাকা দাম নেওয়া হয়।

জানা গেছে, খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের আংটিহারা ও জোড়শিং এলাকায় হরিণ শিকারি চক্রের আধিপত্য বেশি। আর হরিণ পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বজবজা ও খাসিটানা বন টহল ফাঁড়ি এলাকা। এছাড়া মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের নয়ানি, হড্ডা, বানিয়াখালী, শেখেরকোনা ও তেঁতুলতলার চর; কয়রা সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর, ৫ নম্বর ও ৬ নম্বর কয়রা; উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের পাথরখালী, কাটকাটা; মহারাজপুর ইউনিয়নের পূর্ব মঠবাড়ি, মঠেরকোনা গ্রাম হরিণশিকারি চক্রের তৎপরতা রয়েছে। দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী, খাজুরা, বানীশান্তা, সুতারখালী ও কালাবগি গ্রামের চিহ্নিত হরিণ শিকারিরা রাতে ও দিনে দলবদ্ধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ করে নিয়মিত হরিণ শিকার করে।

এছাড়া বাগেরহাটের মোংলার চিলা, জয়মনি, বৈদ্যমারী, কাটাখাল কুল, বাঁশতলা, কাটাখালী; মোরেলগঞ্জের জিউধরা, গুলিশাখালী, সন্ন্যাসী; শরণখোলার ধানসাগর, তাফালবাড়ী, সোনাতলা, পানিরঘাট, রাজাপুর, রসুলপুর ও চালিতাবুনিয়া, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগরের বেশ কিছু গ্রামে হরিণ শিকারিদের তৎপরতা রয়েছে।

কয়রা উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুন্দরবন সংলগ্ন এই উপজেলাটিকে ঘিরে রেখেছে কপোতাক্ষ, কয়রা এবং শাকবাড়িয়া নদী। উপজেলাটির তিন দিক নদীবেষ্টিত এবং ৭টি ইউনিয়নই সুন্দরবনের সীমানায় অবস্থিত। উপজেলাটির গ্রামগুলোর বেশিরভাগই শ্রমজীবী মানুষ। এসব গ্রামের প্রতিটি পরিবারই সুন্দরবনকেন্দ্রিক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ উপজেলার ৩০টির বেশি চোরাশিকারি চক্র সুন্দরবনের হরিণ নিধন করছে।

সুন্দরবন ঘেঁষা স্থানীয় বাসিন্দা জানান, স্থানীয় পদ্ধতিতে মাংস, চামড়া, মাথাসহ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংরক্ষণ করে পাচার করে চোরাশিকারিরা। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকে এজেন্ট-ব্যবসায়ীদের। এই এজেন্টদের মাধ্যমে কখনো অগ্রিম অর্ডার, আবার কখনো মাংস এনে তারপর বিক্রি করা হয়। এই চক্রের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে যায় হরিণের মাংস।

ক্রেতারাও অনেক সময় প্রতারণা ভেবে হরিণ নিজ চোখে না দেখে মাংস কিনতে চান না। তাই চোরাশিকারিরা জীবন্ত হরিণ লোকালয়ে এনে জবাই করেন। অবৈধ জেনেও হরিণের মাংস কেনে মানুষ। ধনাঢ্য ব্যক্তিরা হরিণের মাংস দিয়ে উৎসব পালন করেন। কেউ কেউ স্বজনদের হরিণের মাংস উপহার দেন। আবার বড় ধরনের স্বার্থসিদ্ধির জন্যও কর্তা ব্যক্তিদের খুশি করতে গোপনে হরিণের মাংস সরবরাহ করা হয়। হরিণের চামড়া-শিং সৌখিন ব্যক্তিরা সংগ্রহ করে ড্রইংরুম সাজান।

১৫ জানুয়ারি রাতের অন্ধকারে সুন্দরবনের সত্যপীরের খাল এলাকায় ৩টি বস্তায় থাকা ৮০ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করে কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের বনরক্ষীরা। তবে এ সময় পালিয়ে যায় শিকারিরা। এর আগে ৭ জানুয়ারি দুপুরে মোংলার ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে ১১ কেজি হরিণের মাংসসহ ৬ জনকে আটক করে কোস্টগার্ড। তার আগে গত ৩ জানুয়ারি সকালে খুলনার কয়রা উপজেলার কালনা বাজার এলাকায় প্রায় ৩০ কেজি হরিণের মাংসসহ ইকবাল নামে এক তরুণকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় লোকজন। কয়রা থানার ওসি জি এম ইমদাদুল হক জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ইকবাল জানিয়েছেন, কয়রার সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকা থেকে মনিরুল ইসলাম নামের এক হরিণ শিকারি কাছ থেকে তিনি এ মাংস এনেছেন।

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনে বেশী দেখা মেলে হরিণের। পর্যটক, দর্শনার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাম্প্রতি সুন্দরবনে হরিণের সংখ্যা বেড়েছে। সুন্দরবনের বাঁকে বাঁকে এখন হরিণের দেখা মেলে। বনের খাল বা নদীর ধারে দলবেঁধে হরিণের চলাফেরা করছে। সুন্দরবনে মায়া ও চিত্রল নামের দুই প্রজাতির হরিণের দেখা যায়। তবে এর মধ্যে চিত্রল হরিণের সংখ্যাই বেশি।

২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসের ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর দ্য কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) জরিপের তথ্য মতে, বর্তমানে সুন্দরবনে ১ লাখ ৩৬,৬০৪টি হরিণ রয়েছে। এর আগে ২০০৪ সালে হরিণের সংখ্যা ছিল ৮৩ হাজার। সেই হিসেবে ১৯ বছরের ব্যবধানে সুন্দরবনে হরিণ বেড়েছে ৫৩,৬০৪টি।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বলেন, মূলত শুষ্ক মৌসুমে সুন্দরবনের ভেতরে খাল ও নদীতে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় হরিণের বিচরণ বেড়ে যায়। যে কারণে চোরা শিকারিরা এ সময় তৎপর হয়। তবে বিচ্ছিন্ন কিছু শিকারের ঘটনা ঘটলেও সেটা আগের চেয়ে তুলনামূলক অনেক কম। অল্প জনবল দিয়ে এত বড় বনে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হয় বনবিভাগের। তিনি আরও  বলেন,বন্য প্রাণী নিধন ও অন্যান্য অপরাধ দমনে বনরক্ষীরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। সুন্দরবনে হরিণশিকারি ও লোকালয়ে হরিণের মাংস ক্রেতা ও ইন্ধনদাতাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এদের আইনের আওতায় আনা হবে। বন্য প্রাণী হত্যা ও পাচার রোধে শিকারিদের ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। হরিণের ক্ষেত্রে বনের ভেতরে অপরাধ উদ্‌ঘাটনের তথ্য দেওয়ায় ২০ হাজার টাকা এবং বনের বাইরে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। সবার সমন্বিত চেষ্টায় বন্য প্রাণী শিকার বন্ধ হবে।





সুন্দরবন এর আরও খবর

শ্যামনগরে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সুন্দরবন দিবসের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবীতে মানববন্ধন শ্যামনগরে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সুন্দরবন দিবসের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবীতে মানববন্ধন
পাইকগাছায় সুন্দরবন দিবস পালিত পাইকগাছায় সুন্দরবন দিবস পালিত
জেলা সিভিল সার্জন আকর্শিক পরিদর্শন করলেন পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জেলা সিভিল সার্জন আকর্শিক পরিদর্শন করলেন পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
সুন্দরবন পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী বনবিবি পূজা অনুষ্ঠিত হলো সুন্দরবন পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী বনবিবি পূজা অনুষ্ঠিত হলো
পলিথিন ও প্লাস্টিক সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি পলিথিন ও প্লাস্টিক সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি
সুন্দরবনে বনদস্যুরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সুন্দরবনে বনদস্যুরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে
সুন্দরবনে হরিণ শিকারের ফাঁদে আটকা পড়া বাঘ উদ্ধার সুন্দরবনে হরিণ শিকারের ফাঁদে আটকা পড়া বাঘ উদ্ধার
প্রজনন মৌসুম সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু প্রজনন মৌসুম সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু
লোনাপানির সুন্দরবন ও উপকূলীয় বালুচরে নিচে লুকিয়ে আছে মিঠাপানির ভান্ডার লোনাপানির সুন্দরবন ও উপকূলীয় বালুচরে নিচে লুকিয়ে আছে মিঠাপানির ভান্ডার
সুন্দরবনে নিখোঁজের দুইদিন পর প্রবাসী নারী পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার সুন্দরবনে নিখোঁজের দুইদিন পর প্রবাসী নারী পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)