শুক্রবার ● ২ জানুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » সুন্দরবন » প্রজনন মৌসুম সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু
প্রজনন মৌসুম সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু
প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ায় সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। ১ জানুয়ারি হতে ২ মাসের জন্য সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ বন্ধ হচ্ছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এই দুই মাস কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম। এ সময় সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরা নিষিদ্ধ।
সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম এলাকা জুড়ে কাঁকড়া ধরা দুই মাসের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ দুই মাস সুন্দরবন থেকে কাঁকড়া আহরণ, পরিবহন করা সম্পূর্ণ নিষেধ থাকবে। তাই সুন্দরবনের দুই বিভাগের নদী-খালে কাঁকড়ার প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে দুই মাসের জন্য কাঁকড়া ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন বিভাগ। নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। চলতি এ দুই মাস শিলা কাঁকড়াসহ ১৪ প্রজাতির কাঁকড়ার প্রজনন হয় সুন্দরবনে। এই সময়ে কাঁকড়ার প্রজনন নির্বিঘ্নে করতে বন বিভাগের পণ্য থেকে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, বাংলাদেশে কাঁকড়ার চাহিদা না থাকলেও বিদেশে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে জীবন্ত কাঁকড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয়। নব্বই দশকের মাঝামাঝি প্রচলিত পণ্য হিসেবে সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, চিন, হংকং ও মালয়েশিয়ায় কাঁকড়া রফতানি শুরু হয়। তাই বিশ্বের বানিজ্যিক বাজারে কাঁকড়া চাহিদা মিটাতে এবং সুন্দরবনে কাঁকড়ার প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উদ্যোগ নেয় বন বিভাগ। প্রতিবছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এ দুই মাস সুন্দরবনের নদী-খালে থাকা কাঁকড়ার ডিম হয়। সেই ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হয় ছোট কাঁকড়া। এ সময়ে কাঁকড়া অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় থাকে। নিষিদ্ধ সময় যদি এ সময় কাঁকড়া ধরা হয় পুরো বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাই প্রতিবছরের মতো এবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ সময় কাঁকড়া ধরার অনুমতিপত্র ইস্যু বন্ধ থাকায় গভীর বনাঞ্চলে অবস্থান করা জেলেরা লোকালয়ে ফিরে এসেছেন।
বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী সুন্দরবনের সম্পদ আহরণের জন্য সুন্দরবন বন পূর্ব বিভাগ ও পশ্চিম বিভাগে ১২ হাজার নৌকার অনুমতিপত্র দেওয়া হয়, যার এক-তৃতীয়াংশ কাঁকড়া ধরার জন্য বরাদ্দ। প্রজনন মৌসুমে কাঁকড়া ধরার অনুমতি বন্ধ থাকবে। কিন্তু এই সময় মাছ ধরার উপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এই পদক্ষেপ কাঁকড়ার প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহায়ক হবে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।
সুন্দরবন বন বিভাগের পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে কাঁকড়া ডিম পাড়ে। ডিমওয়ালা কাঁকড়ারা ক্ষুধার্ত থাকে, তাই সহজে ধরা যায়। এ সময় শিকার না করলে পরের বছর বেশি কাঁকড়া উৎপাদন করা সম্ভব। অসাধু কাঁকড় শিকারীদের ধরতে আমরা টহল জোরদার করেছি। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে বন আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় জনগণ, জেলে ও ব্যবসায়ীদের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে বন বিভাগের পক্ষ থেকে।






লোনাপানির সুন্দরবন ও উপকূলীয় বালুচরে নিচে লুকিয়ে আছে মিঠাপানির ভান্ডার
পলিথিন ও প্লাস্টিক সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি
সুন্দরবনে নিখোঁজের দুইদিন পর প্রবাসী নারী পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার
সুন্দরবনে রাস পূজায় আটক ৩২ হরিণ শিকারিকে কারাগারে প্রেরণ
পাইকগাছায় প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ প্রতিরোধে বনজীবিদের দক্ষতা ও উন্নয়ন কর্মশালা
সুন্দরবনের দুবলার চরে রাস উৎসব ৩ নভেম্বর থেকে শুরু
শুঁটকি মৌসুমে দুবলারচরে জেলেদের উৎসব
সুন্দরবনে শামুক নিধনে হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য
পূর্ব সুন্দরবনে তিন মাসে ১৪৮ জেলে আটক, ফাঁদসহ ২৪২ টি ট্রলার ও নৌকা জব্দ 